সৌদি আরবে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আইএস

ইসলামিক স্টেট বা আইএস মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে সম্পদশালী দেশ সৌদি আরবে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা এমনটাই মনে করছেন।
তারা মনে করছেন, তেল সমৃদ্ধ সৌদি আরবকে টার্গেট করে আইএস দেশটির বেশ কিছু নাগরিককে তাদের দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে। এমন সময় এ আশঙ্কা করা হচ্ছে যখন সৌদি আরবে চলছে ক্ষমতা হস্তান্তর। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ এ খবর দিয়েছে।
আইএস যোদ্ধাদের কার্যক্রম নিয়ে গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান দ্য সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেররিস্ট এন্টিটিস (এসআইটিই)-এর বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, আইএসের একটি অংশ সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যাতে সৌদি আরবে হামলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে বিদ্রোহী এ সংগঠনটি।
সিরিয়া ও ইরাকের আইএস যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া সৌদি যোদ্ধারা ওই ভিডিওটি প্রকাশ করেছে। সেইসঙ্গে সৌদি আরবের ভেতরে তাদের (আইএস) যে শুভাকাঙ্কী রয়েছেন তাদের প্রতি হামলায় অংশ নেওয়ার আহবান জানানো হয়েছে ওই ভিডিওতে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আইএসের এই ভয়াবহ হুমকি থেকে মনে হচ্ছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের এই সম্পদশালী দেশটিতেও তাদের থাবা বিস্তার করতে চাচ্ছে। কারণ ঐতিহ্যগতভাবেই সৌদি আরব (মক্কা ও মদিনা) মুসলিম বিশ্বের পবিত্র শহর।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজের রিসার্চ ফেলো এবং ‘দ্য আদার সৌদিজ’ গ্রন্থের লেখক টবি ম্যাথিসেন বলেছেন, ‘ইসলামিক স্টেট মক্কা ও মদিনার দখল নিতে পারে এটি চিন্তা করা খুব কঠিন বিষয় নয়। এমনকি জেরুজালেম কিংবা অন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানও হতে পারে, যদিও তাদের লক্ষ্য খেলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা।’
ইরাক ও সিরিয়ার বেশ কিছু এলাকার দখল নিয়েছে আইএস। সৌদি আরবের অনেক যোদ্ধা এখন তাদের দলে যোগ দিয়েছে। এর আগেও সংগঠনটি সৌদি আরবে হামলার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন ম্যাগাজিন নিউজউইক সৌদিবিরোধী এক জনপ্রিয় ব্যক্তির (নাম উল্লেখ করা হয়নি) ট্যুইটার পোস্টের বরাত দিয়ে বলেছে, বিদ্রোহীদের একটি ছোট্ট গ্রুপ চলতি সপ্তাহে গভীর রাতে সৌদি সীমান্তে হামলা চালায়। এমনকি তারা সীমান্তবর্তী রাফা শহরে প্রবেশ করে। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, সৌদি আরব ও বিদ্রোহীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস দমন নিয়ে গবেষণাকারী (থিংক ট্যাংক) লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কুইলিয়ামের গবেষক চার্লি উইনটার এ ব্যাপারে বলেন, ‘তারা (আইএস) সব সময় হিংস্র। কিন্তু আমি সে ধরনের সম্ভাবনা এর আগে দেখিনি।’
প্রসঙ্গত, ইরাকের সঙ্গে সীমান্ত থাকা এবং দক্ষিণ ইয়েমেনে নৈরাজ্যের কারণে অনেকটা ঝুঁকিতে রয়েছে সৌদি আরব। কারণ ইয়েমেনের বিদ্রোহী গ্রুপগুলো বেশ সংগঠিত। এমনকি সম্প্রতি তারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তার ওপর গত ২৩ জানুয়ারি মারা গেছেন সৌদি আরবের বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ।
এরপর নতুন বাদশা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সদ্য প্রয়াত বাদশার সৎ ভাই সালমান বিন আব্দুল আজিজ। তারও বয়স ৭৯ এবং তিনিও একজন অসুস্থ ব্যক্তি (অপারেশন করা হয়েছে)। এসব কারণে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরব অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সৌদিবিষয়ক সাবেক দূত জিম বি. স্মিথ এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘এটি (পূর্ববর্তী হামলার কথা) অত্যন্ত সুচারূপে করা হয়েছে। সত্যিকার অর্থে সৌদি আরবের অবস্থা স্থিতিশীল এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে সেখানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতার সম্ভাবনা নেই।’
উল্লেখ্য, সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আঞ্চলিক মিত্র। সম্প্রতি মার্কিন আহবানে সাড়া দিয়ে দেশটি আইএসের ওপর বিমান হামলায় অংশ নিচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্ক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, সম্প্রতি ওবামা তার ভারত সফর সংক্ষিপ্ত করে রিয়াদে যান প্রয়াত বাদশাকে শ্রদ্ধা এবং নতুন বাদশাকে স্বাগত জানাতে।
স্কলারদের প্রতিষ্ঠান উইড্র উইলসন সেন্টারের ভাইস-প্রেসিডেন্ট অ্যারন ডেভিড মিলার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে লিখেছেন, ‘সন্ত্রাসী হুমকির একটিই লক্ষ্য, সেটা হলো-তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ। বিশেষ করে সেটা যখন মার্কিন স্বার্থের কারণ। তিনি বলেন, আরব উপদ্বীপে ইসলামিক স্টেটের উত্থান, আলকায়েদার পুনরুত্থান এবং ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরাকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য হয়ে উঠা এটাই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের এখন স্থানীয় মিত্র দরকার।’
ম্যাথিসেন ও স্মিথ উভয়ই বলেন, ইসলামিক বিদ্রোহীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে পৌঁছেছে এবং সৌদি আরবের দিকে অগ্রসর হচ্ছে সেইসঙ্গে তাদের রয়েছে নিজস্ব বিমানবাহিনী ও সামরিকবাহিনী। কিন্তু তারপরও তারা যদি সৌদি আরবে নেতৃত্বের হস্তান্তরকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে তাহলে সেটা হবে তাদের জন্য বিরাট ভুল। স্মিথ বলেন, তিনি মনে করেন, সৌদি আরব আক্রান্ত হলে তার যথাযথ জবাব দেওযার প্রস্তুতি তাদের রয়ছে।

You Might Also Like