রাজনৈতিক কারণে কোকোর মৃত্যু হয়েছে : সাদেক হোসেন খোকা

নিউইয়র্কে গায়েবানা জানাজা শেষে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেছেন রাজনৈতিক কারণে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে অনুষ্ঠিত কোকোর গায়েবানা জানাযা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে এই অভিযোগ করে বলেন, কোকোর অকাল মৃত্যুশোক শক্তিতে রূপান্তর করে সরকারের পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সাদেক হোসেন খোকা বলেন, একজন মা হিসাবে খালেদা জিয়া তার ছেলের মৃত্যুকালে এবং রোগাক্রান্ত সময়ে কাছে পাননি। এমনকি কোকো সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সরকার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়ার খবরে কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং যার ফলশ্রুতিতে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তিনি  আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করে বলেছেন “স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অকালে ঝরে গেল কোকোর প্রাণ। এ মৃত্যুর দায় সরকার কখনো এড়াতে পারবে না।”

bdpic+of+janaja-1সাদেক হোসেন খোকা আরো বলেন, “রাজনীতির ধারেকাছেও ছিলেন না কোকো। তবুও সরকারের বহুমুখী ষড়যন্ত্রের মুখে ছিলেন। এমনি অবস্থায় তার মায়ের ওপর সরকারের অকথ্য আচরণে কোকো এতটাই ভেঙে পড়েন যে,এক পর্যায়ে তিনি মৃত্যুর কোলেই ঢলে পড়লেন।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ওসমান ফারুক বলেন,“অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করে লাভ নেই। বর্তমান সংকট নিয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা করতে হবে।”

বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্যে আন্দোলন করছে- এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “প্রকৃত সত্য হচ্ছে, বিএনপি কখনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেনি।”

এদিকে একই দিনে সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্টে কোকোর স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে এক শোকসভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এম এ বাতিন, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রদলের সভাপতি আতাউর রহমান আতা।

জানাযা শেষে ড. ওসমান ফারুক বলেন,রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অত্যন্ত ছোটখাট বিষয় নিয়ে তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোকে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে। সেই নির্বাসনে থাকা অবস্থায় আরাফাত রহমান কোকোকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় বাংলাদেশে আর কিছুই হতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা আব্দুল লতিফ সম্রাট, ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, জিল্লুর রহমান জিল্লু, মো. গিয়াস উদ্দিন, গিয়াস আহমেদ, জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া,শরাফত হোসেন বাবু,আকতার হোসেন বাদল,যুবদল নেতা এম এ বাতিন, আবু সাঈদ আহমেদ,আতিকুল হক আহাদ,ছাত্রদল নেতা আতাউর রহমান আতাসহ স্থানীয় বিএনপির উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক কোকোর জানাযায় শরীক হন। জানাযায় ইমামতি করেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান।  মোনাজাত পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট।  মোনাজাতে কোকোর আত্মার মাগফেরাত এবং খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।

এদিকে কোকোর মৃত্যুতে রোববার লন্ডনেও গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি,যাতে অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কোকোর বড় ভাই তারেক রহমান।

 

You Might Also Like