শেখ হাসিনার পদত্যাগ ছাড়া ঘরে ফেরা নয়: তারেক

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আন্দোলনের গন্তব্য হাসিনার বিদায়, গণতন্ত্র পনুরদ্ধার এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।

তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে। আর থামিয়ে দেয়া যাবে না। এ আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। গতিশীল করতে হবে। লক্ষ্য একটি। গন্তব্যস্থল একটি। শেখ হাসিনা যেদিন বিদায় নেবে, আন্দোলনকারীরা সেদিন ঘরে ফিরবে।’

রবিবার ‘৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা ও কালো দিবস’ উপলক্ষে ইস্ট লন্ডনের অট্রিয়াম অডিটোরিয়ামে আন্দোলনকারী জনগণের উদ্দেশে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি সর্বস্তরের নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেন, আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করুন। প্রতিটি এলাকায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলুন। যেন গণতন্ত্রের বিরোধী শক্তি ঘর থেকে বেরুতে না পারে।

বিএনপির এই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে ঢাকাকে যেমন সারা বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছিল, এবার ঢাকার ভেতরেও এক এলাকা অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিন। যাতে করে একটি বিশেষ অঞ্চলের কোনো বাহিনী গিয়ে আন্দোলনকারী জনগণের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারে। একইভাবে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও নিজ নিজ এলাকা বিচ্ছিন্ন করে দিন। আন্দোলন সফল না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরে যাবেন না।

তিনি বলেন, আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলন সফল করতে হবে। এ আন্দোলন থেমে গেলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে আন্দোলনকারী তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিজে বাঁচতে, পরিবার বাঁচাতে, দেশ বাঁচাতে, জনগণ ও গণতন্ত্র বাঁচাতে চলমান এই আন্দোলনের বিকল্প নেই।

তারেক রহমান সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের উদ্দেশে বলেন, এ সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। এ সরকার অবৈধ সরকার।

পুলিশের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে রক্ষার জন্য আর কত গুলি চালাবেন? এ পথ থেকে সরে আসুন। জনগণের ওপর গুলি চালাবেন না।

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আপনাদের দিয়ে গত ৫ জানুয়ারি অন্যায় করতে বাধ্য করা হয়েছে। এদেশ আপনাদের কাছে জনগণের পবিত্র আমানত। এবার জনগণের পক্ষ নিন। অন্যায় আদেশ মানবেন না। নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করুন।

তিনি বলেন, এই আন্দোলন কোনো দলের নয়, এ আন্দোলন দেশ রক্ষার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের। বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা এ আন্দোলনে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, আমরা শেখ হাসিনার মতো ‘একটির বদলে ১০টি লাশ ফেলা’র আহ্বান জানাই না। তবে এই অবৈধ সরকারের এক মন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের ঘরে ঘরে ঢুকে হত্যা করতে হবে। আমি নেতাকর্মীদের সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই- এরা যদি কেউ আপনাদের ঘরে ঢুকে আর যেন বের হতে না পারে।

তিনি বলেন, কারো কথায় বিভ্রান্ত হবেন না। বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। যখন খবর পাবেন শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছে, ঠিক তখনই রাজপথ ছাড়বেন। তার আগে নয়। নব্বইয়ে আপনারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছিলেন, এবারো আপনারা সফল হবেন। তবে এই আন্দোলনে নিরীহ কোনো মানুষের যাতে ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন।

তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জনগণ নেই। তাদের সঙ্গে আছে বিশেষ অঞ্চলের কিছু র্যা ব-পুলিশ। এই র্যা ব-পুলিশ ছাড়া এদের রাস্তায় নামার মুরোদ নেই। র্যা ব-পুলিশ ছাড়া এরা কিছুই করতে পারবে না। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে রয়েছে দেশের জনগণ।

তিনি তরুণদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমি তোমাদের এই নিশ্চয়তা দিতে পারি, বিএনপি আসলে ‘বেটার বাংলাদেশ’ হবে। সেই বাংলাদেশে কালো বিড়াল সাদা করা হবে না। অন্যায়কে অন্যায়, ন্যায়কে ন্যায় বলা হবে। গণতন্ত্রের কথা বলে অন্য দলের ওপর জেল-জুলুম করা হবে না। স্বাধীনতার চেতনার কথা বলে ক্রেস্টের স্বর্ণ চুরি করা হবে না। অন্যায়ের সমালোচনা করলে গণমাধ্যম বন্ধ করা হবে না। বাক-স্বাধীনতা হরণ করা হবে না। ফেসবুকে সমালোচনার জন্য জেল-জুলুম হবে না।

তারেক রহমান বলেন, আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র বন্দি। দুর্নীতি, দুঃশাসন, জুলুম-নির্যাতনে মানুষ অসহায়। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। তাকে অন্তরীণ করে রাখা হয়েছে।

তিনি ছাত্রদল-যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের মাকে যদি তোমাদের কাছে আসতে দেয়া না হয়, সন্তান হিসেবে তোমাদের উচিত মাকে মুক্ত করা।

তারেক রহমান বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশ মাতৃকা আজ অবরুদ্ধ। বাকশালীদের হাত থেকে দেশ মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, এই জানুয়ারি মাসেই শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্র হত্যা করেছিলেন, বাকশাল কায়েম করেছিলেন। হরণ করেছিলেন মানুষের বাক স্বাধীনতা। সেই জানুয়ারি মাসেই পিতার মতো শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে।

তারেক রহমান বলেন, শেখ হাসিনা সরকার অবৈধ সরকার। দুর্নীতিবাজ সরকার। তারা বাপ-বেটি দুজনই দুর্নীতিবাজ।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বন্ধু প্রতীম ভারত থেকে একজন কর্মকর্তা শেখ মুজিবের কাছে এসেছিলেন। শেখ মুজিবকে তিনি জানিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগৃহীত কিছু টাকা ভারত সরকারের কাছে রয়েছে। এই টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে ফেরত আনতে শেখ মুজিবকে নিয়মানুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি আহ্বান জানান। কিন্তু প্রতি-উত্তরে শেখ মুজিব ব্যাংকের মাধ্যমে না এনে এসব টাকা ট্রাকে বস্তায় ভরে পাঠানোর প্রস্তাব দেন এবং বলেন, এসব টাকা তিনি পরবর্তী নির্বাচনে খরচ করবেন। এ তথ্য প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তারেক রহমান।

You Might Also Like