নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি নয়,সরকারের কর্তৃত্ব বাড়াতেই ডিসিসি দুই ভাগ

ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) দুই ভাগে ভাগ করার একমাত্র লক্ষ্য কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব বাড়ানো, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি নয়। আজ শনিবার ‘আগামী প্রজন্মের ঢাকা: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গবেষণাভিত্তিক সম্মেলনে সুশাসনবিষয়ক একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য দেওয়া হয়।
রাজধানীর বাংলামোটরের প্ল্যানার্স ভবনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের আয়োজক বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এবং সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন। সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন পরিকল্পনাবিদ গোলাম মরতুজা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, নাগরিকসেবা প্রদানে সুশাসনের বাস্তব চিত্র অসন্তোষজনক ও অকার্যকর। এর কারণ নগর পরিকল্পনায় সুশাসনের অভাব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার না দেওয়া।
প্রতিবদেনের তথ্য অনুযায়ী, অতীতে ও বর্তমানে ঢাকার পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে। এসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রিয়েল এস্টেট কোম্পানি, রাজনীতিবিদ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনী।
প্রতিবেদনে সেবা প্রদানকারী সংস্থার আর্থিক সংকট, মেয়র কাউন্সিলরদের সেবা প্রদানের মনোভাবের অভাব, ঠিকাদারদের দুর্নীতি, প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাব, কর্মকর্তাদের অনভিজ্ঞতা ও দক্ষতার অভাব, কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবসহ সর্বোপরি সেবা প্রদানকারী সব সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে সুশাসন বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে পুলিশসহ সব সেবা প্রদানকারী সংস্থাকে সিটি করপোরেশনের আওতায় নিয়ে আসা, মেয়রকে মন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়া, রাজউককে সিটি করপোরেশনের আওতায় আনা এবং নিয়মিত ও সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করাসহ কয়েকটি করণীয় প্রস্তাব করা হয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি গোলাম রহমান। উপস্থিত ছিলেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. জাহাঙ্গীর, পরিকল্পনাবিদ জাহিদ হোসেন খান ও পরিকল্পনাবিদ গোলাম মঈনুদ্দিন।

You Might Also Like