শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী পালিত

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরগুলোতে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে বছরব্যাপী এসব অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

জাতীয় পর্যায়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসমূহের পক্ষ থেকেও এ সময় পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ইকরাম আহমেদ চৌধুরী ও জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক ওদুদুল বারী চৌধুরীর নেতৃত্বে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারিগণ শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ ছাড়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, কপিরাইট অফিস, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র ও সোনারগাঁও লোক ও কারুশিল্প ফাউণ্ডেশনের পক্ষ থেকে জয়নুল আবেদিনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয় ।

শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির অন্যতম একটি শক্তিশালী উপাদান হলো চিত্রশিল্প। এদেশের চিত্রশিল্পের পুরোধা ব্যক্তিত্ব শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। তাঁর হাত ধরে আমাদের চিত্রকলা যাত্রা শুরু করেছে, সমৃদ্ধ হয়েছে । এদেশের চিত্রকলাকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বসভায় স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

তাঁর কর্ম, সৃজনশীলতা, চেতনা ও জীবনদর্শনকে আমাদের মধ্যে ধারণ করতে হবে, লালন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তাঁর অসাধারণ শিল্পকর্মগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে, যাতে তারা অনুপ্রাণিত ও উদীপ্ত হতে পারে।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শিল্পাচার্যের শিল্পচর্চা ছিল বৈচিত্রময়। পারিপাশ্বিক বাস্তবতার পাশাপাশি তিনি রং-তুলির ছোঁয়ায় এদেশের মানুষ, প্রকৃতি ও লোকজ সংস্কৃতিকে ক্যানভাসে তুলে এনেছেন এক অনন্য দক্ষতায়।

স্বাধীনতার পর তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সুহৃদ হিসেবে তাঁর পৃষ্টপোষকতায় সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউণ্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, নানাবিধ উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে এদেশের সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন, বিকাশ ও উন্নয়নে তিনি নিবেদিত ছিলেন সারাজীবন।

মন্ত্রী বলেন, শুধু কিছু বিশেষণ দিয়ে তাঁর যথার্থ মূলায়ন করা যাবে না। তাঁর চেতনা, কর্ম ও আদর্শকে কতটা আমরা ধারণ করতে পারছি, কর্মে প্রয়োগ করতে পারছি সেটাই বড় কথা। তাঁর দেখিয়ে যাওয়া পথে আমরা যতবেশী অগ্রসর হতে পারবো ততবেশী তাকে মূল্যায়ণ করা হবে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী জয়নুলের কর্ম, চেতনা ও জীবনদর্শনকে সবার মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান।

জয়নুল সম্মাননা : শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ভারতের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পী অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ শেখ এবং বাংলাদেশের শিল্পি অধ্যাপক সমরজিৎ রায় চৌধুরী ‘জয়নুল সম্মানা ’ লাভ করেছেন।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদ এই সম্মানা প্রদান করে। চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাঁদের এই সম্মাননা প্রদান করা হয় ।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সহধর্মিনী মিসেস জাহানারা আবেদিন এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী শাহাবুদ্দিন এবং শিল্পী রফিকুন নবি।

You Might Also Like