অপরাধ না করেই ১২ বছরের জেল

শুধু নামের মিল থাকার জন্য একটা খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে বারো বছর বিনা অপরাধে জেল খাটছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এক ব্যক্তি। কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার দিলীপ তরফদার নামে ওই ব্যক্তিকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।

২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় খুন হন সুখদেব মন্ডল। মাস খানেক পরে দিলীপ তরফদার সহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আদালত বলছে, আসল অভিযুক্তের নাম ছিল দিলীপ মন্ডল, কিন্তু ভুলবশত: তার বদলে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল দিলীপ তরফদারকে।

নিম্ন আদালতও এই নামের ভুল খতিয়ে না দেখেই যাবজ্জীবনের কারাদন্ডের সাজা দিয়ে দেয় তাঁকে।

মি.তরফদারের আইনজীবী সুবীর দেবনাথ বিবিসি বাংলাকে বলেন,“নদীয়ার আদালতে দাঁড়িয়ে একজন সাক্ষী জানিয়েছিলেন যে দিলীপ তরফদার নন, দিলীপ মন্ডল ওই খুনে অভিযুক্ত। তা সত্ত্বেও না কোর্ট না পুলিশ সেই দিলীপ মন্ডলকে হাজির করায়নি। এছাড়াও নিহতের দাদারও গুলি লেগেছিল, কিন্ত বেঁচে আছেন – তিনিই তো সবথেকে বড় সাক্ষী। তাঁকেও আদালতে হাজির করানো হয়নি।“

মি.দেবনাথ আরও জানিয়েছেন, নিহত সুখদেব মন্ডল যখন গুলিবিদ্ধ হয়েই মারা গিয়েছিলেন, তখন পুলিশ তো সেই রক্ত মাখা জামা কোর্টে প্রমাণ হিসাবে দাখিল করবে। সেটাও যেমন করা হয়নি, তেমনই মৃতদেহ কাদার মধ্যে পড়ে ছিল বলে কয়েকজন সাক্ষী জানালেও ময়নাতদন্তের সময়ে শরীরে কোনও কাদার দাগ পাওয়া যায়নি।

এতগুলো বড় অসঙ্গতি থেকে গেছে তদন্ত আর বিচার প্রক্রিয়াতে– তাই নিরপরাধ দিলীপ তরফদারকে এতগুলো বছর জেল খাটতে হল বলে মন্তব্য আইনজীবী সুবীর দেবনাথের।

মি.তরফদারের পরিবার চাইছে বিনা দোষে এতগুলো বছর জেলে রাখার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে।

জেলা পুলিশ হাইকোর্টের রায় হাতে না পেয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

কলকাতা হাইকোর্টের কয়েকজন আইনজীবী বলছেন শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা ভারতেই পুলিশী তদন্ত আর নিম্ন আদালতগুলোতে যেভাবে বিচারপ্রক্রিয়া চলে, তাতে এ ধরনের মারাত্মক ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আইনজীবীদের মতে পুলিশের হাতে এত মামলা থাকে যে সঠিকভাবে সময়মতো তদন্ত শেষ করা কঠিন হয়ে যায়। একইভাবে নিম্ন আদালতগুলোতেও জমে থাকা মামলার বিশাল সংখ্যার কারণে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া যায় সম্ভব হয় না।

এ জন্যই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পুলিশ রিফর্মস কমিশন উপদেশ দিয়েছে যে তদন্ত বিভাগ আর আইনশৃঙ্খলা বিভাগ আলাদা করা হোক।

কিন্তু এগুলো দিলীপ তরফদারের কাছে শুধুই যুক্তি – বিনা অপরাধে তাঁর জীবন থেকে যে ১২টা বছর চলে গেল, সেটা তো আর কেউ ফেরত দিতে পারবে না।

You Might Also Like