রংপুরে আ.লীগ-বিএনপি মুখোমুখি

সোমবার রংপুর মহানগরীতে সকল বাধা পেরিয়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশের ঘোষণা দিযেছে বিএনপিসহ সহযোগি সংগঠনগুলো। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনগুলো বিএনপিকে রাস্তায় বের হতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে নগরজুড়ে টানটান উত্তেজনার বিরাজ করছে। উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন তারা। তবে পুলিশ বলছে তারা সতর্ক অবস্থায় আছে।

রংপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু নতুন জানান, খালেদা জিয়ার নির্দেশে তার দেয়া কর্মসূচি রংপুরে পালন করা হবে যে কোনো ধরনের বাধা বিপত্তি, হামলা ডিঙ্গিয়ে। এজন্য নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার সকাল ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে দলীয় কার্যালয় অথবা শাপলা চত্বর থেকে এই কালোপতাকার মিছিল শেষে সমাবেশ হবে।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা জানান, রংপুর মহানগর ছাড়াও জেলার প্রত্যেকটি উপজেলা ও বড় বড় হাটবাজারে জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করা হবে। কেউ বাধা দিতে এলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

রংপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সভাপতি রইচ আহমেদ জানান, আমার পার্টি অফিস থেকেই বিক্ষোভ মিছিল করবো। সেখানে বাধা দিলেও বাধা ডিঙ্গিয়ে এগুবো। আর সেখান থেকে বের না হতে পারলে একসাথ নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মিছিল হবে। এজন্য আমরা সকল প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের বিক্ষোভ হবে শান্তিপূর্ণ। পুলিশ অথবা আওয়ামী লীগ যদি বাধা দেয়ার চেষ্টা করে তবে জনগণই তা প্রতিহত করবে।

জেলা ছাত্রদলের সহ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ জানান, সবকিছু বলা যাবে না। তবে অন্তত এক হাজার ছাত্রদল নেতাকর্মী মাঠে থাকবে সোমবার। যেকোন মূল্যে কর্মসূচি পালন করা হবে। পার্টি অফিসের সামনে বাধা দিলে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নগরীর বিভিন্ন স্পট থেকে বিক্ষোভ করা হবে।

এদিকে সোমবার রংপুর মহানগরীর ১৩ টি জায়গায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি জানান, রংপুর মহানগরীর ১৩ টি পয়েন্টে ছাত্রলীগ গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা দিবসের র্যালি ও সমাবেশ করবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ যে ঘোষণা দিয়েছে সেই অনুযায়ী সোমবার বিএনপি এবং সহযোগি সংগঠনগুলোর কোন নেতাকর্মীকেই রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না।

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু জানান, সোমবার সকাল থেকেই পুরো নগরীতে থাকবে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। কেউ রাস্তায় নেমে অরাজকতা সৃষ্টির পায়তারা করলে তা প্রতিহত করা হবে। বিক্ষোভের নামে কোনো নৈরাজ্যকর কর্মসূচি রংপুরে পালন করতে দেয়া হবে না।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাফিয়ার রহমান শফি বলেন, সোমবার দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা দিবস। এই দিবসে রংপুর মহানগরীতে কাউকেই ভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হবে না। এজন্য মহানগর আওয়ামী লীগ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীর ও জনগণও আমাদের সঙ্গে মাঠে নামবে।

You Might Also Like