৪০ নয়, ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

জাভা সাগর থেকে তিনজনের মরদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নিখোঁজ বিমানের সন্ধানে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষ। এর আগে ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনীর মুখপাত্র মারাহান সিমোরাংকি ৪০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন।

তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সিমোরাংকির ঘোষণা নাকচ করে দেশটির অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা সংস্থার প্রধান বামবাং সোয়েলিসতিয়ো বলেন, ৪০ নয়, তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বিকেলের দিকে জাকার্তায় এক সংবাদ সম্মেলনে বামবাং বলেন, ‘আজ আমরা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এগুলো এখন যুদ্ধজাহাজ বাং তোমোতে আছে। মরদেহগুলোর মধ্যে দুটি নারীর এবং একটি পুরুষের।’

এর আগে দুপুরে যুদ্ধজাহাজে থাকা নৌরেডিও থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ইন্দোনেশিয়া নৌবাহিনীর মুখপাত্র মারাহান সিমোরাংকি এএফপিকে বলেছিলেন, জাভা সাগর থেকে ৪০টির বেশি মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। আর উদ্ধারকৃত লাশের সংখ্যা বাড়ছে। তবে পরে তিনি দাবি করেন, তাঁদের এক সহকর্মীর ভুলের কারণে এই ধরনের তথ্যবিভ্রাট হয়েছে।

গত রোববার ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়া শহর থেকে ১৬২ জন আরোহী নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল এয়ার এশিয়া ইন্দোনেশিয়ার ফ্লাইট কিউজেড ৮৫০১। ওই দিন ভোর ৬টা ২০ মিনিটে যাত্রাপথের প্রায় মাঝামাঝি গিয়ে নিখোঁজ হয় এটি। ওড়ার ঘণ্টা খানেক পর এয়ারবাস কোম্পানির এ৩২০-২০০ উড়োজাহাজটির সঙ্গে বিমান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে এটি থেকে কোনো বিপদসংকেত আসেনি।

বামবাং সোয়েলিসতিয়ো জাকার্তায় দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বোর্নিও দ্বীপের কালিমানতা প্রদেশের পাংকালান বান শহরের ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ থেকে উদ্ধারকর্মীরা সাগরতলে বিমানের আদলে একটি ছায়ার মতো জিনিস দেখতে পান। এ ছাড়া একটি বস্তু ভাসতে দেখেন। তাঁরা ধারণা করেন, ভাসমান ওই বস্তুটি একটি মৃতদেহ। এর পরপরই উদ্ধারকাজে নিয়োজিত সবাই সেই এলাকায় অনুসন্ধানে বেশি মনোযোগ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে সাগরে ভাসমান বস্তুর সেই ফুটেজ দেখানো হয়। টেলিভিশনে ওই ফুটেজ দেখে সুরাবায়া শহরে বিমানের নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনেরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় একজন অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে স্ট্রেচারে করে নিয়ে যাওয়া হয়।
এয়ার এশিয়ার অতিরিক্ত প্রধান নির্বাহী টনি ফারন্যানদেস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সুরবায়াতে যাওয়ার পথে তিনি তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘বিমানে থাকা যাত্রীদের পরিবারের জন্য আমার খুব কষ্ট হচ্ছে।’

You Might Also Like