অর্থবহ সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

চলমান সহিংসতা বন্ধে সব রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে কার্যকর সংলাপ শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতরা।

তারা গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করে সভা, সমাবেশে বাধা-নিষেধ আরোপ না করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ আহবান জানান ইইউ রাষ্ট্রদূতরা।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মন্ত্রী ওই রাষ্ট্রদূতদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং গত এক বছরে সরকারের কার্যক্রম সর্ম্পকে জানানোর জন্য এক ব্রিফিং এর আয়োজন করেন।
রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং-এ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ডেনমার্ক, সুইডেন, ইতালী, স্পেন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেন। ব্রিফিং-এ পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিং শেষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মত বিনিময় করেন। অব্যাহত সহিংসতায় অনেকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা এবং সম্পদের ক্ষতিসাধনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের ওপর হামলা এবং বুধবার সকালে রংপুরে যাত্রীবাহী বাসে আক্রমণের ঘটনায় ৪ জন নিহত ও অনেকে আহত হওয়ার কথা বৈঠকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। তারা এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহবান জানান।
বিবৃতিতে জানানো হয়, ই্ইউ রাষ্ট্রদূতরা মতবিনিময়কালে বলেন- গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হলে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না। এসময় তারা সভা, সমাবেশের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ না করার জন্য আহ্বান ছাড়াও সকল পক্ষের মধ্যে অর্থবহ সংলাপ শুরু এবং সহিসংতা বন্ধেরও আহবান জানান।
এদিকে বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ব্রিফিং-এ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতদের জানান- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে বদ্ধ পরিকর। সরকার কারোরই গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে না। কিন্তু কোন কোন পক্ষ গণতান্ত্রিক অধিকারের সুযোগ নিয়ে সহিংসতা, নাশকতা চালিয়ে জনমালের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নাশকতা প্রতিরোধ করাও সরকারের দায়িত্ব।
বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূতদের ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গৃহীত সিদ্ধান্ত মনে করিয়ে দেন এবং কিছু অংশ পড়ে শোনান। ওই বিবৃতিতে বিএনপি জোটে থাকা জামায়াতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামের সহিংসতার কঠোর সমালোচনা করা হয় এবং সহিংস সংগঠন বন্ধেরও সুপারিশ করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যনের নামে ভুয়া বিবৃতি প্রচার এবং ভারতের বিজেপি প্রধান অমিত শাহের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার টেলিফোন আলাপের প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেন।
এতে বলা হয়, মন্ত্রী বলেন, মার্কিন কংগ্রেস যেমন তাদের নামে প্রচারিত ভুয়া বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়েছে, তেমনি অমিত শাহও নিজেই বলেছেন, তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেনি। এ ধরনের ঘটনাকে বিশ্ব জালিয়াতি বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি তাদের জানান, কারও বক্তব্য যেন সন্ত্রাস উস্কে দিয়ে দিয়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘিœত করতে না পারে সে বিচারেই বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার না করার ব্যাপারে আদালত একটি আদেশ দিয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানের উপর হামলার ঘটনায় দু:খ প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনায় জগিতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান। এ ঘটনায় রিয়াজ রহমানের পরিবার মামলা না করায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে বলেও জানান।

You Might Also Like