রক্তের বিনিময়ে প্যারিসে জিম্মি সংকটের অবসান

তিন বন্দুকধারী ও চার বন্দির রক্তের বিনিময়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দুটি জিম্মি সংকটের অবসান ঘটল শুক্রবার রাতে।
বুধবার রাজধানীতে রম্য সাপ্তাহিক পত্রিকা শার্লি এবদোর কার্যালয়ে হামলাকারী দুই ভাই উত্তর প্যারিসের একটি গুদামে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন তারা। সাঈদ কোয়াশি (৩৪) ও শেরিফ কোয়াশি (৩২) নামের ওই বন্দুকধারী সহোদর দামার্তা-অঁ-গুল শহরের ওই প্রিন্টিং প্রেসের গুদামের একজন কর্মচারীকে জিম্মি করলেও পুলিশ তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার জিম্মি দশার অবসান হয়। এ ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
অন্য জিম্মি ঘটনাটি ঘটে পূর্ব প্যারিসের কোশার নামের এক ইহুদি সুপার মার্কেটে। এ সময় মার্কেটের বেশ কিছু কর্মীকে জিম্মি করে এক বন্দুকধারী। জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান চালালে প্রচণ্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে আমেদি কুলিবালি (৩২) নামের এক বন্দুকধারী ও চার জিম্মির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সেখান থেকে আরো চার জিম্মিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে; অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পেয়েছেন ১৫ জন। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্যারিসের প্রসিকিউটর ফ্রাঁসোয়া মোলিন্স শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের ধারণা, নিহত হওয়ার আগে বন্দুকধারী জিম্মিদের হত্যা করেছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, এই দুই ঘটনা একে অন্যের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। শার্লি এবদোর ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ভাইকে ধরার চেষ্টা বাদ না দিলে সুপারশপের জিম্মিদের হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন আমেদি। শার্লি এবদোর হামলাকারীদের মধ্যে অন্তত একজনের সঙ্গে আমেদির পরিচয় ছিল বলে ফরাসি পুলিশ তথ্য পেয়েছে।
বুধবার তিন সহোদর কালাশনিকভ রাইফেল ও রকেট লঞ্চার নিয়ে শার্লি এবদো কার্যালয়ে হামলা চালালে ১২ জন নিহতের পর তাদের ধরতে পুলিশি অভিযান শুরু হয়। তিন সহোদরের সবচেয়ে ছোট বুধবারই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। ওই ঘটনার পরের দিন বৃহস্পতিবার প্যারিসে অপর এক বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হন এক নারী পুলিশ সদস্য।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ এ ঘটনাকে উল্লেখ করেছেন ফরাসি জাতির জন্য ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে। জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক করার পাশাপাশি তিনি দেশের জনগণকে বলেন,‘আমাদের আরো সতর্ক হতে হবে, থাকতে হবে ঐক্যবদ্ধ- এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।’
ফরাসি পুলিশ বলছে, আলজেরীয় বংশোদ্ভূত কোয়াশি ভাইয়েরা বেশ কিছুদিন ধরেই পুলিশের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘নো-ফ্লাই’ লিস্টেও তাদের নাম ছিল। ধারাবাহিক হামলায় ফ্রান্সে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

You Might Also Like