‘নির্বাচন ও সংলাপের উদ্যোগ না নেয়া পর্যন্ত অবরোধ’

আওয়ামী লীগের প্রতি উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সংলাপের উদ্যোগ না নেয়া পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচি চলবে।

খালেদা জিয়ার এ বক্তব্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া।

রোববার রাতে গুলশানের অবরুদ্ধ কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত শেষে বেরিয়ে এসে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে দলের চেয়ারপারসনের এই অবস্থানের কথা তিনি জানান।

রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘উনি (খালেদা জিয়া) আমাদের বলেছেন, সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবির বিষয়ে সংলাপের উদ্যোগ সরকার না নেয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি আপনারা চালিয়ে যাবেন।’

রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন ‘আমরা আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। সংকট সমাধানে বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া প্রস্তাবের প্রতি সাড়া দিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেবেন।’

সন্ধ্যায় পৌনে ৭টার দিকে প্রথমে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, এর কিছুক্ষণ পর ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ও রফিকুল ইসলাম মিয়া খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তারও কিছুক্ষণ পরে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মদ আলী ও অ্যাডভোকেট ফাহমিদা আখতার মুন্নী অবরুদ্ধ কার্যালয়ে প্রবেশ করে বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

এক ঘণ্টা পর রফিকুল ইসলাম মিয়াসহ নেতৃবৃন্দ কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

এ সময় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করে রাখার কঠোর সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘পুলিশ ঘেরাও অবস্থায় একজন মানুষ সেইভ থাকেন। সরকার বলেছে, কার্যালয়ে পুলিশ দিয়ে বেগম জিয়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।এরকম নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবরুদ্ধ কার্যালয়ে বিষাক্ত পিপার স্প্রে ছোঁড়া হয়েছে। এররকম পুলিশি সেইফ কাস্টিডিওর মধ্যে এই পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এর মাধ্যমে সরকার বেগম জিয়ার সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তাকে কোথাও যেতে দেয়া হচ্ছে না। এটা পুরোপুরি মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

সোমবার আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করতে দেয়ার সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘উনারা সরকারে আছে, সভা-সমাবেশ করতে পারবে। আর আমরা পারবো না। এটা কী ধরনের গণতন্ত্র? এখানে এক ব্যক্তির শাসন চলছে।’

ভারতীয় জনতা পার্টির প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ’র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের বিষয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে ম্যাডামকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি (বেগম জিয়া) বলেছেন, উনার সঙ্গে কথা হয়েছে।’

পুলিশি ঘেরাও অবরুদ্ধ অবস্থাকে গৃহবন্দি বলবেন কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এভাবে পুলিশ ঘেরা করে রাখা হলে, এটা গৃহবন্দি কেনো বলবেন।’

স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘এভাবে তিন বারের একজন প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে বাসার বাইরে যেতে না দেয়া আইনসিদ্ধ নয়। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। সভা-সমাবেশে আমরা যা কিছু বলেছি, তা বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে, এর বাইরে কিছু নয়।’

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি সাড়ে ১১টা থেকে গুলশানের কার্যালয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন অবরুদ্ধ হওয়ার ৮ম দিনে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের তিন সদস্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন।

You Might Also Like