আগামীতে ২০০ আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়: খন্দকার মোশাররফ

আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ২০০ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আজ শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর শহরের আদমপুর প্রামাণিকপাড়া-সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ১৫৩ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। বর্তমান সরকার দেশে যে উন্নয়নমূলক কাজ করছে এবং বিএনপির ভ্রান্তনীতির কারণে আগামীতে দেশে বিএনপির কোন অস্তিত্বই থাকবে না। তখন আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কাউকে পাওয়া যাবে না। আগামী সংসদ নির্বাচনে আমরা ২০০ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হব।’
খালেদা জিয়াকে তাঁর রাজনীতির কৌশল পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘অবরোধ কোনো কাজে লাগছে না। জনজীবন স্বাভাবিক রয়েছে। ২৭ দিনের অবরোধে দেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। বিএনপি রাজনীতির কৌশল না পাল্টালে হয়তো দেখা যাবে আগামীতে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই নেই।’
ফরিদপুর বিভাগ ঘোষণার বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কাজে বিশ্বাসী, আগাম কিছু বলতে চাই না, কাজ করেই দেখাতে চাই। আমি বিভাগ করা নিয়ে আগাম কোনো আশ্বাসও দেইনি, তবুও পর্যায়ক্রমে ফরিদপুর বিভাগ হচ্ছে।’ মন্ত্রী বলেন, ১৫ দিনের মধ্যে ৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কুমার নদ খননকাজ শুরু হবে। ফরিদপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। এ ছাড়া ফরিদপুরে একটি ইপিজেড নির্মাণের জায়গা অধিগ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট চিঠি এসেছে।
কুমার নদের ওপর নবনির্মিত একটি সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে এ জনসভার আয়োজন করে ফরিদপুর পৌর আওয়ামী লীগের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ। ২১ লাখ ৭০ হাজার ১৭৫ টাকা খরচ করে এ সেতুটি নির্মাণ করেছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জলিল শেখের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক সরদার সরাফত আলী ও পুলিশ সুপার জামাল হাসান।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘যারা পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে, নাশকতা করে, প্রয়োজন হলে গুলি ছুড়বেন, আমার কাছ থেকে আগাম অনুমতি নিয়ে রাখবেন।’
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ-বিষয়ক সম্পাদক মোকাররম মিয়া, জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আক্কাস হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশে ফরিদপুরের ঠিকাদার নাসির খান, বরকত হোসেন মণ্ডল, জাহাঙ্গীর খান ও রনি মিয়া মন্ত্রীর হাতে ফুল তুলে দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

You Might Also Like