বিসিসিডিআই-এর জমজমাট পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব

অত্যন্ত উৎসবমূখর পরিবেশে ৩রা জানুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায় ভার্জিনিয়ার নোভা ক্যাম্পাসের আর্নেষ্ট কমিউনিটি কালচারাল সেন্টারে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ সেন্টার ফর কমিউনিটি ডেভোলামেন্ট ইঙ্ক (বিসিসিডিআই)-এর উদ্যোগে দশম বার্ষিক পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব।

মুষলধারে বৃষ্টি ও হিম শীতল তাপমাত্রাকে উপেক্ষা করে গ্রেটার ওয়াশিংটনের অগনিত প্রবাসী বাংলাদেশীরা যোগ দেন এই উৎসবমূখর আয়োজনে। ভয়েস অব আমেরিকার সাংবাদিক শতরূপা বড়ুয়ার উপস্থাপনায় বাংলা স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের পরিবেশিত বাংলাদেশের এবং আমেরিকার জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে পিঠা উৎসবের সূচনা ঘটে।

PoushMela_2এবারের পিঠা উৎসবের লক্ষ্যণীয় বিষয় ছিল বিভিন্ন কারুকার্যে ও নকশায় দেশজ পিঠার বিশাল সমাহার। পিঠা ষ্টলের পাশাপাশি ছিল শাড়ি, চুড়ি, গয়নাসহ মনোহরী ষ্টল। ছিল নিউইয়র্ক থেকে আগত মুক্তধারার বইয়ের স্টল। বিভিন্ন স্টলে শোভা পায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন রকম পিঠার। প্রায় চল্লিশ রকমের পিঠার আয়োজনে সজ্জিত হয় স্টলগুলো। তন্মধ্যে পাটি সাপ্টা, এলো জেলো, বালুশা, বিবিখানা, তেলেপিঠা, চিতলপিঠা, ছানার সন্দেশ, গজাগজা, পাকুনপিঠা, মাংশপিঠা, নারিকেলপুলি, নিমকি, ভাপাপিঠা, নারিকেলপিঠা, সাঁজপিঠা, দুধরসে চিতলপিঠা, চুপতিপিঠা, সবজিপিঠা, ঝালপিঠা, তালপিঠা, তেলপিঠা, সাবুদিনার, হ্যান্ডেশ, ডালপুরি, পুস্তদানার পিঠা, সুজিনারকেলপিঠা, দুধের পব, নুনগড়া, আল্লিবাল্লিগজা, ভেজরোল, চৈপিঠা, জর্দা, কলিপিঠা, কলাপিঠা, ডালপাকন, পানতুয়া, জুরিপিঠা উল্লেখযোগ্য । পিঠা ছাড়াও স্টলগুলোতে বিরিয়ানি, চটপটি, ঝালমুড়ি, চা ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়।

জাতীয় সংগীতের পরই শুরু হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমে একক ও গ্রুপ গানে অংশগ্রহণ করে তানসুভা, অতশি, শুশান, আরিয়ানা, শুশমি, রানিতা, অংকিতা, শুশ্ময়, নোরা, মাহেক, কৌশিক, জেমিমা, বিজন, বাধন, স্বপ্নিল, দিব্য, শ্রেয়শী, ওয়াদিয়া সহ আরও অনেকে।

এরপর নাচ পরিবেশন করে জেরিন কস্তা, জয়িতা কস্তা, মুর্ছনা বড়ুয়া।

এ পর্যায়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা স্কুলের সভাপতি শামীম চৌধুরী। তিনি বিসিসিডিআই এর সকল নির্বাহীদের পরিচয় করিয়ে দেন।সহ সভাপতি সঞ্জয় বড়ুয়া, প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জসিম উদ্দিন সাধারণ সম্পাদক আমিনুল চোধুরী, সহ সম্পাদক দীপক বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক PoushMela_5তসলিম হাসান, শিক্ষা সম্পাদক প্রনব বড়ুয়া, প্রচার সম্পাদক মোঃ আবেদিন, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক দস্তগীর জাহাংগীর। শামীম চৌধুরী স্পন্সরদের মধ্যে এটর্ণী সুদীপ বোস, আবু হক সহ কয়েকজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

PoushMela_3ডঃ সোমা বোস এর সার্বিক পরিচালনায় ও বনানী চৌধুরীর নৃত্য পরিচালনায় ঠাকুরমার ঝুলি থেকে সংগৃহীত বুদ্ধ ভুতুম মঞ্চনাটিকা টি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। উপস্থিত সকলের মন কেড়ে নেয়া এই পর্বে অংশগ্রহন করে বাংলা স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ (নাটকটির প্রতিবেদনের জন্য এখানে ক্লিক করুন )। নাটিকাটির শেষাংশে সোমা বোস অংশনেয়া সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল বৈঠকি গানের আসর। এতে সংগীত পরিবেশন করেন তাসলিম হাসান, রুমা ভৌমিক, রুমানা সুমি, ওয়াদিয়া ও শ্রেয়শী। অনুষ্ঠান জুড়ে তবলায় সহযোগিতা করেন আশীস বড়ুয়া আর হারমোনিয়ামে নাছির চোধুরী।

দুই সদস্যবিশিস্ট বিচারকমন্ডলীতে ছিলেন ইনারা ইসলাম ও হোসনে আরা জলি। এবারের পিঠা উৎসবে চট্রলা পিঠা ঘর, সিলেটি পিঠা ঘর, ঝাল টক মিষ্টি পিঠা ঘর সহ কয়েকটি স্টল ছিল। বিচারকদের রায়ে এবছরের উৎসবে প্রথম হয়েছে চট্রলা পিঠা ঘর আর দ্বিতীয় হয়েছে সিলেটি পিঠা ঘর। গত কয়েক বছর অংশগ্রহণকারী সুসজ্জিত নোয়াখালী কিংবা কুমিল্লা পিঠা ঘরের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। এমনকি বাংলা স্কুল এলামনাই এসোশিয়েশন পরিচালিত পিঠা স্টল যেটি গতবছর প্রথম হয়েছিল তারাও স্টল দেয়নি। র‍্যাফল ড্র এর পুরষ্কার ঘোষনা, পিঠা নিলাম ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসালামের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে রাত এগারোটায় পিঠা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

একদিকে পিঠা উৎসবে আগত প্রবাসীদের পিঠা খাওয়ার ধুম, অন্যদিকে মঞ্চে প্রায় দু’ঘন্টাব্যাপী বাংলা স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের নাচ গানের মুগ্ধ পরিবেশনা, পাশাপাশি ছিল কেনা কাটার ধুম। সব মিলিয়ে ছিল এক জমজমাট আয়োজন।  প্রবাসে বসে দেশজ পিঠার এই উৎসব PoushMela_4আয়োজন সবাইকে মুগ্ধ করেছে। ডিসি মেট্রোতে বিসিসিডিআই-এর এই মহতী আয়োজন নবীন-প্রবীণ সবাইকে প্রিয় বাংলাদেশের সান্নিধ্যে নিয়ে গেছে কয়েক ঘন্টার জন্য। মিস্টি রসে ভেজা আর নানান কারুকার্যের পিঠা আমাদের সাংস্কৃতির অনন্য স্বাক্ষরকে সগৌরবে প্রকাশ করল সকলের কাছে। গ্রেটার ওয়াশিংটনে পিঠা উৎসব আয়োজনের পথিকৃত দশম বারের বিসিসিডিআই-এর এই বিশাল উদ্যোগ সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

নিউজ-বাংলা ডট কম  আলোকচিত্রঃ বিপ্লব দত্ত

Sanjoy Barua baruasanjoy@ymail.com

You Might Also Like