ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নিউ ইয়র্কে সংবর্ধিত

পরান চৌধুরী : যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব, সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনকে নিউ ইয়র্কে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় নিউইর্য়কে সফররত ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নির্বাচনী এলাকা চাটখিল-সোনাইমুড়ীবাসীগণ এই গণসংবর্ধণার আয়োজন করেন।

সংবর্ধণা সভায় ব্যারিস্টার খোকন বলেছেন, এমুহূর্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ গোপালগঞ্জ জেলার কয়েকটি আসন ছাড়া সারাদেশে একটি আসনও পাবে না। দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখান করেছে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা পতন আন্দোলন শুরু হবে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী অথবা মার্চ মাসের মধ্যে ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন হবে।

নিউইর্য়কের বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলীন চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডের গ্রীন হাউজ রেণ্টুরেন্টে এই গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট মজিবুল হক চৌধুরী। সাবেক ছাত্রনেতা নুর আলম ও রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী যৌথভাবে অনুস্টানটি পরিচালনা করেন। চাটখিল-সোনাইমুড়ীবাসীসহ বৃহত্তর নোয়াখালী ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃবৃন্দদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আবু সুফিয়ান, আবুল কাসেম, ঢাকা সিটির সাবেক কমিশনার খোকন, আলী ইমাম সিকদার, কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, গোলাম হোসেন, ছালেহ আহমেদ মানিক, নাছিম আহমেদ, এএসএম রহমত উল্যাহ ভূইয়াঁ, ফখরুল ইসলাম, পরান চৌধুরী, হারুন অর রশিদ, মো: শরীফ হোসেন, আবুল কাসেম, কামাল হোসেন, নোমান সিদ্দিকী,জাহাঙ্গীর হোসেন সোহরাওয়ার্দী প্রমুখ।

Mahbub_1সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, জাতি আজ ত্রুান্তিকাল অতিক্রম করছে। স্বৈরশাসনের কবল থেকে জাতিকে মুক্ত করতে হলে জাতীয়তাবাদী শক্তির সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারী প্রহসনের নির্বাচনে ভোটাদের উপস্থিতি ছিল ৫%-এর কম। মিডিয়ার কল্যাণে বিশ্ববাসী মানুষ শুন্য ভোট কেন্দ্র কুকুর ঘুরাঘুরি করতে দেখেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগনের কাছে ভোটের জন্য গেলে সাড়া পাবে না বলেই সশস্ত্র বাহিনীর উপর ভর করছে। জনগণই ক্ষমতার উৎস। গণতন্ত্রের এই বিশ্বাসকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ মনে করছে ‘সশস্ত্র বাহিনীই ক্ষমতার উৎস’।

এখন বিজয়ের মাস। দেশের মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশে কি এখন সত্যিকার গণতন্ত্র আছে? ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের আনন্দের মধ্যেও সাধারণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, কার স্বার্থে কিসের জন্য সরকার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনছে সরকার। শুধু কি কমিশন খাওয়ার জন্যই এ অস্ত্র কিনা। তিনি বলেন’ সরকারের বেপরোয়া লুণ্ঠন আর দুর্নীতি মানুষ দিশেহারা। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমছে অথচ আমাদের দেশে বাড়ছে। শেয়ার মার্কেট, বিদ্যুৎ, হলমার্ক, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন খাতে সরকার কোটি কোটি টাকা লুঠতরাজের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, দুদুক অফিসে সুন্দর একটা বাথরুম এবং গোসলখানা আছে। এতে সরকারী লোকদের আইওয়াশের জন্য ধরে এনে আবার পুতপবিত্র করে ছেড়ে দেন। আর বাকী যত দোষ সব বিরোধী দলের।

তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মধ্যে আনন্দের কিছু নেই। এমন নির্বাচনের এমপি-মন্ত্রী পরিচয় দিতে লজ্জা হওয়া উচিত। অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছেন কেন? বিরোধী দলের উপর নিযার্তন চালিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে এই সুযোগ আর কখনো দেয়া হবেনা। আগামী ২৭ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা পতন আন্দোলন শুরু হবে। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারী অথবা মার্চ মাসের মধ্যে ফ্যাসিষ্ট সরকারের পতন হবে। গণতন্ত্র হত্যাকারী ফ্যাসিষ্ট বাকশালী সরকারকে হঠানোর আন্দোলনে প্রবাসীদের শরীক হওয়ার আহবান জানান তিনি।

তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিরুদ্ধে অহেতুক মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্য তার নিজের নয়। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের লেখা বই এর তিনি পড়ছেন মাত্র। তিনি বলেন, লিগ্যাল নোটিশ মৃত্যু ব্যক্তিদের জন্য নয় এবং মৃত্যু ব্যক্তিদের মান হানি হয় না। আওয়ামী লীগ জেনেও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অহেতুক মামলা দিচ্ছে আর আদালত ভয়ে মামলা গুলো নিচ্ছে। সুতারাং তারেকের বিরুদ্ধে দেয়া মামলা কিছুই হবে না।

ব্যারিষ্টার মাহবুব নির্বাচনী এলাকাবাসীসহ প্রবাসীদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,মঈনুদ্দীন আর ফখরুদ্দীনের ষড়যন্ত্র করার পরও চাটখিল-সোনাইমুড়ীবাসী আমাকে নির্বাচিত করেছেন। কারণ অত্র এলাকার মানুষ বেগম খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে শক্তিশালী হিসেবে গ্রহন করেছে। তিনি বলেন, আমি সব সময় এলাকাবাসীর সাথে যোগাযোগ রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। আওয়ামী লীগের অত্যাচারে সারা দেশের মতো সোনাইমুড়ী-চাটখিলবাসীও অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, এ সরকারের আমলে আমার নির্বাচনী এলাকায় এ পযর্ন্ত ১১ জন লোককে হত্যা করেছে এ আওয়ামী লীগ। শতশত লোক বিকাঙ্গ অবস্থায় মানবতর জীবন-যাপন করছে। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, মানুষের কল্যাণে আমার রাজনীতি করি। আমি সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহন করে ব্যারিষ্টার ডিগ্রী নিয়েছি এবং জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছি। আমার দুই সন্তানও ব্যারিষ্টার। আমার চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু নেই। আমি মানুষের খেদমত করতে চাই। তিনি বলেন, আমি ও আমার পরিবারের কাছে অবৈধ সম্পদ যেন না আসে এবং মৃত্যুর পূর্ব পযর্ন্ত হালাল ভাবে জীবন অতিবাহিত করতে পারি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি। তিনি উপস্থিত সকলের নিকট দোয়ার আবেদন জানান।

You Might Also Like