সন্ত্রাসীদের বিচার হবে সামরিক আদালতে: নওয়াজ

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত মামলাগুলো সামরিক আদালতে বিচার করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। পেশোয়ারে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত স্কুলে তালেবান হামলায় ১৩২ শিশুসহ ১৪৯ জন নিহতের পর এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে পাক সরকার।

 

বুধবার রাতে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে এ সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিচার ত্বরান্বিত করতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পরিচালিত বিশেষ আদালত স্থাপন করা হবে। আগামী দুই বছরের জন্য ওই আদালত পরিচালিত হবে।’ এর জন্য প্রচলিত আইনে পরিবর্তন আনা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

আর্মি পাবলিক স্কুলে তালেবান হামলার ঘটনা উল্লেখ করে নওয়াজ শরীফ বলেন, ‘পেশোয়ারে হামলার ঘটনা জাতিকে শোকাহত করেছে। আমাদের শিশুদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।‘

পেশোয়ারে সন্ত্রাসী হামলা পাকিস্তানকে বদলে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান বর্তমানে এক বিশেষ পরিস্থিতির মুখোমুখি। আর সেজন্য বিশেষভাবে তা মোকাবেলা করতে হবে।  এ মুহূর্তে আমরা যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে না পারি তবে, ইতিহাস কখনোই আমাদের ক্ষমা করবে না।‘
এর আগে সন্ত্রাস দমনে জাতীয় অ্যাকশন প্ল্যান তৈরির বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নওয়াজ শরীফ। বৈঠকে সব দলের সদস্যরাই এই বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হন।

বৈঠকের পর সামরিক আদালতের ব্যাপারে বিস্তারিত না জানালেও এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে উল্লেখ করে নওয়াজ শরীফ।

 

প্রকাশিত ‘প্ল্যান অব অ্যাকশন’-এ সন্ত্রাসবাদীদের খবর ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও রয়েছে। এ ছাড়া তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংসের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন নওয়াজ।

এদিকে, বিরোধী দলীয় নেতা সাইয়েদ খুরশিদ আহমদ শাহ বলেছেন, সামরিক আদালত দুই বছরের জন্য স্থাপন করা হতে পারে। এই আদালতে কেবল সন্ত্রাসীদের বিচার করা হবে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই আদালত ব্যবহৃত হবে না।

 

গত ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের পেশোয়ারে সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে তালেবান হামলায় ১৪৯ জন নিহত হয়। বর্বরোচিত ওই হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ গত সপ্তাহে মৃত্যুদণ্ডের ওপর থেকে স্থগিতাদেশ তুলে নেন। এরপর এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

You Might Also Like