প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনে হচ্ছে সরস্বতী পূজা

জাতীয় সংসদে এবার ঐতিহাসিক একটি নজির স্থাপিত হচ্ছে। দশম সংসদের পঞ্চম অধিবেশন সেই ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে। অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রে বিশ্বাসের নজির স্থাপন করে বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের জ্ঞানের দেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছে।

আগামী ২৫ জানুয়ারি রোববার, শ্রীপঞ্চমী তিথিতে সংসদে মহাধুমধামে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন এর আয়োজক পঙ্কজ দেবনাথ। পূজার দিন অর্চনা এবং সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। এই পূজার সর্বজনীনতা থাকায় সংসদের গেট সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে এই পূজা নিয়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। প্রথম পূজা কেমন হবে, আয়োজন ভালো হবে তো! কেমন জাঁকজমকপূর্ণ হবে, সেই চিন্তায় অস্থির আয়োজকরা।

সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শ ফিরিয়ে এনেছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার।

গত সপ্তাহে সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ পদে কোনো সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকের পদাধিকার এটাই প্রথম। এর পরেই সংসদে প্রথম সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠান অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অন্যতম পদক্ষেপ বলে মনে করছেন অনেকে।

যদিও ইতিমধ্যে সারা দেশে রাজনৈতিক লেবাসে একদল দুষ্কৃতকারী এক শরও বেশি সরস্বতী প্রতিমা ভাঙচুর করেছে, মন্দির ভেঙেছে। ওই সব দুষ্কৃতকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

আগামী ১৯ জানুয়ারি সংসদে অধিবেশন শুরু হচ্ছে। এরই মধ্যে অধিবেশন চালু থাকাকালীনই সরস্বতী পূজা করার অনুমতি দিয়ে নজির গড়লেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

পূজার প্রস্তাবটি দেন বরিশালের সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ। সেই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেন স্পিকার শিরীন শরমিন চৌধুরীর কাছে। তিনি এই প্রস্তাবে অনুমতি দেন।

পঙ্কজ দেবনাথ বলেছেন, ‘সংসদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ইস্টার সানডেও পালিত হয়। কিন্তু হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কোনো পূজা করা হয় না। তাই আমি ওই প্রস্তাবটি দিই।’

তার ভাষায়, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবরই ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ নিয়ে চলেন। সব ধর্মের প্রতি সমান মর্যাদা দেওয়ার কথা বলেন। তাই সংসদে সরস্বতী পূজা করার প্রস্তাবে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি দিয়েছেন।’

পঙ্কজ দেবনাথ সনাতন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের এই পূজায় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ দিকে, সরকারের কোনো শরিক দলও সংসদে সরস্বতী পূজা করার অনুমতি দেওয়ার দ্বিমত করেনি।

এই সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিলেও তাদের এই অনুমতি দেওয়াতে এখন পর্যন্ত কোনো দ্বিরুক্তি করেনি বিএনপি। জাতীয় পার্টিও স্বাগত জানিয়েছে এ সিদ্ধান্তকে।

জাতীয় পার্টির মুখপাত্র রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, ‘সব ধর্মের সমানাধিকার থাকাটাই কাম্য।’

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে নতুন জোট গঠনে উদ্যোগী ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলুও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংসদে হতে পারলে সরস্বতী পূজা হতেই পারে। এত দিন কেন হয়নি সেটাই তার প্রশ্ন।’

পূজা উপলক্ষে সংসদে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংসদের ডেপুটি সার্জেন্ট সাদরুল আহমেদ বলেছেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পূজা হচ্ছে। তা ছাড়া এটা প্রথম পূজা। বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হবে।’

তিনি আশা প্রকাশ করছেন, পূজায় নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি থাকবে না।

You Might Also Like