চার্লি হেবদোয় মহানবী (সা.) কে নিয়ে কার্টুন : বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ, নিহত ৪

ফরাসী ব্যাঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন চার্লি হেবদোর কভারপেজে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে কার্টুন ছাপানোর প্রতিবাদে এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্বের মুসলিম প্রধান দেশগুলোতে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে অন্তত চারজন নিহত ও বেশ কিছু লোক আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম বিশ্বের এ বিক্ষোভের নিন্দা জানিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হয়েছে আফ্রিকার দেশ নাইজারে। যে চারজন নিহত হয়েছেন তারা সবাই নাইজারের নাগরিক। গত দুইদিন ধরে সেখানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্রথম দিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর দেশটির রাজধানী নিয়ামিসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়। এ সময় দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জিন্দারে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক।
ওইদিন বিক্ষোভের পর নাইজার সরকার সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং চার মুসলিম নেতাকে আটক করে। এতে জনগণ আরও ক্ষুব্ধ হয় এবং শনিবার আবারও রাস্তায় নামে দেশটির জনগণ। এ সময় অন্তত দুটি চার্চে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এছাড়া গৌরি শহরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা চালায়। এছাড়া দেশটিতে অবস্থিত ফরাসি সংস্কৃতি কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, নাইজারের এমন সহিংস পরিস্থিতিতে দেশটিতে অবস্থিত ফরাসি নাগরিকদের প্রতি সতর্কতা জারি করেছে প্যারিস। নাইজারে অবস্থানরত ফরাসি নাগরিকদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালি, সেনেগাল, মৌরতানিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়াতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। উল্লিখিত সব কয়টি দেশ এক সময় ফ্রান্সের অধীনে ছিল।
শুক্রবার পাকিস্তানে একই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির করাচি শহরে পুলিশের গুলিতে বার্তা সংস্থা এএফপির এক ফটো সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানী ইসলামাবাদেও বিক্ষোভ হয়।
অন্যদিকে, বিক্ষোভ হয়েছে আফগানিস্তানে। রাজধানী কাবুলে শুক্রবার জুমার নামাজের পর পর বেশ কিছু লোক বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা ফ্রান্সের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ফ্রান্সবিরোধী স্লোগান দেয়। সেইসঙ্গে চার্লি হেবদোর অফিসে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের প্রশংসা করা হয়।
চার্লি হেবদোর পাতায় নবী করিম (সা.) কে নিয়ে কার্টুন ছাপানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে ফিলিস্তিনে। আল আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে সেখানকার মুসলমানরা। এ সময় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় বিক্ষোভকারীরা। কারণ প্যারিসে নিহতদের শোক সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন আব্বাস।
একই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে তুরস্ক, ইয়েমেন, সুদান, জর্ডানসহ অন্যান্য দেশে। তবে এসব দেশে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চার্লি হেবদোর ঘটনার প্রতিবাদে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে যে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে তার নিন্দা জানিয়েছে ওয়াশিংটন। শুক্রবার করাচির ফরাসি কনস্যুলেট অফিসের বাইরে সংঘর্ষে অন্তত তিনজন লোক আহত হওয়ার পর এক বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বিবৃতিতে চার্লি হেবদোর পক্ষাবলম্বন করে বলা হয়েছে, এটি কোনো ব্যঙ্গচিত্রসহ তথ্য প্রকাশের সার্বজনীন অধিকার।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জেফরি রাতখি ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা সকল পক্ষকে সহিংসতা বন্ধ করে সংযত হওয়ার এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানাচ্ছি।’
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে চার্লি হেবদোয় রসূল সা.কে নিয়ে একটি কার্টুন ছাপা হয়। ওই ঘটনার পর পত্রিকাটির অফিসে হামলা হয়। এরপর গত সপ্তাহে কয়েকজন বন্দুকধারী আবারও চার্লি হেবদোর অফিসে হামলা চালায়। এতে ১২ জন নিহত হয়। এ ঘটনার পরের সপ্তাহের বুধবারে আবারও মহানবী সা. কে নিয়ে কভার পেজে ব্যাঙ্গচিত্র ছাপা হয়। ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের ব্যাঙ্গচিত্র ছাপার ঘটনা গোটা মুসলিম বিশ্বকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

You Might Also Like