গাজীপুরে ১৪৪ জারী : বিএনপি’র হরতাল, সারা দেশে বিক্ষোভ

গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পূর্বনির্ধারিত জনসভাস্থলসহ জেলাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। একই স্থানে ছাত্রলীগ সমাবেশ ডাকায় কয়েক দিন ধরে চলা টান টান উত্তেজনার মধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন বাংলাদেশ সময় গত শুক্রবার দুপুরে ১৪৪ ধারা জারির ঘোষণা দেয়। এ দিকে ১৪৪ ধারা জারি করে খালেদা জিয়ার সমাবেশ বানচাল করার অভিযোগে জেলা বিএনপি (বাংলাদেশ সময়) আজ শনিবার গাজীপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে। একই সাথে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ২০ দলীয় জোট।

দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে গতকাল দুপুর থেকেই সমাবেশস্থল ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠসহ সর্বত্র পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুরো জেলায় বিরাজ করছে থমথমে অবস্থা। জনমনে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় চলানো হয়েছে পুলিশি অভিযান।

বিএনপি-প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন জেলা সফরের অংশ হিসেবে বেশ কিছু দিন আগেই গাজীপুরে জনসভার সিদ্ধান্ত নেয় ২০ দলীয় জোট। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজমাঠে সমাবেশের অনুমতিও পায় তারা। কিন্তু কয়েক দিন আগে তারেক রহমানের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার জনসভা ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামে গাজীপুর ছাত্রলীগ। একই স্থানে একই দিন সমাবেশের কর্মসূচি দেয় তারা। এর ফলে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। মঙ্গলবার রাতে কলেজমাঠে বিএনপির লাগানো ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুর করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। মাঠ দখলে নিয়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে দফায় দফায় মিছিল চালিয়ে যায়। মাঠের ভেতরে শামিয়ানা টাঙিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের ব্যানার ঝুলিয়ে রাখে ছাত্রলীগ। তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির জন্য বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়াকে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা এবং দল থেকে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে আলটিমেটাম দেয়। ছাত্রলীগের এ ঘোষণাকে সমর্থন দেয় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ।

অন্য দিকে প্রশাসন থেকে অনুমতি না পেলেও যেকোনো মূল্যে গাজীপুরের জনসভা করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গাজীপুর জেলার নেতাসহ দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। ঘণ্টাব্যাপী পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, খালেদা জিয়া গাজীপুর যাবেন এবং যেখানে বাধা দেয়া হবে সেখানেই জনসভা হবে। এমনকি গাড়িবহরে হামলা হলে প্রতিরোধ করা হবে।

শুক্রবার দুপুরে অনড় অবস্থানের কথা আবারো ব্যক্ত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গাজীপুর জেলা বিএনপি সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, ‘আমারা যেকোনো মূল্যে জনসভা করব। বাধা এলে প্রতিরোধ হবে। কিন্তু আমরা পিছপা হব না।’

fakhrul_islam_6এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও টানটান উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার সকালে গাজীপুর জেলা সার্কিট হাউজে আইন শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো: হারুন অর রশিদ, র‌্যাব, এনএসআই, ডিজিএফআই’র কর্মকর্তারাসহ স্থানীয় প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসক নুরুল ইসলাম জানান, গাজীপুর মহানগরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি বা ছাত্রলীগ কাউকেই জনসভা করার অনুমতি দেয়া হয় নি। একই স্থানে একই দিন উভয় পক্ষ সভা সমাবেশ আহবান করায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। তাদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় বিষয়টি সুরাহা হয়নি। ফলে জন জীবনে বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো কিছু আমরা মেনে নেবা।

এর পরপরই জনসভাস্থলে শুক্রবার বেলা ২টা হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোস্তফা কামাল ১৪৪ ধারা জারির এ নির্দেশ দেন। অপর দিকে গাজীপুর জেলা পুলিশ এক আদেশে একই সময় হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত জেলার সর্বত্র সব ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

দুপুরে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো: হারুন অর রশিদ উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগ ঘোষণা দিয়েছে তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে কটূক্তি করেছে, তার জন্য তিনি ক্ষমা না চাইলে এবং বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে গাজীপুরের যেখানে খালেদা জিয়া সভা সমাবেশ করবেন সেখানেই তারা বাধা দেবে। সে ক্ষেত্রে আমরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এই আশঙ্কায় কোথাও সমাবেশ করতে দিতে পারি না।

তিনি বলেন, আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম দু’পক্ষই সমঝোতায় আসবে। তারা যেহেতু কোনো সমঝোতায় হোক আমরা পুলিশ প্রশাসন সেটা হতে দিতে পারি না। এ কারণে সবার সাথে কথা বলে আমরা চিন্তা করেছি এখানে কোনো পক্ষকেই জনসভা করতে দেয়া ঠিক হবে না।

দুপুর থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ জারির ব্যাপারে মাইকিং করা হয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশি অভিযান : আটক ৯

নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা পরিকল্পনার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ গাজীপুর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, পূবাইল ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হারুন অর রশিদ, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ শাখার সদস্য আলমগীর হোসেন, শিশির চৌধুরী, ইজ্জত আলী ও রনি মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৯ নেতাকর্মীকে জেলার বিভিন্নস্থান থেকে আটক করেছে। এ ছাড়া পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতার খোঁজে বাসায় বাসায় অভিযান চালাচ্ছে।

বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ডা: মাজহারুল আলম জানান, শুক্রবার ভোরে তার বাসাসহ পৌর বিএনপির সভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননী, জাসাস নেতা সৈয়দ হাসান সোহেলসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাসায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

পুলিশ মোতায়েন : জেলা শহর, বিএনপি কার্যালয়, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়কে শুক্রবার সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমাবেশস্থলসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই জল কামান ও অ্যাপাচিসহ পুলিশের বিভিন্ন যানবাহন টহল দেয়।

জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল করিম রেজা জানান, শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় কলেজ মাঠে পাঁচ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মিছিল-সভা : বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কটূক্তির প্রতিবাদে এবং ভাওয়াল কলেজ মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে গতকাল সকাল থেকেই ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী মহিলা লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজসংলগ্ন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, চান্দনা চৌরাস্তাসহ গাজীপুর শহর এলাকায় সমাবেশ করেন।

khaleda-zia-szhবেলা ১১টায় কৃষকলীগের নেতাকর্মীরা চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকা থেকে একটি মিছিল বের করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করেন। দুপুর ১২টায় যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হীরা সরকারের নেতৃত্বে, পৌনে ১টায় গাজীপুর জেলা মহিলা লীগের সভাপতি দিলরুবা ফওজিয়ার নেতৃত্বে এবং  বেলা ১টায় গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দ্বীপের নেতৃত্বে একই মহাসড়কে পৃথক মিছিল বের হয়। এ সময় তারা সভাস্থল ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। বিকেলে গাজীপুর শহর শ্রমিক লীগের উদ্যোগে শহর শ্রমিক লীগের একটি মিছিল গাজীপুর শহরের রাজবাড়ী সড়ক এলাকা প্রদক্ষিণ করে জেলা কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে।  তবে গতকাল কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছায়েদুল আলম বাবুল জানান, জনসভার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের আন্দোলনকে ভয় পেয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে একই স্থানে ছাত্রলীগ দিয়ে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে।

গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দীপ বলেন, আমরা ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি জানতে পেরেছি।

১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের আহ্বান মেয়র মান্নানের : ১৪৪ ধারা জারির পর বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও গাজীপুর সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলন করে সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।  টঙ্গীতে গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সালাহউদ্দিন সরকারের বাসায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এম এ মান্নান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সভাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় আমরা মর্মাহত। প্রশাসন একটি গ্রুপকে সহযোগিতা করতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। জনসভা করার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনো প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে আমাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হোক।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ হাওলাদারসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের  নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের বিবৃতি : গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ এস এম সানাউল্লাহ ও সেক্রেটারি মো: খায়রুল হাসান এক বিবৃতিতে বলেন,  গাজীপুরে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের সমাবেশ বানচাল করতে ছাত্রলীগকে লেলিয়ে দিয়েও কোনো ফায়দা হবে না বুঝতে পেরে প্রশাসনকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।  তারা বলেন,  পায়ের তলায় মাটি নেই বুঝতে পেরে অবৈধ সরকার আইযুব-ইয়াহিয়া-এরশাদের পথ ধরেছে। এসব করে গণবিচ্ছিন্ন সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।

সিনিয়র নেতাদের সাথে খালেদা জিয়ার বৈঠক, হরতাল আহ্বান : গাজীপুরে জরুরি অবস্থা জারির পর গত রাতে সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, আ স ম হান্নান শাহ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানসহ কেন্দ্রীয় ও গাজীপুর জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে রাত ৯টায় এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার জনসভাস্থলে ১৪৪ ধারা জারির করার তীব্র প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, অবৈধ সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে বিরোধী দলের সব ধরনের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে।

এ সময় গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন আজ গাজীপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি মির্জা ফখরুল আজ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচি দেন।

You Might Also Like