শিগগিরই দেশে ফিরে জনগণের সর্বাত্মক আন্দোলনে শরিক হবেন সাদেক হোসেন খোকা

চিকিৎসা শেষে শিগগিরই দেশে ফিরবেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের সর্বাত্মক আন্দোলনে শরিক হবেন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা । গত রোববার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, সরকারের মামলা-হামলার ভয়ে নয়, বরং ক্যানসারের চিকিৎসা গ্রহণের জন্যই তিনি দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতে শিগগিরই দেশে ফিরে পুরো মাত্রায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তবে তাঁর অবস্থার দ্রুত উন্নতি হচ্ছে বলে চিকিৎক সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আগমনের পর এ প্রথম প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন বিএনপির এ নেতা। গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। কেমোথেরাপি গ্রহণসহ চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার কারণে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।
রোববার নিউ ইয়র্কে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। উল্লেখ্য শিকাগো সিটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলেন তারা। সাদেক হোসেন খোকা সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিথি হিসেবে। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জিয়া উদ্দিনের সমালোচনা করে খোকা বলেন- জিয়া’র নামে ‘ওয়ে’ হওয়ার বিপক্ষে আপনি সরকারি চাকরি করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেসব চিঠি পাঠাচ্ছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রদূতকে সরকারি তাঁবেদারি না করার পরামর্শ দেন খোকা। তিনি বলেন, জিয়ার নামে বদনাম করে তার সুনাম ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। এটা মামলার রায়েই প্রমাণ হয়েছে। আদালত তার নামকরণ রাখার পক্ষেই রায় দিয়েছে।

Khoka1এ সময় তিনি সমপ্রতি লন্ডন সফরকালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তবে তার চিকিৎসার অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার। তিনি জানান, কিডনি ক্যান্সারে আক্রান্ত সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসা নিচ্ছেন ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং হসপিটালে। সেখানে তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। প্রথম ধাপের কেমোথেরাপি শেষ হলে চিকিৎিসকের পরামর্শ সাপেক্ষে তিনি দেশে ফিরে যাবেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাদেক হোসেন খোকা জানান, সমপ্রতি লন্ডন সফরকালে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে তার। দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকারকে বিদায় করা সম্ভব হবে বলে তারা একমত হয়েছেন। সে কারণে চিকিৎসকের পরামর্শের ভিত্তিতেই শিগগিরই দেশে ফিরে সর্বাত্মক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে জিল্লুর রহমান ও সোলায়মান ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জিয়াউর রহমানের নামে সড়কের নামকরণের অন্যতম উদ্যোক্তা ও শিকাগো সিটির কাউন্সিলম্যান শাহ মোজাম্মেল নান্টু এতে বক্তব্য দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়েস স্টেটের শিকাগো শহরে ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’র বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কর্তৃক মামলা করে হেরে যাবার পরে নিউইয়র্কে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আদালত নাম বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়ে উল্লেখ করে, জিয়া’র নামে ‘ওয়ে’ করা যুক্তিযুক্ত হয়েছে। ওয়ে’র উদ্যোক্তা ও প্রস্তাবক শাহ মোজাম্মেল নান্টু সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে আরো বলেন, আওয়ামী লীগই বাংলাদেশের শেষ সরকার না। এর পরেও অন্য দল সরকার গঠন করবে। সরকারি চাকরি করে কেউ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে জিয়াউর রহমানের নামে বদনাম ছড়ালে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে না।
শাহ মোজাম্মেল নান্টু বলেন, আওয়ামী লীগ ও ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূত অনেক চেষ্টা করেছেন যাতে নামটি না থাকে। কিন্তু আদালত শেষ পর্যন্ত অনুধাবন করেছে যে, জিয়া বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তাই তার নামে ‘ওয়ে’ করা আইনসঙ্গত।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা জিল্লুর রহমান জিল্লু ও যুবদলের সহ-সভাপতি আতিকুল হক আহাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি সাদেক হোসেন খোকা ছাড়াও যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন।
তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক বীর সেনা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনেই বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল। আমিও তার ঘোষণা শুনেই দেশ স্বাধীনের মহান যুদ্ধে গিয়েছিলাম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন- যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা সোলায়মান ভূঁইয়া, গিয়াস উদ্দিন, এবাদ চৌধুরী, দুলু মিয়া, ডেইজী বেগম, যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের প্রেসিডেন্ট জাকির এইচ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহম্মেদ, মিজানুর রহমান মিজান, আমানত উল্লাহ আমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৪ সেপ্টেম্বর (রবিবার) ইলিনয় রাজ্যের শিকাগো সিটিতে ‘অনারারি জিয়াউর রহমান ওয়ে’ নামে এ রাস্তাটির উদ্বোধন করা হয়। বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে সড়কটির নামকরণের উদ্বোধন করেন কাউন্সিলম্যান জো মুর। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করেন চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সচিব, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী ও তারেক রহমানের বিশেষ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।

 

You Might Also Like