মামলা করছেন জিহাদের বাবা

রাজধানীর শাহজাহানপুরে পানির পাম্পের পাইপে পড়ে নিহত শিশু জিহাদের বাবা নাসির ফকির অভিযোগ করেছেন, উদ্ধারকাজে গাফিলতির কারণেই তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তিনি এর বিচার চান। এজন্য দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান তিনি।

আজ শনিবার রাতে শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে এক প্রতিবেশির বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে নাসির ফকির ওই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পাইপের ভেতরে কেউ নেই বলার পর থেকেই উদ্ধার তৎপরতা কমতে থাকে। যদি প্রতিমন্ত্রী এ কথা না বলতেন, তাহলে আমার ছেলেকে জীবিত ফিরে পেতাম।

নাসির ফকির বলেন, লাশ দেখে মনে হয়েছে, আমার ছেলে আজ সকালেই মারা গেছে। কাল রাতে তাকে জীবিত উদ্ধার করা যেতো। উদ্ধার তৎপরতায় গাফিলতির কারণেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

এ সময় শাহজাহানপুর থানার পুলিশের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন নাসির। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে উদ্ধার কাজ চলার সময় মিডিয়া বিরক্ত করতে পারে বলে নিরাপত্তা দিতে পুলিশ আমাকে শাহজাহানপুর থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে জিহাদ পাইপে পড়েনি বলে বক্তব্য দিতে পুলিশ আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে।

পুলিশের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বলে জানান নাসির। তিনি বলেন, সেই পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে বলেন, তোমার ছেলে পাইপে পড়ে যায়নি। তুমি তাকে লুকিয়ে রেখেছো। আমি তাকে বলি, আমি কেন নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রাখবো! তখন তিনি বলেন, তাহলে অন্য কেউ লুকিয়ে রেখেছে, অপহরণ করতে পারে। আমি তাকে তবু বলতে থাকি, আমি একজন গরিব মানুষ- আমার ছেলেকে কেউ কেন অপহরণ করবে। পুলিশ কর্মকর্তা তখন আবারো বলেন, তাহলে তুমিই তাকে লুকিয়ে রেখেছো।

নাসির ফকিরের শ্যালক ও জিহাদের মামা মনিরও পুলিশের বিরুদ্ধে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জিহাদের বাবাকে না পেয়ে বিভিন্ন থানায় খোঁজ নিতে গিয়েও কোনো তথ্য পাইনি।’

নাসির ফকিরের খোঁজ নিতে যাওয়ায় জিহাদের আরেক মামা মঞ্জুকেও স্থানীয় ফাঁড়ির পুলিশ বেধড়ক মারপিট করেছে বলেও দাবি করেন মনির।

নাসির ফকির বলেন, আজ বিকেল চারটার দিকে আমাকে জানানো হয়, জিহাদ মারা গেছে। তার লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ ফেরত দেয়া হবে, কিন্তু কখন ময়নাতদন্ত হবে তা কেউ জানাননি।
তবে নিজের শিশুপুত্রের ময়নাতদন্ত করাতে চান না নাসির। তার আকুতি, ময়নাতদন্ত ছাড়াই জিহাদের লাশ দেয়া হোক। তাকে শরীয়তপুরের গোসাইহাটের শীতলঘাটি এলাকায় দাফন করা হবে।

নাসির ফকির জানান, তার ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন তিনি।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে মাঠসংলগ্ন পানির পাম্পের পাইপে পড়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালায় ফায়ার সার্ভিস। রাতভর ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হয়। শনিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস শিশুটি পাইপে নেই বলে ঘোষণা দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করার ২ মিনিট পরই উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। উদ্ধারের পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

You Might Also Like