অবরোধ না তুললে খালেদার কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-গ্যাস বন্ধ: শাজাহান খান

আগামী ২ ফেব্র“য়ারির মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সময় বেঁধে দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক ও নৌমন্ত্রী শাজাহান খান। এ সময়ের মধ্যে অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের হুমকি দেন তিনি।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার বিকেলে এক মহাসমাবেশে তিনি এ আল্টিমেটাম দেন।
হরতাল অবরোধে ‘জ্বালাও-পোড়াও-শ্রমিক ও নিরীহ মানুষ হত্যা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, শিল্প কারখানা ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াও’- এ আহ্বানে ওই সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ।
আল্টিমেটাম দিয়ে খালেদা জিয়ার উদ্দেশে নৌমন্ত্রী বলেন, ২রা ফেব্র“য়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এর মধ্যে যদি আপনি অবরোধ তুলে না নেন তবে আপনার গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হবে। যে গাড়িতে করে আপনার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া হয় তাও নিতে দেওয়া হবে না। পোড়া গাড়ি নিয়ে আপনার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।
খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন রেখে শাজাহান খান বলেন, আর কত মায়ের বুক খালি করবেন। কত শিশুকে আপনি হত্যা করেবেন। আপনার মনে এতটুকু মায়া থাকলে এ সহিংসতা বন্ধ করুন। না হলে এই আগুনে একদিন আপনাকেই পুড়তে হবে।
খালেদা জিয়ার ধ্বংস হতে আর বেশি দেরি নেই বলেও উল্লেখ করেন নৌমন্ত্রী। সেই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
২০ দলীয় জোট মানুষকে বিষ খাওয়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্র উদ্ধারের নামে তারা মানুষ মারছে। এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ।
মহাসমাবেশে চলচ্চিত্র পরিচালক কাজী হায়াৎ বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষ পোড়াচ্ছে। তিনি (খালেদা জিয়া) তো দুই বার ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু মানুষের জন্য কি করেছেন?
বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ৪৫ বছর পরে তারা জাতির পিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এর সুরাহা করতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদ খান বলেন, ২০ দলীয় জোটের নৈরাজ্য প্রতিহত করতে আমাদের মাঠে থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই সরকারকে আমাদের ধরে রাখতে হবে। আর যেন বাংলাদেশে কোনো রাজাকারের গাড়িতে জাতীয় পতাকা না ওঠে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নারী নেত্রী শিরিন আক্তার, ইসমত কাদের গামা, ঢাকা বিভাগ শ্রমিক লীগের সভাপতি নূরুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা তাজুল ইসলাম, আবুল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবাহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কার্যনির্বাহী সদস্য এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ প্রমুখ।
সমাবেশে যে সকল সংগঠন অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, ধানমন্ডি ব্যবসায়ী সমিতি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট দর্জি শ্রমিক ফেডারেশন, ডিপিডিসি শ্রমিক লীগ, ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ শ্রমিক লীগ, ঢাকা বিভাগ শ্রমিক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক জোট।

You Might Also Like