ট্রেন টিকেট ইন্সপেক্টর থেকে ভারত অধিনায়ক

খড়গপুর রেলওয়ে কোয়ার্টারে একটা ঘটনা ঘটল সে রাতে।গভীর রাতে তিনটি ধবধবে সাদা কী যেন দিব্যি হাঁটাহাঁটি করছে কোয়ার্টার প্রাঙ্গণে। এমন দৃশ্যে গা ছমছম করবে না কার? ‘অশরীরী’, ‘ভৌতিক’ ঘটনাটা দ্রুত চারদিক চাউর হতেও সময় লাগল না!

তিনটি ধবধবে সাদা বস্তু কে বা কারা ছিল জানেন? মহেন্দ্র সিং ধোনি ও তাঁর দুই বন্ধু! শান্ত, ধীরস্থির মেজাজের হলে কী হবে, ধোনির মাথায় এমন দুষ্টু বুদ্ধির কিন্তু অভাব ছিল না! কথা হলো, রেলওয়ে কোয়ার্টারে ধোনি কেন? আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগের কথা। ধোনি চাকরি করতেন রেলওয়েতে। ২০০১ থেকে ২০০৩—প্রায় দুই বছর চাকরি করেছেন ‘ট্রেন টিকেট ইন্সপেক্টর (টিটিই)’ হিসেবে। ধোনির পোস্টিং তখন পশ্চিমবঙ্গের খড়গপুর রেলওয়ে স্টেশনে (দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে)। এর এক বছর পরই জীবনে এল বড় একটা বাঁক। যে বাঁক এক ঝটকায় বদলে দিলে ধোনির পুরো জীবনকেই।

২০০৪-এর ডিসেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। প্রথম আলোচনায় এলেন পরের বছর বিশাখাপট্টনামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ১২৩ বলে ১৪৮ রানের ইনিংসের পর। ধোনি নিজের আগমনী জানান দিলেন উচ্চধ্বনিতেই! তারপর? অ-নে-ক কিছু! ২০০৭-এ ভারতকে জেতালেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ভারতের প্রথমবারের মতো ১ নম্বরে ওঠা তাঁর অধীনেই (নভেম্বর ২০০৯ থেকে আগস্ট ২০১১)। তাঁর নেতৃত্বেই ২৮ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত। টি-টোয়েন্টি ও ৫০ ওভার দুটি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব একমাত্র ধোনিই গায়ে মেখেছেন। ভারতকে সবচেয়ে বেশি ২৭টি টেস্টও জিতিয়েছেন তিনি।

অথচ একটা সময় ব্যাডমিন্টন ও ফুটবলেই মগ্ন ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের এ অধিনায়ক! খেলোয়াড়ি জীবনের শুরুর দিকে জেলা পর্যায়েও বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে এ খেলাগুলোই খেলেছেন নিয়মিত। ফুটবল দলে তাঁর ভূমিকা ছিল গোলরক্ষক হিসেবে। ক্রিকেটে আসার ঘটনাটাও চমকপ্রদ। তাঁর ফুটবল কোচই পাঠিয়েছিলেন স্থানীয় একটি ক্রিকেট দলের ‘খ্যাপ’ খেলতে। ক্রিকেটের প্রতি গভীর টান সৃষ্টি হয় রাঁচির কমান্ডো ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে (১৯৯৫-৯৮) খেলার সময়। দারুণ পারফরম্যান্সের পর ১৯৯৭/৯৮ মৌসুমে সুযোগ পেলেন ভিনু মানকড় ট্রফির অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার। এরপর জাতীয় দলে সুযোগ পেতে লেগে গেল আরও সাত বছর।

সমসাময়িক অন্য সতীর্থদের তুলনায় একটু দেরিতে অভিষেক হয়েছিল বলেই কি না, নয়-দশ বছরের অন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারটা সাজালেন অর্জনের পর অর্জনে। অধিকাংশ সময় কাটালেন দলের নেতৃত্ব দিয়ে। দলের প্রতি তাঁর নিবেদন প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন, ‘আমার স্ত্রীকে বলেছি, আমার জীবনে তাঁর অবস্থান তিনে। প্রথমে দেশ, দ্বিতীয় অবস্থানে বাবা-মা, এরপর স্ত্রী।’

এক সময়ের ‘রেলওয়ের টিটিই’ শুধু ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটার নেতৃত্বই দেননি; ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ভারত তো বটেই ক্রিকেটের সবচেয়ে ধনী খেলোয়াড়ের নামই ধোনি!

You Might Also Like