মাটির নিচে হিটলারের গোপন পরমানু অস্ত্র কারখানা

অস্ট্রিয়ায় খোঁজ মিলল অ্যাডল্ফ হিটলারের গোপন অস্ত্র কারখানা। মাটির নিচে মুখবন্ধ সুড়ঙ্গের ভিতর লুকিয়ে রাখা এই কর্মশালাতেই তৈরি হয়েছিল প্রথম নাৎসি যুদ্ধজেট। আবার জার্মানির পতনের আগে এখানেই প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন হিটলার। অস্ট্রিয়ার পুরনো শহর সেন্ট জর্জেন অ্যান ডার গুসেন।

এখানে অতিরিক্ত তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের উপস্থিতি লক্ষ্য করে মাটির নিচে খনন চালানোর সিদ্ধান্ত নেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহে সহরের মাটি খুঁড়ে প্রায় ৭৫ একর জায়গা জুড়ে সন্ধান পাওয়া গেল একাধিক সুড়ঙ্গের জাল। সুড়ঙ্গের মধ্যে থেকে পাওয়া হেলমেট পরীক্ষা করে জানা গেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্ট্রিয়ার শহরের মাটির নিচে বিশাল কর্মযজ্ঞে হাত দিয়েছিল থার্ড রাইখ।

এই গুপ্ত পাতাল কর্মশালার সঙ্গে সরাসরি যোগ ছিল বি ৮ বার্গক্রিস্ট্যাল পাতাল কারখানার, যেখানে তৈরি হয়েছিল জার্মানির প্রথম যুদ্ধজেট মেশাস্মিট মি ২। আর এই কারখানাতেই তৈরি হওয়ার কথা ছিল হিটলারের প্রথম পারমাণবিক বোমা।

শুধু তাই নয়, গোপন এই কারখানায় কাজ করতে কাছের মাউথাউসেন-গ্যুসেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের অসহায় ইহুদি বন্দিদের কাজে নিয়োগ করা হত বলে মনে করছেন তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যান্ড্রু শ্যুলজার, যাঁর নেতৃত্বে থার্ড রাইখের গোপন ঘাঁটির সন্ধানে অস্ট্রিয়ায় চলেছে খননকাজ।

বস্তুত, বার্গক্রিস্ট্যাল এবং সদ্য আবিষ্কৃত কারখানাটি গড়ে তোলার কাজও এই বন্দি শিবিরের ৩,২০,০০০ সদস্যকে দিয়েই করানো হয়েছিল বলে মনে করছেন শ্যুলজার। তাঁর মতে, জার্মানির আত্মসমর্পণের পর বার্গক্রিস্ট্যালের কারখানায় তল্লাশি চালিয়েছিল মিত্রশক্তি ও রাশিয়ার বাহিনী। কিন্তু হিটলারবাহিনীর কৌশলে এতদিন পর্যন্ত অন্তরালেই রয়ে গিয়েছিল এই কর্মশালা। বিভিন্ন প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অবশেষে তার হদিশ পেয়েছেন গবেষকরা।

জানা গেছে, হিটলারের পারমাণবিক বোমা তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে তথ্যচিত্র তৈরির সময় বেশ কিছু তথ্যে আসে শ্যুলজারের হাতে। এর মধ্যে ছিল নাত্জিদের গোপন কারখানায় কাজ করতে আসা এক বন্দি পদার্থবিদের ডায়েরির কয়েকটি পাতা। এছাড়া কুখ্যাত এস এস সেনাধ্যক্ষ হ্যান্স কেমলারের অধীনে বহাল অয়্যান্য বন্দি বিজ্ঞানীদের সাক্ষ্যও তথ্য জোগায়। উল্লেখ্য, এই কেমলারই নাৎসি জমানার কুখ্যাত কনসেনট্রেশন ক্যাম্প আউশউইত্জ-এ গ্যাস চেম্বার ও বন্দিদের মৃতদেহ পোড়ানোর চুল্লি তৈরির নকশায় অনুমোদন দিয়েছিলেন।

জার্মানির মহাফেজখানার দস্তাবেজ হাতড়ে স্যুলজার জানতে পারেন, ১৯৪৪ সালের ২ জানুয়ারি মাউথাউসেন-গ্যুসেন কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের ২৭২ জন বন্দিকে সেন্ট জর্জেন অ্যান ডার গুসেন শহরে গুপ্ত গ্যালারি নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। তথ্য বলছে, সুড়ঙ্গ জান ও কারখানা তৈরি করতে গিয়ে প্রায় ২০ থেকে ৪০ হাজার শ্রমিক মারা যান। যুদ্ধের পর ১০০ কোটি পাউন্ড খরচ করে টানেলগুলি কংক্রিটের সাহায্যে বুজিয়ে দেয় অস্ট্রিয়া সরকার। কিন্তু তখনও এই কারখানার হদিশ মেলেনি।

কংক্রিটের চাঙড়, গ্র্যানাইটের স্ল্যাব এবং মাটির স্তর সরিয়ে সুড়ঙ্গজাল উদ্ধারের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন খননকারী দল। ইতিমধ্যে সেখান থেকে বেশ কিছু হিটলারের কুখ্যাত এস এস বাহিনীর হেলমেট খুঁজে পাওয়া গেছে বলে দাবি। তবে গত সপ্তাহে ঐতিহাসিক সৌধে খনন চালানোর অনুমতিপত্র জোগাড় করতে আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে।

You Might Also Like