আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা

কুটনীতিক কোরের ডীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত শাহের মোহাম্মদ, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনসহ বিভিন্ন দেশের কুটনীতিকরা গুলশানের কার্যালয়ে গিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করে আরাফাত রহমান কোকোর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বিকাল ৪টা ০৫ মিনিটে প্রথমে আসেন যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন। কার্যালয়ে নিচ তলায় কালো কাপড় দিয়ে আচ্ছাদন করে একটি টেবিলে আরাফাত রহমান কোকোর ছবি সম্বলিত আলোকচিত্র রাখা ছিলো। বৃটিশ হাইকমিশনার সেখানে গিয়ে শোকবইতে স্বাক্ষর করেন। কুটনীতিকদের অভ্যর্থনা জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাসির, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ,   মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, নির্বাহী কমিটির সদস্য শ্যামা ওবায়েদ, জেবা রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ডেপুটি চীফ অব মিশন ডেবিড মিলস গুলশানের কার্যালয়ে এসে শোকবইতে সই করেন। এছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার নিকোলাইয়েভ, মিশরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজজাত, চীনের চার্জ দ্য এফেয়ার্স কিউ জ গোয়ায় ঝু, আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন দারকো জরদানোভ, কাতারের চার্চ দ্য এফেয়ার্স মোহাম্মদ আল তায়েবী, ভারতের ডেপুটি হাই কমিশনার সন্দ্বীপ চক্রবর্তীসহ সৌদি আবর, সিঙ্গাপুর ও পাকিস্তানের কুটনীতিকরা শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।

এছাড়া ভারত, সুইডেন, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে বিএনপি কার্যালয়ে শোকবার্তা প্রেরণ করা হয়। এর আগে দুপুরে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ  কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, নাগরিক ঐকের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান মান্না, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা নুর ইসলাম কাশেমী, সাবেক সাংসদ ফজলুল আজিম, উন্নয়ন কর্মী ফরহাদ মজহার প্রমূখ নেতারা গুলশানের কার্যালয়ে এসে শোকাগ্রস্থ বেগম জিয়ার খোঁজ-খবর নেন। কার্যালয় ভেতরে গেলে তাদের বিএনপি চেয়ারপারসনের অবস্থা জানানো হয়।

অধ্যাপক বি চৌধুরী পরে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘‘ বেগম জিয়া শোকাগ্রস্থ বলে তিনি ঘুমিয়ে আছেন। সেজন্য তার সঙ্গে দেখা করা যায়নি। তবে আমি চিকিৎসক হিসেবে মনে করি, এই শোকের সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার এখন পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন। তাহলে তিনি শোক কাটিয়ে উঠতে পারবেন। প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে ভীষন স্নেহ করার কথা উল্লেখ করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের পক্ষে একটি শোকবার্তা নিয়ে আসেন তার ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এজাজুল রসুল।

এদিকে সর্বসাধারণের জন্য কার্যালয়ের বাইরে একটি শোকবই খোলা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীরা দুপুর থেকে লাইন ধরে এই শোকবইতে তাদের অনুভুতির কথা প্রকাশ করে। কার্যালয়ের নিচতলায় আরেকটি কক্ষে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দিনভর কোরআন তেলোয়াত করে।সন্ধ্যায় গুলশান কার্যালয়ে উলামা দলের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

শনিবার দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৪৫ বছর।

You Might Also Like