অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে দাঁড়িয়েছে : আনু মুহাম্মদ

মানিক মুনতাসির : রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশের সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থমকে আছে বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তার মতে কৃষি, শিল্প ও কল কারখানায় উৎপাদন হচ্ছে কিন্তু উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না উৎপাদকরা। নির্বিঘ্নে যান চলাচল করতে না পারায় পথে পথে পণ্য আটকে থাকছে। বন্দরে বন্দরে পণ্যবাহী কনটেইনারের জট সৃষ্টি হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষের কোনো কাজ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সামষ্টিক অর্থনীতি অচল হয়ে পড়বে। চলতি বাজেটের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। কেননা ইতিমধ্যে সরকারের রাজস্ব আদায় ও বাজেট বাস্তবায়নে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবহন খাত। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, মালিক, যাত্রী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত ও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সেই সঙ্গে অন্য সেবা খাতগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর নিরাপদ যাত্রা না থাকায় দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। ফলে পর্যটন খাতও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, চলমান সংকট সমাধানের জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলে মনে হয় সরকার চলমান সমস্যার সমাধান চায় না। সরকার কথায় কথায় বিএনপি নেতাদের উসকানি দিচ্ছে। দেশব্যাপী যেভাবে গণগ্রেফতার আর গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে তাতে মনে হচ্ছে দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও রাজনীতির খেলায় মেতেছেন। তারা যে ভাষায় কথা বলছেন মনে হয় তারা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছেন। সরকারের কোনো কর্মকাণ্ডেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আনু মুহাম্মদ মনে করেন, সংকট দীর্ঘায়িত হলে কিংবা রাজনৈতিক সহিংসতায় সরকার বা বিরোধী দল কারোরই কিছু ক্ষতি হয় না। ক্ষতি হয় জনসাধারণের। জনগণ কাজকর্ম করতে পারছে না। সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে কর্মজীবী মানুষ। অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমজীবী মানুষ। চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে সরকারের কোনো উদ্যোগই চোখে পড়ে না। মনে হচ্ছে সরকার এর সমাধান চায় না। আর মন্ত্রীরা তো বিএনপিকে সহিংসতা করতে রীতিমতো উসকে দিচ্ছেন। সরকার মনে করে বিএনপি সহিংসতা করলে তাদেরই জনসমর্থন কমে আসবে। মানুষ তাদের ঘৃণা করবে। আর সেই সুযোগে সরকার অনন্তকাল ক্ষমতায় থাকবে। এর পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হলে পেশাজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। অথচ রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে প্রতিদিন অনেক নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ রাজনীতির বলি হচ্ছেন। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রাণ হারাচ্ছেন। কারা সহিংসতা করছে আর কাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে, এ নিয়ে কেউ কোনো স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করছে না। আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সঙ্গে দুষ্কৃতকারীদের প্রতিদিন ক্রসফায়ার হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চলমান অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে সরকার বলছে এ কর্মসূচি কেউ সমর্থন করছে না। অন্যদিকে সরকার বলছে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। আবার বলা হচ্ছে অবরোধ বা হরতালের কারণে কারও কোনো ক্ষতি হলে সরকার তার ক্ষতিপূরণ দেবে। কিন্তু কেউ কি ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে? আমার মনে হয় কেউই ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না। সরকার আসলে জনগণকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবরোধ কর্মসূচি ভঙ্গের জন্য উৎসাহ দিচ্ছে যাতে জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে আসে। অথচ এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আলোচনা এবং সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি। (বাংলাদেশ প্রতিদিন)

You Might Also Like