বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ সরকার: এইচআরডব্লিউ

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটসস ওয়াচ ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবাধিকারের চূড়ান্ত অবনতির সঙ্গে সঙ্গে অধিকার সংরক্ষণে সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে হত্যা, অপহরণ, উদ্দেশ্যমূলক পুলিশী হয়রানিসহ নানাবিধ উপায়ে লঙ্ঘিত হয়ে চলেছে মানবাধিকার। তা দমনসহ নাগরিক হয়রানি দূরীকরণে সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভীষণভাবে ব্যর্থ হয়ে চলেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধী জোটের উপর্যুপরি সহিংস ভূমিকার কথা যা দেশের অর্থনীতিতে ধস নামিয়েছে। বলা হয়েছে, উপযুক্ত তথ্য ও প্রমাণ থাকার পরও নির্বাচনকালীন সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনেনি সরকার, উপরন্তু বিচারের আওতার বাইরে থেকে গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ। তবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বেশ কিছু সদস্যের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে, যারা বিগত বছরের মে মাসে স্থানীয় এক রাজনীতিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বেশ কিছু পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অংশের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, র‌্যাব সদস্যদের বিচারের আওতায় আনাটা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। কিন্তু চিহ্নিত রাজনৈতিক দল বা পরিবারের ক্ষেত্রেই শুধু নয়, নয় শুধুমাত্র নির্বাচিত কিছু ইস্যুতে, বরং সর্বোতভাবে যেন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় সেদিকেই বাংলাদেশ সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে।

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়া আরও যে সব ইস্যু উঠে এসেছে তাদের মধ্যে বাল্যবিবাহের উর্ধ্বগামীতা এবং মায়ানমার থেকে বিতাড়িত বাংলাদেশে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গা ইস্যু অন্যতম। বলা হচ্ছে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের অনুপাত আবারও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এবং মায়ানমার বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের পুনরায় জোরপূর্বক মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ, তাতে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছে প্রতিষ্ঠানটি। আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের একটি নিয়মিত অভিযোগ হচ্ছে, বাংলাদেশস্থ রোহিঙ্গা শিবিরে প্রতিষ্ঠানটির মানবাধিকার কর্মীদের প্রবেশ করাটা কঠিন।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও উত্থাপিত হয়েছে ‘দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতা’, ‘গণমাধ্যমের ওপর অগ্রহণযোগ্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ’, ‘বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশে অনৈতিক হস্তক্ষেপ’ এবং ‘রানা প্লাজাসহ ক্ষতিগ্রস্ত গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ার’ প্রসঙ্গ।

You Might Also Like