আখেরি মোনাজাতে দেশ-জাতির শান্তি কামনা

দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত শেষ হয়েছে। রোববার বেলা সোয়া ১১টায় মোনাজাত শুরু হয়। দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি আর মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে মোনাজাত শেষ হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মোনাজাতে অংশ নেন।
মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ বিশিষ্ট মুরব্বি দিল্লির হজরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ। বাদ ফজর থেকেই তিনি বয়ান করেন। তার বয়ানের বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা ওয়াসিফুল ইসলাম।
ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে চোখের পানি ফেলে দুই হাত তুলে মোনাজাত ধরেন।
চার দিন বিরতির পর আগামী ১৬ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। আগামী ১৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে এবারের বিশ্ব ইজতেমার সমাপ্তি ঘটবে।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার ভোররাত থেকে যানবাহনশূন্য সড়ক-মহাসড়ক ও নদীপথে টুপি পাঞ্জাবি পরা মানুষের বাঁধভাঙা জোয়ার শুরু হয়। চারদিকে যত দূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। সকাল ৮টার মধ্যে গোটা এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।
মূল ময়দানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকেই আশপাশের এলাকা ও মহাসড়কে অবস্থান নেন। আশপাশের এলাকার ভবনগুলোর ছাদেও মানুষের ভিড় দেখা যায়। সেখান থেকেই মোনাজাতে শরিক হন অনেকে। এ সময় আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। তুরাগ নদের পূর্ব পাড়ের ইজতেমা কেবল তুরাগপাড় কিংবা টঙ্গীতে সীমাবদ্ধ ছিল না। উত্তরে চেরাগ আলী, দক্ষিণে খিলক্ষেত, পূর্বে টঙ্গী রেলস্টেশন, পশ্চিমে এরশাদনগর ও দক্ষিণে তা ছাড়িয়ে যায় কামারপাড়া পর্যন্ত। সাভার বাইপাইল, জয়দেবপুরের চান্দনা চৌরাস্তা মোড়ে দাঁড়িয়েও লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা যায়।
আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আবদুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগ আলী, টঙ্গী রেলস্টেশন, স্টেশন রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়।
আখেরি মোনাজাতের দিন টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও সকল শিল্প কারখানা বন্ধ ছিল।

You Might Also Like