দক্ষিন এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ের পদধ্বনি

ইমরান আনসারী :

বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রীদের ধারাবাহিক মন্তব্য ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। সবাই আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বুঝি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বার্তা আসবে। কিন্তু না বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণই বিপরীত। কিন্তু কেন? কেন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিকে অবজ্ঞা করতে বাংলাদেশের মতো একটি দরিদ্র রাষ্ট্র এতো বড় সাহস দেখালো। এটাকি বাংলাদেশ সরকারের খামখেয়ালি বক্তব্য, নাকি পরিকল্পিত বার্তা। তা নিয়ে চলছে নানামূখী বিশ্লেষণ । বিষয়টি যে ভূরাজনীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক একটি বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে তার প্রমান মেলে রবার্ট বগস, বার্নস, অমিতাভ আচার্য্য, অধ্যাপক জুসেপ, টেরসিটার মতো আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের বিশ্লেষণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এসব মন্তব্য একটি রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় দেশটির একক আধিপত্য প্রশ্নবিদ্ধ হবার বার্তা হিসেবেই বিবেচনা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
১৯৯৩ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর ইরাকের তপ্ত মরুভূমির ট্যাংকের উপর দাড়িয়ে প্রেসিডেন্ট বুশ ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘নয়া বিশ্বব্যবস্থার’। যে ব্যবস্থার একক অধিপতি হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। উপসাগরীয় যুদ্ধের পর রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলতে থাকেন সেই থেকেই ¯œায়ু যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান হয়। সেই সাথে বিশ্বব্যাপী শুরু হয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জয়যাত্রা। সুযোগ পেলে এ আলোচনা পরে করা যাবে। কিন্তু মাত্র বিশ বছরের ব্যবধানে এই ‘নয়া বিশ্ব ব্যবস্থায়’ ঘোষণা ছাড়াই পরিবর্তন আসা শুরু করেছে। তাইতো দেখা যায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত অত্যন্ত প্রভাবশালী জার্নাল ‘ফরেন এ্যাফেয়ার্সের’ একটি নিবন্ধ। নিবন্ধের শিরোনামটি ছিল ‘ঃযব ঘবি ধহফ ঘবি ডড়ৎষফ ড়ৎফবৎ : ৎরংরহম ধহফ ভধষষরহম’ অর্থাৎ নতুন এবং নতুন বিশ্ব ব্যাবস্থার উন্থান ও পতন। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা টাফট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডেনিয়েল ডব্লিও ডেজনার ২০০৭ সালে লিখিত ওই প্রবন্ধে একাডেমিক দৃষ্টিকোন থেকে এই একবিংশ শতাব্দীর ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থার’ সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন চীন ও ভারতকে। তাঁর মতে, বিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাপান এবং উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় ইউরোপের কয়েকটি রাষ্ট্র। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এই চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কারণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বের উদীয়মান রাষ্ট্র হচ্ছে চীন ও ভারত। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের থিংক ট্যাংক হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্ট কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মধ্যে চীন পৃথিবীর দ্বিতীয় এবং ভারত পৃথিবীর চতুর্থ অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বহু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই দাবী শুরু করেছে যে চীন পৃথিবীর প্রথম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ইতোমধ্যেই আবির্ভূত হয়ে গেছে। আর ভারতকেও দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। চীন ও ভারতের এই অর্থনৈতিক উত্থান বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মূখে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন ডেজলার। ডেজলারের সমর্থনে মতামত ব্যক্ত করেছেন ওয়াশিংটনস্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক অমিতাভ আচার্য্য। তিনি তাঁর সম্প্রতি প্রকাশিত ঞযব ঊহফ ড়ভ অসবৎরপধহ ডড়ৎষফ ঙৎফবৎ (২০১৪) শীর্ষক বইয়ে একাডেমিক দৃষ্টি কোন থেকে দেখান যে, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নতুন বিশ্বব্যবস্থায় অত্যন্ত উৎসাহজনকভাবেই স্টেইকহোল্ডার হিসেবে আবির্ভূত হবে দু’টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে চীন ও ভারত। ডেজলার ও অমিতাবের এসব মন্তব্য থেকে একধাপ এগিয়ে হাভার্ড ইউনিভার্সিটির খ্যাতনামা অধ্যাপক জুসেপ এস. নাই জুনিয়র ২০১০সালে মন্তব্য করেছেন, চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক উন্থান বিশ্বক্ষমতার রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরী করতে পারে। অধ্যাপক জুসেপের এই মন্তব্যের তিন বছরের মধ্যেই বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আন্তর্জাতিক ক্ষমতার রাজনীতিতে অস্থিরতা লক্ষ্য করতে পারছি। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের একটি কথা প্রণিধানযোগ্য ‘অর্থনীতি রাজনীতি ও সমর নীতিকে পরিচালনা করে’।
বিষয়টি প্রথমে সামনে আসে গ্রামীন ব্যাংক ইস্যুতে ড. ইউনুসকে হেনস্তা না করতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ স্বত্ত্বেও সরকার এ থেকে পিছু হটেনি। বরং প্রকাশ্যে মন্ত্রীদেও ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে কটুকথা বলতে শুনা গেছে। সংসদেও ইউনুসকে একহাত নিতে ছাড়েননি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। প্রায় ২০ এর অধিক কংগ্রেসম্যান সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখেও সরকাকে কোনভাবেই নিবৃত করা যায় নি।
দ্বিতীয়ত, দেখা যায় জামায়াত নেতা আবদুল কাদেও মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর না করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও জাতিসংঘের মহাসচিব বানকি মুনের ফোন পাওয়া স্বত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্ত থেকে চুল পরিমানও নড়েননি। বরং প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সাংবাদিকদের সাথে স্বীকারও করেছেন কেরি ও মুনের ফোনও তাকে তার অভীষ্ঠ লক্ষ্য থেকে ফেরাতে পারেনি। বিষয়টি যুদ্ধাপরাধ ও জামায়াত কেন্দ্রিক ছিল বিধায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তেমন একটা আমলে নেয়নি। কিন্তু এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে না বলার দ্বিতীয় ঘটনা।
তৃতীয়ত, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পূর্বে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি নিস্পত্তি করতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফারনান্দো তারানকোকে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। তিনি সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠানে উভয় দলের সাথে বৈঠক করেন। তারানকোর সফরের ফলাফল কি হয়েছিল তা সবারই জানা। রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিও মজিনা ব্যর্থ হন প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত লাভে। যুক্তরাষ্ট্রকে বারবার উপেক্ষা করার পেছণে প্রতিবেশী দেশ ভারতের যে ভূমিকা তা ছিল সবারই জানা। বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় সাংবাদিক সুবির ভৌমিকের একটি প্রবন্ধ ও বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ডেন ডব্লিও মজিনার দিল্লী সফরের মাধ্যমে। ৫ ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ডেন ডব্লিও মজিনা ভারতকে বাংলাদেশের নির্বাচন প্রশ্নে ম্যানেজ করতে গিয়েছিলেন তা সে সময়েই অনুমান করা গিয়েছিল। কিন্তু ভারতের কাছে নতি স্বীকার করেই ডেন মজিনাকে ঢাকায় ফিরতে হয়েছিল।
দক্ষিণ এশিয়া তথা বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র ক্ষমতার বিষয়টির কিছুটা আভাস দিয়েছেন ওয়াশিংটনস্থ নিয়ার ইস্ট সাউথ এশিয়া স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিজ এর সাউথ এশিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক রবার্ট বগস তাঁর ‘ফ্রেন্ডস ওইদাউট বেনেফিটস’ শীর্ষক প্রবন্ধে। বগস শুধুমাত্র একজন অধ্যাপকই নন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর কাজ করেছেন। তার মতে, তিনি ১৯৮৫ সাল থেকে টানা ২০০৪ পর্যন্ত দক্ষিন এশিয়ায় কর্মরত অবস্থায় লক্ষ্য করেছেন কিভাবে ভারতের কর্মকর্তারা দক্ষিন এশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছিল। যাতে কওে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো ওয়াশিংটনের সাথে সহযোগীতা না করে। কারণ নয়াদিল্লী বিশ্বাস করে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর ওয়াশিংটনের সাথে সহযোগীতার অর্থই হচ্ছে এতদঅঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বেড়ে যাওয়া। বগস সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের ঘটনাবলীর উদাহরন টেনে বিষয়টি আরো স্পষ্ট করেন। তিনি দায়িত্ব নিয়ে বলেন, ২০১৪ সালের প্রথম দিকে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে কথা যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছিল তাতে তীব্র প্রতিবাদ জানায় ভারত। কারণ ভারতের ভয় ছিল যে বাংলাদেশের ভোটাররা কোন ভারতপন্থী দলকে নির্বাচিত করবে না (ফরেন এফয়ার্স, জানু/ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। ভারত পন্থী বলতে বগস ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বুঝিয়েছেন। শুধু তাই নয় রবার্ট বগস আরো দাবী করেন, ভারতের বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা সরকার বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের জন্য বাংলাদেশ, নেপাল এবং শ্রীলংকায় অর্থেও যোগান দিয়েছিল। তিনি আরো দাবী করেন, নেপালের মাওবাদী এবং শ্রীলংকা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদেও সরাসরি সহযোগীতা করেছে ভারত। দু’টি সংগঠনের দ্বারা হাজারো বেসামরিক লোকজন হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে দেশ দু’টিতে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র দু’টি সংগঠনকেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যা দেয়। এখানে বাংলাদেশে কোন সরকারের সময়ে ভারত বাংলাদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের জন্য অর্থেও যোগান দিয়েছিল বিষয়টি যদিও স্পষ্ট নয়। যা অনুসন্ধানের দাবী রাখে
শুধু তাই নয় দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ধরণের সামরিক উপস্থিতি ভারত ভাল চোখে দেখছে না তা আরো অনুমিত হয় বছর তিনেক আগে বঙ্গপোসাগওে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমগুলোর আগ্রহ দেখে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহ দেখেই বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো এই নিয়ে উঠে পড়ে লাগে। এটা সবারই জানা যে মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন তার একাধিক বক্তব্যে বাংলাদেশকে ‘স্ট্র্যাটেজিক্যালি ইমপরটেন্ট’ অর্থাৎ কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ন বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর বাংলাদেশ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবার বিষয়টি ভারত হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছে। কারণ অর্থনৈতিকভাবে বিকাশমান ভারত চায় না ওয়াশিংটনের রাডারের মধ্যে থাকতে। বাংলাদেশের দক্ষিনে কিংবা মিয়ানমাওে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরণের সামরিক উপস্থিতি ভারত কোনো ভাবেই মেনে নিবে না তা ইতোমধ্যেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে চীন ও ভারতের স্বার্থ অভিন্ন। যদিও চীনের সাথে ভারতের বেশ কিছু সীমান্ত সমস্যা রয়েছে।
এখানে বলে রাখা ভাল যুক্তরাষ্ট্র চীনের অর্থনৈতিক বিকাশের বিষয়টি মাথায় রেখেই ওয়াশিংটন দিল্লীকে এতটাই কাছে টেনে নিয়েছে যে সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লীর চোখে দক্ষিণ এশিয়াকে দেখতে শুরু করেছে ওয়াশিংটন। কারণ দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিষয়টি দেখভাল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র- যুক্তরাজ্য-ভারত একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। আর এর প্রধান সদর দফতর স্থাপন করা হয়েছে দিল্লীতে। অর্থ্যাৎ দিল্লীতে তৈরী করা রিপোর্টেও ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিরা তাদেও নীতি নির্ধারণ কওে থাকেন। তার আনুষ্ঠানিক প্রমান মেলে গেল ৬ অক্টোবর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য আমেরিকান সিকিউরিটি প্রজেক্ট আয়োজিত ‘বাংলাদেশ প্রসপেক্টস এন্ড চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারের আলোচনা। সেমিনারে আমেরিকান ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. থমাস লিঞ্চ তার বক্তব্যে দাবী করেছিলেন বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ নিরসনে বর্তমান সরকারিই শুধুমাত্র সাহসী ভূমিকা রেখেছে। তার বক্তব্যেও মূলকথা ছিল জঙ্গীবাদ নিরসনের স্বার্থেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকা উচিত। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। জঙ্গীবাদের উন্থান ঘটেছিল আওয়ামী লীগের আমলে উদীচি হামলার মধ্য দিয়ে। শীর্ষ জঙ্গীদেও আইনের আওতায় নিয়ে এসেছিল বিএনপি সরকার। এবিষয়ে আপনার বক্তব্যে কোন কিছুই পাওয়া গেল না। তার সরল উক্তি দিল্লী অফিসের রিপোর্ট অনুসাওে তিনি বক্তব্য দিচ্ছেন। সেমিনারের সার্বিক আলোচনার বিষয়টি ওয়াশিংটনস্থ আমেরিকান সিকিউরিটি প্রজেক্টেও আর্কাইভে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। সুতরাং এটি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট দিল্লীর চোখেই দক্ষিণ এশিয়াকে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতিই দক্ষিণ এশিয়া থেকে দেশটির বিদায়ের সানাই বাজিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ভারত সম্পর্কেও বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের থিংক ট্যাংকগুলোর গবেষণার অন্যতম বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। বিশ্ব রাজনীতির এই খেলায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কতটা প্রস্তুত?
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক
ই-মেইল: ওসৎধহ.ধহংধৎু@মসধরষ.পড়স

You Might Also Like