কুতুবদিয়ায় ট্রলারডুবি: এখনো নিখোঁজ অর্ধশত, ট্রলার উদ্ধার

কক্সবাজার সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলের খোদাইবাড়িতে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশত যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন।
নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ ও স্থানীয় জেলেরা যৌথ অভিযান চালিয়ে ৪২ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে আহত ১৬ জনকে কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতাল, কুতুবদিয়া উপজেলা ও মহেশখালী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুরুতর আহত শহিদুল ইসলাম, ফয়েজ ও শিমুল নামে ৩ যাত্রীকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুই দালাল মহেশখালীর তৈয়ব ও “িারকে গ্রেফতার করেছে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি দুপুর ১২টায় মহেশখালীর দলঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় ট্রলারে থাকা কয়েকজন যাত্রী নিরাপদে বসাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায় বলে জানিয়েছেন ট্রলারে থাকা আহত যাত্রী মো. আলমগীর হোসেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টায় এসব যাত্রীদের চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট থেকে এফভি ইদ্রিস নামের একটি ট্রলারে তুলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয় বলে জানান আহত যাত্রীরা।
দুর্ঘটনাকবলিত এফভি ইদ্রিস থেকে উদ্ধার হওয়া মালয়েশিয়াগামী যাত্রীরা হলেন- যশোরের চৌগাচা ও মনিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. নাজিম, সাত্তার হোসেন, খোকন দে, সিরাজুল ইসলাম, সবুজ হোসেন, ইয়াছিন হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আইয়ুব হোসেন, আলমগীর হোসেন, মো. ফয়েজ, সাইফুল ইসলাম, জিন্নাহ ও মো. শিমুল হোসেন; নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের কলাকাটিয়া, হাজিরটেক, লাকপুরার বাসিন্দা আবুল কালাম, শাহাদাত হোসেন, মো. শফিক, মো. শরিফ সিকদার ও মো. কাউছার; কক্সবাজার সদরের বাসিন্দা মো. ইয়াছিন হোসেন, আবু তৈয়ব ইসমাঈল হোসেন, ওবাইদুল হক ও নুর মোহাম্মদ; নরসিংদী সদরের বাসিন্দা গোলাপ মিয়া, সবুজ, ওয়াহিদ, রফিক, আল আমিন হোসেন, ইউসুফ হোসেন, শাহজাহান মিয়া, মোশাররফ হোসেন; বগুড়ার শিবচরের রুবেল হোসেন; মাদারীপুরের শিবচরের বাসিন্দা ইব্রাহিম হোসেন, নুরুজ্জামান, উজ্জ্বল মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, দুললাল হোসেন ও নেয়ামত শেখ; নওগাঁর আজহারুল ইসলাম; সিলেটের শাহ আলম ও ইব্রাহিম প্রমুখ।
কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অংসা তোয়াই বলেন, কুতুবদিয়া চ্যানেলের বিভিন্ন স্থান থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৪২ যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া হাসপতাালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে চট্টগ্রাম থেকে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ তানভীর ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালাচ্ছে। একই সাথে কোস্টগার্ডের একাধিক হাইস্পিড বোট, মেটাল শার্কও কুতুবদিয়া চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনসংযোগ কর্মকর্তা লে. কমান্ডার রাজিবুল ইসলাম।
কোস্টগার্ড কুতুবদিয়া জোন অফিসার তারেক জানান, উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার, কোস্টগার্ডের প্রায় ২০টি বিভিন্ন ধরণের বোর্ট অংশ নিয়েছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।
কুতুবদিয়া হাসপাতালে ভর্তি যশোরের যাত্রী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘৩ দিন আগে যশোরের সাজিব দালাল তার ঢাকার কমলাপুরের আস্তানা থেকে আমাদের চট্টগ্রামে পাঠায়। স্টেশন রোডের হোটেল গোল্ডেনে ৩ দিন অবস্থান করার পর ৮০ জন মানুষকে মাঝিরঘাট নিয়ে যায়। বুধবার রাত ১০টায় একটি ট্রলারে তোলার পর ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। সারা রাত ট্রলারটি চলার পর ভোর ৫টার দিকে ট্রলারে বসা নিয়ে কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর তারা হাতাহাতি শুরু করলে ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়।’

You Might Also Like