আবদুস সালামকে জিজ্ঞাসাবাদ : সংবাদপত্র মালিক সংগঠনের উদ্বেগ

বাংলাদেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল একুশে টেলিভিশন-এর (ইটিভি) চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে আরো একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে৷ এর ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন৷

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই মামলায় পুলিশ মঙ্গলবার আদালতে তাঁর রিমান্ডের আবেদন জানালেও আদালত তাকে রিমান্ডে না দিয়ে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে৷ অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক ও আইনগত দিক থেকে ‘প্রচার মাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিভিন্ন ঘটনায়’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)৷

ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম এখন কারাগারে আছেন৷ গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ইটিভির নিচ থেকে আটক করে পুলিশ৷ পরদিন তাঁকে গত বছরের নভেম্বরে ক্যান্টনমেন্ট থানায় পর্নোগ্রাফি আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানান হলে আদালত রিমান্ড না দিয়ে পাঁচ দিন জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন৷

এরপর বিএনপি-র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আবদুস সালামের বিরুদ্ধে ৮ জানুয়ারি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয় ঢাকার তেজগাঁ থানায়৷ এই মামলায় সালামকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত৷ তবে এখনো এই মামলায় তাঁকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি৷ ৪ঠা জানুয়ারি দিবাগত রাতে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের বক্তব্য ইটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়৷

মঙ্গলবার আবদুস সালামকে ক্যান্টনমেন্ট থানার আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখান হয়েছে৷ তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানান হয়৷ সালামের পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়৷ ঢাকা মহানগর হাকিম সাবরিনা আলী দু’টি আবেদনই নামঞ্জুর করে সালামকে জেল গেটে পাঁচদিন জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন৷

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ‘‘২০১৪ সালের ১০ই নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলাটি দায়ের করেন কানিজ ফাতেমা নামে এক নারী৷ আর এই মামলায় একুশে টেলিভিশনের অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘একুশের চোখ’সহ নারীর সাবেক স্বামী শাহজালাল এজাহারভুক্ত আসামি৷”

তিনি জানান, ‘‘গত বছরের ৬ই নভেম্বর প্রচারিত ‘একুশের চোখ’ অনুষ্ঠান নিয়ে তখন মোট ৩টি মামলা হয় ৷ তার মধ্যে পর্নোগ্রাফি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের দু’টি মামলায় আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার দেখানো হল৷ তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, এর কোন মামলায়ই আবদুস সালাম এজাহারভুক্ত আসামি নন৷ তবে ইটিভির উপস্থাপক ইলিয়াস হোসোইন এজাহারভুক্ত আসামি৷ এসআই সাখাওয়াৎ হোসেন দাবি করেন, ‘‘উপস্থাপক ইলিয়াস হোসাইন পলাতক আছেন৷ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে৷ তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে ওই দু’টি মামলার অভিযোগে কার কতটুকু সংশ্লিষ্টতা আছে তা জানা যাবে৷” তিনি আরও বলেন, ‘‘এই দু’টি মামলাই জামিন অযোগ্য ধারার৷”

এদিকে আবদুস সালামের আইনজীবী ইউনূস আলী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ইটিভির চেয়ারম্যান আবদুস সালামকে হয়রানির উদ্দেশ্যে ক্যান্টনমেন্ট থানার দু’টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখান হয়েছে৷ মামলার এজাহার বা বর্ণনায় কোথাও তাঁর নাম নেই৷ আর তিনি অভিযোগের সঙ্গে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নন৷” তবে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি তদন্তের পরই বোঝা যাবে সালাম কোন অপরাধ করেছেন কি না বলে মন্তব্য করেন আইনজীবী ইউনূস আলী৷ তিনি বলেন, ‘‘আমরা আইনি লড়াই চালিয়ে যাব৷”

গত ৫ই জানুয়ারি রাত থেকে একুশে টেলিভিশনের সম্প্রচারে যে বিঘ্ন ঘটে, তা এখনো অব্যাহত আছে৷ ঢাকাসহ দেশের অনেক এলাকার দর্শকই একুশে টেলিভিশন দেখতে পাচ্ছেন না৷

You Might Also Like