হাইকোর্ট থেকে আরো বোমা-পিস্তল উদ্ধার

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকক্ষ থেকে রোববার আরো দুটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যানেক্স ১৭ নম্বর বিচারকক্ষ থেকে বোমা দুটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে অ্যানেক্স ৯ নম্বর বিচারকক্ষ থেকে বোমা সদৃশ একটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে সেটি বোমা বলে জানায় পুলিশ।
বইয়ের মধ্যে বিশেষভাবে রাখা ছিল বোমা তিনটি।
ঘটনা জানাজানির পর সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল বোমাগুলো উদ্ধারের পর নিষ্ক্রিয় করে।
বোমা উদ্ধারের পর পুলিশের একটি দল সুপ্রীম কোর্টের প্রতিটি বিচারকক্ষ ও আইনজীবী সমিতি ভবনে তল্লাশি চালায়। তারা সন্ধ্যায় আইনজীবী সমিতির ভবনের তৃতীয় তলায় টয়লেট থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল উদ্ধার করে।
এর আগে বিকেলে পুলিশ জানায়, ৯ নম্বর বিচারকক্ষ থেকে উদ্ধার বোমা সদৃশ বস্তটি আসলে বোমা। সেটির ভেতরে বিস্ফোরক ছিল।
ডিবির ডিসি (দক্ষিণ) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ‘উদ্ধার করা তিনটি হাতবোমার ভেতর বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। আলামত পরীক্ষার জন্য বিস্ফোরক অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।’
ডিবির সহকারী কমিশনার রহমত উল্লাহ বলেন,’বিস্ফোরক পরীক্ষার জানা যাবে বোমাগুলো কতটা শক্তিশালী। আইনজীবী পরিচয়ে ঢুকে কেউ হাতবোমা রাখতে পারে।’
অ্যানেক্স ভবনের ৯ নম্বর বিচারকক্ষে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গনির বেঞ্চ বিচারকাজ পরিচালনা করেন।
ওই বিচারকক্ষের বেঞ্চ কর্মকর্তা আবদুল হাসিব খান সাংবাদিকদের জানান, বেলা পৌনে ২টার দিকে মধাহ্ন বিরতিতে তিনি বিচারকক্ষে ঢুকলে কাউকে তিনি বলতে শোনেন, ‘কে যেন একটা বই রেখে গেল।’ তখন তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন ‘মাইনর অ্যাক্টস’ নামে প্রায় দুই হাজার পৃষ্ঠার একটি বই আইনজীবীদের বসার আসনের ওপর। বইটির পৃষ্ঠা উল্টালে তার ভেতরের পাতা কেটে সেখানে জর্দার কৌটার মতো একটি লাল বস্তু দেখতে পান।
বিষয়টি তাৎক্ষণিক তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর খবর পেয়ে ডিবির একটি দল ঘটনাস্থল থেকে সেটি উদ্ধার করে।
এরপর বিকেলে অ্যানেক্স ১৭ নম্বর বিচারকক্ষ থেকে বইয়ের ভেতরে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা দু’টি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ।
ওই বেঞ্চে বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি এস এইচ মো.নূরুল হুদা জায়গীরদার বিচারকাজ পরিচালনা করেন। বিচারকাজ শেষে বিচারকরা নেমে যাওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে হাতবোমা দু’টি পাওয়া যায়।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এসএম কুদ্দুস জামান সাংবাদিকদের জানান, আদালত প্রাঙ্গনে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে হাতবোমা রাখা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা সোমবার থেকে জোরদার করা হবে।
শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার করা পিস্তল তারেক নামে এক ওয়ার্ড কমিশনারের। তিনি বিচারপ্রার্থী হিসেবে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পর পিস্তল খোয়া গেলে এই ঘটনায় মামলা করেছিলেন।’

You Might Also Like