আ. লীগের সমাবেশ শুরু,শিশু-কিশোরের ভিড়

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ শুরু হয়েছে। আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে পবিত্র কোরআন, গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল পাঠের মধ্যে দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশে আসছেন নেতা-কর্মীরা
৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় ডিএমপি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ বেলা একটা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। তাঁরা বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢোকেন। মঞ্চের মাইক থেকে সমাবেশে আসা নেতা-কর্মীদের স্বাগত জানানো হয়।
সমাবেশ সফল করতে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্ধিত সভা হয়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেছে। নির্বাচনের বর্ষপূর্তির সমাবেশ করতে না পারায় আজকে বড় রকমের লোকসমাগম করতে চায় দলটি। গতকাল বিকেলে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন আওয়ামী লীগের নেতারা।
সমাবেশে যোগ দিতে আসা মানুষের মধ্যে শিশু ও কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকা থেকে ১০ থেকে ১২টি ট্রাকে করে কয়েক শ শিশু-কিশোরকে নিয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের বেশির ভাগের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এসব শিশু-কিশোরের হাতে আওয়ামী প্রচার লীগের ঢাকা মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সায়েমের পোস্টার ছিল।
সমাবেশে আসার কারণ জানতে চাইলে শিশু মনির বলে, এলাকার বড় ভাইয়েরা নিয়ে এসেছেন। তাই সে এসেছে। আরেক শিশু আরিফ জানায়, সে পড়ালেখা করে না। কাজ করে। বয়স জানতে চাইলে সে জানায়, তার বয়স ১৪ বছর। বড়ভাইদের ডাকে সমাবেশে যোগ দিতে এসেছে বলে জানায় শিশুটি।
শিশুদের সমাবেশে কেন নিয়ে আসা হচ্ছে—জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানা প্রচার লীগের আহ্বায়ক অভি রহমান বলেন, তরুণ প্রজন্ম আসতে চাইলে আমাদের কিছু করার নেই। তাঁর দাবি, দেখতে কম বয়সী মনে হলেও তাদের বয়স অনেক বেশি।
সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সমাবেশ করতে আওয়ামী লীগকে অনুমতি দেয়। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ঢাকা মহানগরে সমাবেশের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ও বিএনপি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করতে রাজধানীতে একই দিনে সমাবেশের ঘোষণা দেয়। পরে ডিএমপি সমাবেশের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সমাবেশ করতে চাইলে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে। বর্তমানে তিনি কার্যালয়ের ভেতরেই অবস্থান করছেন।

You Might Also Like