ওয়ান টাইম গেম!

পাকিস্তানী জামানার রাজনীতি সম্পর্কে আমার যতটুকু জ্ঞান ধারনা তার অধিকাংশই বই পুস্তক পড়ে বা ময় মুরুব্বীর মুখ থেকে শুনে। বয়স কম ছিল চোখের সামনে অনেক কিছুই দেখলেও বুঝতাম কম, তাছাড়া রাজনীতির ব্যপারে আগ্রহও অনুভব করতাম কম। লেখালেখি নাটক থিয়েটার গান বাজনায় ব্যস্ত থাকতাম, ওসবে মন দেয়ার সময়ও পেতাম কম। রাজনীতির ভাষায় ষাটের দশক হচ্ছে আইয়ুব খানের স্বৈর শাসনের যুগ। তো সেই স্বৈরযুগেও দেখতাম রাজনৈতিক কর্মকান্ড মানে মিটিং মিছিল জনসভা। আন্দোলন মানে ধর্মঘট হরতাল। হরতালের সমর্থনে মিছিল হতো মিটিং হতো নেতাকর্মীরা দলে দলে গণসংযোগ করতেন, লিফলেট বিলি করতেন, হরতাল পালনের জন্য জনে জনে পাবলিককে অনুরোধ করতেন। হরতালের দিনে পিকেটিং করতেন। পিকেটিং মানে রাস্তায় যেন কোন যানবাহন না চলে। কেউ দোকানপাট না খোলেন কেউ যেন অফিসে না যান, স্কুল কলেজগুলো যেন না খোলা হয়। কেউ রিকশা বের করলে সাইকেল চালালে তাকে অনুরোধ করে বাড়ী ফেরত পাঠানো হতো। হরতালের মধ্যে মিছিল হতো। দিনের শেষে একটা জনসভা হতো। সন্ধ্যায় সবাই যার যার মত বাড়ী চলে যেত। ওই দিনের মত আন্দোলন ওইখানেই শেষ হতো।

আইয়ুবের স্বৈর শাসন গেল পাকিস্তানী জামানাও গেল। স্বাধীনতার পর এলো আওয়ামী জামানা। বলা হতো এই জামানা গণতন্ত্রের জামানা। তো এই গনতন্ত্রের জামানার প্রথম দিকেও বিরোদী দল পাকিস্তানী জামানার স্টাইলে রাজনীতি করার আন্দোলন-সংগ্রাম করার সুযোগ পেতো। বিরোধী রাজনীতিতে জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর সহিংসতা তখনও আন্দোলনের নিয়ামক হয়ে ওঠে নাই। বিরোধী দলগুলো প্রকাশ্যে মিটিং মিছিল করতে পারতো। হরতাল ডাকতে পারতো হরতালের সমর্থনে মিছিল মিটিং করতে পারতো, লিফলেট বিলি করতে পারতো এমনকি কয়েকদিন ধরে মাইকিংও করতে পারতো। তখন মিটিং মিছিল করতে বা মাইকিং করতে কারও কোন অনুমতি লাগতো না। রাজনীতির জ্ঞানবুদ্ধি হবার পর থেকে গণতন্ত্র মানে এটাই জেনে এসেছি বুঝে এসেছি। তো এই গণতন্ত্র বেশীদিন চললো না। এলো বাকশালতন্ত্র, এটা নাকি শোষিতের গণতন্ত্র! এই গণতন্ত্রে মিটিং মিছিল হরতাল আন্দোলন সংগ্রাম তো দুরের কথা বিরোধী দলপ্রথাই উঠিয়ে দেয়া হলো। দেশে শুধু একটাই দল থাকলো সেটা হলো সরকারি দল। আন্দোলন-সংগ্রাম নিষিদ্ধ সরকারের সমালোচনা নিষিদ্ধ বিরোধীতা নিষিদ্ধ। সারাদেশে কায়েম হলো কবরের শান্তি।

যাহোক, এরপর তো সামরিক শাসন। তারপর জিয়া সাহেব এরশাদ সাহেবের মার্শাল ডেমোক্রেসী। এই ডেমোক্রেসীতেও বিরোধীদল ছিল। তারা আন্দোলন সংগ্রাম করতে পারতো মিটিং মিছিল করতে পারতো। সরকারের সমালোচনা করতে পারতো হরতাল ডাকতে পারতো, হরতাল পালন করতে পারতো। হরতাল পালনে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে পারতো প্রচার প্রচারণা চালাতে পারতো, পিকেটিং করতে পারতো। সামরিক শাসক হলেও জিয়া সাহেব এরশাদ সাহেব জণগণের এই সাংবিধানিক এবং মৌলিক অধিকারগুলো অবাধ রেখেছিলেন। নিজেরা গণতন্ত্রী না হলেও গণতন্ত্রের কিছু নমর্স তারা মেইনটেইন করতেন।

গণতন্ত্রের নীতি-নৈতিকতাগুলোর ক্রম অবলুপ্তি ঘটতে শুরু করে ’৯১ সালে তথাকথিত গণতন্ত্র চালু হবার পর থেকে। দুইটি রাজনৈতিক দল এবং তার দুই নেত্রী পঁচিশটি বছর ধরে কম্পিটিশন দিয়ে মানুষের গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক অধিকারগুলো রহিত করে চলেছেন। রাজনীতিতে গুন্ডাতন্ত্র পেশীতন্ত্র কায়েম করেছেন। আন্দোলন সংগ্রামকে জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর সহিংসতায় রূপান্তর করেছেন।

বিরোধী রাজনীতিতে এই ভাংচুর-সংষ্কৃতির সূচনা ’৯০ সালে। এর আগ পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রামের রূপ সাধারনভাবে অহিংস থাকতো। কেবল পুলিশ গুলী চালালে বা কোন মারমুখী এ্যাকশনে গেলে তা সহিংস হয়ে উঠতো। আমি তখন সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা অবসরে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ব্যবসা করি গ্রুপ থিয়েটার নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সম্ভবত: জুলাই অগাস্টের দিকে হবে, এক সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে কিছু ছেলে এসে কথা নাই বার্তা নাই শাহবাগ মোড়ে কিছু গাড়ী ভাংচুর করে গেল। পরদিন পত্রিকায় ফলাও করে সে সংবাদ প্রচার। কি ব্যপার কারা ঘটালো এই ঘটনা কেনই বা ঘটালো! পরে জানা গেল এরা ছিল ছাত্রদলের ছেলে। কেন করলো এ কাজ? কোন উত্তর জানা গেলনা। এর কয়েক দিন পর বিরোধী বিএনপি দল হরতাল ডাকলে তার আগের সন্ধ্যায়ও শহরে বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করা হলো আগুন লাগানো হলো। পরদিন ফল পাওয়া গেল ভাল। হরতালে গাড়ী বের হলোনা।

আমার থিয়েটার গ্রুপে জাহিদ হোসেন চুন্নু নামে একটা ছেলে ছিল। বিএনপির সাংষ্কৃতিক অঙ্গসংগঠনের কি এক নেতা। বেগম জিয়ার কাছে নিয়মিত যাতায়ত ছিল, নেত্রী নাকি বেশ ¯েœহ করতেন তাকে। একদিন চুন্নুকে জিজ্ঞেস করি, কি ব্যপার তোমরা হঠাৎ এই গাড়ী ভাংচুরের স্টাইল চালু করলে কেন। চুন্নু বলে, কি করবো, এত চেষ্টা করছি কোনভাবেই আন্দোলন জমাতে পারছিনা। হরতাল ডাকলে কেউ সাড়া দেয়না। সরকারের ওপরে কোন চাপই তো সৃস্টি করা যাচ্ছেনা। দেখি ভাংচুর জ্বালাও পোড়াও করে কোন কাজ হয় কিনা।

কাজ হয়েছিল। এই জ্বালাও পোড়াও অগ্নিসংযোগ সন্ত্রাস-সহিংসতা করে এরশাদ সাহেবকে বিদায় করা গেছিল। এতে শরীক হয়েছিল আওয়ামী লীগসহ সে সময়ের এরশাদবিরোধী সকল দল। এই সন্ত্রাস সহিংসতা নৈরাজ্যের নাম দেয়া হয়েছিল গন আন্দোলন। এই সন্ত্রাস সহিংসতার নায়ক নায়িকাদেরকে সে সময় মহিমাম্বিত করা হয়েছিল। এবং সেই থেকেই সন্ত্রাস সহিংসতা জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর অগ্নিসংযোগ বিরোধী রাজনীতির একটা অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। এই সন্ত্রাস সহিংসতা জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর অগ্নিসংযোগের মাধ্যমেই ’৯৬-এ শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে তত্বাবধায়ক ব্যবস্থা দিতে বাধ্য করেন, এই সন্ত্রাস সহিংসতা জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েই বেগম খালেদা জিয়া ২০০১-এ শেখ হাসিনার কাছ থেকে ভালোয় ভালোয় নতুন নির্বাচন আদায় করেন, ২০০৬ সালে শেখ হাসিনা ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপট রচনা করেন। ’১৩ সালে একই স্টাইলে বেগম জিয়া শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে চেয়েছিলেন, আজ ’১৫-তেও তাই। মজার ব্যপার হলো, দুই নেত্রীর কাছেই ক্ষমতায় গেলে যা সন্ত্রাস সহিংসতা বিরোধী দলে গেলে তাই হয়ে যায় গন আন্দোলন!

দেশে যদি গণতন্ত্র না থাকে রাজনীতি যদি স্বাভাবিক পথে চলতে না পারে তাহলে তা বিকল্প পথ খুঁজে নেবে- এটাই হিসাবের কথা। আমাদের দেশে আন্দোলন বলতে এখন সন্ত্রাস সহিংসতা জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর তথা এক ধরনের নৈরাজ্যকেই বোঝায়। দুই নেত্রীই তাদের বিরোধীদলে থাকার মেয়াদে এই রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। অতীতে উভয়ই সফল হয়েছেন, ফলে যে যখন বিরোধী দলে থাকেন বিশ্বাষ করেন- এটাই ধন্বন্তরী।

৬ তারিখ থেকে বেগম জিয়ার, এর আগের ২ দিন মাননীয় শেখ হাসিনার- ১৬ দিন ধরে দেশে ‘অবরোধ’ চলছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে এই অবরোধ শব্দের অর্থটা আমার কাছে খুব একটা পরিষ্কার নয়। অবরোধ বলতে বোঝায় চতুর্দিক থেকে ঘিরে কোন কিছুকে আটকে রাখা। যেমন সরকার বেগম জিয়াকে তার অফিসে ‘অবরুদ্ধ’ করে রেখেছিল। বেগম জিয়া যে অবরোধের ডাক দিয়েছেন তাতে কে কাকে কোথায় কিভাবে অবরুদ্ধ করে রাখবে তা ষ্পষ্ট নয়। সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘অবরোধ’ প্রথাটি যখন চালু হয় অর্থাৎ সেই গোড়ার দিকে অবরোধ বলতে বোঝানো হতো চতুর্দিক থেকে এসে রাজধানী শহরকে অবরুদ্ধ করে রাখা। সেটা কখনও সফল হয় নাই। আজ অবরোধ বলতে যেটা দেখা যাচ্ছে, সারা দেশেই যানবাহন চলাচল বন্ধের চেষ্টা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা রাস্তায় তারকাটা ফেলে গাছের গুড়ি ফেলে বা আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচলে বিঘœ ঘটানোর চেষ্টা করছেন। এখানে ওখানে যানবাহন ভাংচুর করছেন আগুন দিচ্ছেন। প্রথম দিকে ট্রেনের ফিশপ্লেট তুলে ট্রেন চলাচল বাধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করা হয়েছে। রাজধানী শহরে মাঝে মাঝে চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়ে গাড়ী জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এই হচ্ছে মোটামুটিভাবে দৃশ্যমান অবরোধ। অন্তত: ঢাকা শহরে যে অবস্থা এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত মিডিয়ায় যতটুকু দেখানো হচ্ছে তাতে ধারনা জন্মানো স্বাভাবিক, অবরোধ এখন জ্বালাও পোড়াও ভাংচুর সহিংসতার সমার্থক হয়ে গেছে। এতে সাধারন জনগনের কোন অংশগ্রহন নাই। নৈতিক যে সমর্থনটুকু আছে নিজেরা ভুক্তভোগী হয়ে পড়ায় তাও ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক। বেগম জিয়ার দাবী তার ৭ দফা মেনে নিতে আলোচনা শুরু করতে হবে। সরকার পক্ষের হুংকার, কিসের আলাচনা! মাথায় মেরে ডান্ডা করে দেব ঠান্ডা। এ অবস্থায় পরিস্থিতি চলে গেছে স্টেলমেট অবস্থায়। সকলেরই উদ্বেগ কবে এর সমাপ্তি ঘটবে।

অবরোধ হোক আর নাই হোক, এটা ঠিক যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃস্টির প্রচেষ্টা অনেকাংশে সফল হয়েছে। সফল হয়েছে বলেই পরিবহন ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়েছে। মাল আনা-নেয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে পণ্য উৎপাদনে ব্যবসায় বাজারে অর্থনীতিতে। সরকারের আতি-পাতিরা যতই বাগাড়ম্বর করুন ভেতরে ভেতরে পরিস্থিতি যে নাজুক হয়ে পড়ছে তার প্রমান সরকারের সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। এর মধ্যে র‌্যাব পুলিশ বিজিবিকে মাঠে নামানো হয়েছে। বিজিবির পাহাড়ায় বাস ট্রাক চালানো হচ্ছে। দেশে জারী করা হয়েছে অঘোষিত জরুরী অবস্থা। চলছে যৌথবাহিনীর নামে সরকারি বাহিনীগুলোর তান্ডব। কোন কোন এলাকায় গ্রামের বৌ ঝি ছেলে বুড়োরা ’৭১-এ পাক বাহিনী দেখে পালানোর মত যৌথবাহিনীর গাড়ী দেখে ঘরবাড়ী ফেলে রেখে ছুটছে। এলাকা পুরুষশুন্য। সরকারের লোকজন মুখে যাই বলুক এই কয়দিনের অবরোধ ভেতরে ভেতরে যে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে তা বোঝা যায় তাদের সবার্ত্মক রণসজ্জার মধ্য দিয়ে, বাহিনীপ্রধানদের রণহুংকারের মধ্য দিয়ে।

সংবিধানের কথা বলুক আর গণতন্ত্রের কথাই বলুক উন্মাদ প্রকৃতির কিছু প্রাণী ছাড়া আওয়ামী লীগের বিবেকবান লোকেরাও মনে করেন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ এবং সরকার প্রকৃত জননির্বাচিত নয়। জনগণ তাদেরকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে নাই বিধায় সব সময় এরা এক ধরনের ফোবিয়ায় ভোগে। এরা জনগণকে ভয় পায়। মনে করে এই বুঝি পাবলিক এসে ঘাড়টা চেপে ধরলো। বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জনসভায় মানুষের ঢল দেখে এরা আতংকিত দেশবাসী হয়তো সবাই বেগম জিয়ার সাথে। ঢাকায় বেগম জিয়া কোন জনসভা ডাকলে বুঝি মানুষে মানুষে সয়লাব হয়ে যাবে। গণঅভ্যূত্থান ঘটে যাবে। এই আতংক থেকে বেগম জিয়াকে ঢাকায় কোন সমাবেশ করতে দেয়া হয়না। তিনি সমাবেশ ডাকলে সরকার সারা দেশে ‘হরতাল’ ডেকে দেয়। ঢাকাগামী যানবাহন সব বন্ধ করে দেয়। ঢাকার সব প্রবেশমুখে গুন্ডা লীগ পান্ডা লীগের পাহাড়া বসায় যাতে কেউ শহরে প্রবেশ করতে না পারে। পুলিশ দিয়ে ঢাকার সব হোটেল বোর্ডিং বন্ধ করে দেয়।

জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় না বসলে সব শাসকেরই এই অবস্থা হয়। শেখ হাসিনার সরকারেরও আজ গণঅভ্যুত্থানভীতিতে পেয়ে বসেছে। তিনি মনে করছেন বেগম জিয়াকে কোন রকম ছাড় দিলে তিনি জনগণকে নিয়ে ক্ষমতা দখল করে ফেলবেন। অতএব তাকে কোন সভা সমাবেশ করতে দেয়া হবেনা রাস্তায় নামতে দেয়া হবেনা তার সাথে কোন কথাও বলা হবেনা। হামলা মামলা বন্দুক কামান চালিয়ে তার দলকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হবে। কতটা আতংকিত এরা- লন্ডনে বসে তারেক জিয়া কিছু বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছিলেন আদালতকে দিয়ে বাংলাদেশে সেগুলোর প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারেক জিয়া নেতা কর্মীদেরকে আন্দোলনে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন, তা বন্ধ করতেই নাকি ভাইবার ট্যাঙ্গো নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়েছে! যেন নির্দেশনা দেয়ার জন্য তারেক জিয়ার সামনে আর কোন পথ খোলা নাই! কোন গবুচন্দ্র মন্ত্রীর যে বুদ্ধি, মাথায় ব্যথা হয়েছে মাথাই কেটে ফেলে দাও!!

কে কাকে পরাস্ত করতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে তবে আপাতত: মানুষ এই অনিশ্চিত অবস্থা থেকে রেহাই চায়। বুঝতে চায় কবে এই অচলাবস্থার অবসান হবে। বেগম জিয়া চাইলে কালই অবরোধ প্রত্যাহার করতে পারেন। তাতে অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে। কিন্তু মানুষ এটাও বোঝে এ দফা কোন অর্জন ব্যতিরেকে বেগম জিয়া পিছিয়ে এলে তার দল ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি এবং তার পরিবার হারিয়ে যাবেন রাজনীতির অঙ্গন থেকে। সংকট থেকে উত্তরনের একটা উপায় হিসেবে ধরা হচ্ছে সংলাপ বা আলোচনা। সেটার উদ্যোগ নিতে হবে মাননীয় শেখ হাসিনাকে। কিন্তু অবস্থাদৃস্টে মনে হচ্ছে, তিনি সমঝোতার মাধ্যমে নয় বেগম জিয়াকে ধ্বংসের মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজছেন।

’৭১-এ ইয়াহিয়া খানও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার পরিবর্তে শেখ মুজিব এবং তার দলকে ধ্বংসের মাধ্যমে সংকটের সমাধান চেয়েছিল। সদম্ভে ঘোষনা করেছিল ‘আদমী নেহী মিট্টি চাহিয়ে’ অর্থাৎ বাংলার মানুষ নয় তার দরকার বাংলার মাটি। মুক্তিবাহিনী ছিল তাদের দৃস্টিতে দুষ্কৃতকারি। গেরিলা যোদ্ধারা সারা দেশে যে ব্রিজ কালভার্ট উড়িয়ে দিচ্ছিল, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলছিল, রেল লাইনের ফিশপ্লেট তুৃলে ফেলছিল, গাড়ীতে আগুন দিচ্ছিল, বোমাবাজী করছিল- এসব ছিল দখলদার বাহিনী এবং তাদের দোসরদের কাছে ‘সাবভারসেভ এক্টিভিটিস’ ‘অন্তর্ঘাত’ ‘সন্ত্রাস’।

সেদিনের সেই ‘সাবভারসেভ এক্টিভিটিস’ ‘অন্তর্ঘাত’ ‘সন্ত্রাস’ই ইতিহাস গড়েছিল। আজ ’৭১ নয়। আজ যদি কোন ধর্মযুদ্ধ চলতো মুক্তিযুদ্ধ চলতো তাহলে কথা একরকম থাকতো। আজকের যে লড়াই সংগ্রাম তা গণতন্ত্রের, নীতি-নৈতিকতার। এটা আওয়ামী লীগকেও বুঝতে হবে। আজ তারা যে নজিরগুলো স্থাপন করে চলেছে কাল ক্ষমতায় না থাকলে এগুলোই বুমেরাং হয়ে তাদেরকে খাবে। মাননীয় শেখ হাসিনা যদি ধরে নিয়ে থাকেন ক্ষমতা তার কাছে এবার ওয়ান টাইম গেম তাহলে ভিন্ন কথা। তবে আমি চাইবো ক্ষমতায় না থাকলেও ভবিষ্যতে দেশে থেকে সুস্থ রাজনীতি করার সুযোগ এবং সম্ভাবনা যেন তিনি নিজ হাতে নস্ট না করেন।

১৯ জানুয়ারি, ২০১৫

saeedtarek@yahoo.com

You Might Also Like