প্যারিসের ঐতিহাসিক রিপাবলিক চত্বরে  বোংলাদেশীদের সমাবেশ : খালেদা জিয়াকে মাদার অব ডেমোক্রেসী  ঘোষণা

নুরুল ওয়াহিদ, প্যারিস থেকে : ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক রিপাবলিক চত্বরে খালেদা জিয়াকে মাদার অব ডেমোক্রেসী উপাধি দেয়া হয়েছে। ফ্রান্স বিএনপি ও সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় ফ্রান্স প্রবাসী প্রায় সহস্ত্রাধিক বিএনপি সমর্থক ও বিশ দলের নেতা কর্মীরা ব্যানার,  ফেস্টুন হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।

গত ১ ফেব্রুয়ারী রোববার বিকাল ৩ টায় নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল দলের অংশ গ্রহণের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, সকল রাজবন্দীদের মুক্তি এবং দেশব্যাপী রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদে এ মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ফ্রান্স বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম এ তাহেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে এ সময় বক্তারা বলেন,দেশ এখন গণতন্ত্রের পরিবর্তে শেখ হাসিনার মনোতন্ত্র Parisএবং ইচ্ছাতন্ত্রে প্রবেশ করেছে। ইচ্ছামত গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে দলীয়করণকৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এবং দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। তারা বলেন, জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে কলুষিত করার কুমানসে সরকারি এজেন্টদের মাধ্যমে পেট্রোল বোমা হামলার মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে তার দায়-দায়িত্ব বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ওপর দোষ চাপানোর ঘৃণ্য কৌশল অবলম্বন করছে এই অবৈধ সরকার। অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটকে আওয়ামী প্রচার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। বস্তুতপক্ষে এটাই ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী অপরাজনীতির পুরনো সংস্কৃতি।

বক্তারা বলেন, বর্তমান অবৈধ আওয়ামীলীগ সরকার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যার্থ হয়ে এখন শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করছে। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নির্বাচন না দিলে বর্তমান সরকার জনগণের কাছ থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। সমাবেশে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়াকে মাদার অব ডেমোক্রেসী উপাধিতে ভূষিত করেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের বিদ্যুত, গ্যাস, পানির লাইন, ও ইন্টারনেট, ডিশ লাইনের সংযোগ সমূহ কেটে দেয়ার শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা করেন।

Paris2প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, ফ্রান্স বিএনপির উপদেষ্ঠা মিয়া সিরাজুল ইসলাম, ফ্রান্স বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি হাজী হাবিব, মিজানুর রহমান শিকদার, শাহেদ আলী, এম এ রহিম, মমতাজ আলো, হেনু মিয়া, শাহজামাল, মনির হোসেন খান, সানোয়ার হোসেন খান, শাহ জামাল এম এ রশিদ পাটোয়ারী, প্রফেসর তসলিম উদ্দিন,বজলুর রশিদ চৌধুরী, ফ্রান্স বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেন পাঠয়ারী, গোলাম আবেদিন কাওছার, রেজাউল করিম,জুনেদ আহমদ,আরিফ হাসান,সাংগঠনিক সম্পাদক, হাজী জালাল খান,মানবাধীকার কর্মী আল আমীন,গোলাম ফারুক ভূইয়া, নজরুল ইসলাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন, মারুফ হোসেন মুন্না, ফজলুর করিম শামিম,দপ্তর সম্পাদক, মাসুদুর রহমান মাসুদ, অর্থ সম্পাদক,সাইফুল ইসলাম,মানবাধিকার সম্পাদক,ইব্রাহিম তারা, শিক্ষা সম্পাদক আহমেদ মালেক,ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, সাহিত্য সম্পাদক কবি রুবেল আহমদ ,শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহিনুল ইসলাম, শিল্প বিষয়ক সপাদক তসলিম খান সবুজ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শিপার সহ ফ্রান্স বিএনপির বিভিন্ন নেতা কর্মীরা।

বিকাল ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় নেতা কর্মীরা বিভিন্ন ভাষায় প্লাকার্ড প্রদর্শন ও বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি এবং জুলুম নির্যাতনের বর্ণনা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন মানব বন্ধনে ও প্রতিবাদ সমাবেশ দেখা যায়।

You Might Also Like