আ.লীগ নেতাকর্মীদের ৩২ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার

আওয়ামীলীগ ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীকে ৩২ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। আওয়ামীলীগের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন দমাতে এসব অস্ত্রের ঝনঝনানি নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধী দলের আন্দোলন দমন, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র। সবচেয়ে বেশি অস্ত্র পেয়েছে রাজধানীর নেতাকর্মীরা। সংসদীয় আসন, থানা, ওয়ার্ড পর্যায়ের ছাত্রলীগ,যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরাও অস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একটি সূত্র।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, যারা যোগ্য তারাই অস্ত্র পেয়েছে। তিনি যতদিন এ দায়িত্বে রয়েছেন ততদিন সব যোগ্যতা যাচাই বাছাই করে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ত্রের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আয়কর দিতে পারেন এমন ব্যক্তি, মেয়র , উপজেলা চেয়ারম্যানসহ যারা যোগ্য রয়েছেন তাদেরকে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে , বর্তমান সরকার গত ৬ বছর ধরে যে সব অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছে তা চলে গেছে সরকারি দলের নেতাকর্মী , দাগী আসামি এবং কিলারদের হাতে। প্রায় ৩২ হাজার অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ কিংবা শিল্পপতি রয়েছেন এমন যারা অস্ত্র পেয়েছেন তারা হাতে গোনা কয়েকজন।
একদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পিস্তলের অন্যদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসক বন্দুকের লাইসেন্স দিচ্ছেন। ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের হিসেব অনুযায়ী প্রতিটি থানায় ৫০টির বেশি অস্ত্র দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে নেতারা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণাালয় থেকেও অস্ত্র নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ঢাকায় আওয়ামীলীগের বিভিন্ন অংগ সংগঠনগুলোর সভাপতি,সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে প্রচারসম্পাদক পর্যন্ত লাইসেন্স পেয়েছেন।
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরের সময় প্রায় পাচঁ/ছয় মাস অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া বন্ধ ছিল। লাইসেন্স দেয়া কেন্দ্র করে সচিবালয়ে একদল দালালকে বের করে দিয়েছিলেন সাবেক ওই মন্ত্রী।
এসব ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া কখনোই বন্ধ ছিল না। গত ৫ বছরের হিসেব বলতে পারবো না। তবে আমার সময়ে হয়তো ৫’শর বেশি লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৫০টি পর্যন্ত অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। যাদের দেয়া হচ্ছে তাদের যোগ্যতা বিচার করেই দিচ্ছি। দলীয় লোক বিবেচনা করে দেয়া হয়নি। তাদের দিয়ে ত্রাস সৃষ্টি হওয়ার ও কোন কারণ নাই।’

You Might Also Like