স্টকহোম দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

জামান সরকার, হেলসিংকি : গত ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ দূতাবাস, স্টকহোম কর্তৃক যথাযথ মর্যাদা, উদ্দীপনা ও ভাব-গাম্ভীর্যে ৪৪তম মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়। এ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সুইডিশ অতিথি অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র কুরআন তিলওয়াত, বাণী পাঠ ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচিতে আরো অন্তর্ভুক্ত ছিল উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রতীকী স্মৃতিসৌধে পুষ্প-স্তবক অর্পণ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, রাষ্ট্রদূতের স্বাগত বক্তব্য, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সৌজন্য উপহার প্রদান এবং নৈশভোজ।

রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত বাণী পাঠ করেন। অতঃপর উপস্থিত সূধী-সমাবেশ, শিল্পীবৃন্দ ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ-এর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। এবারের কর্মসূচীতে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দের বিশেষ পরিচিতি ও স্মৃতিচারণ এবং রাষ্ট্রদূত কর্র্তৃক তাদেরকে সৌজন্য পুষ্পমাল্য প্রদান ও প্রতীকী জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে সকল উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কর্র্তৃক পুষ্প-স্তবক অর্পণ। বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ কর্তৃক মহান মুক্তিযুদ্ধের আগুনঝরা দিনগুলোতে প্রত্যক্ষ সমর সংগ্রামের টুকরো টুকরো স্মৃতিচারণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দর্শকবৃন্দ করতালি দিয়ে তাদেরকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রদূত মোঃ গোলাম সারোয়ার স্বাগত বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান মুক্তিযুদ্ধে দিক-নির্দেশনা ও অতুলনীয় নেতৃত্বের কথা তুলে ধরে তিরিশ লাখ বীর শহীদ, প্রত্যক্ষ সমর সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা, দু’লাখ মা-বোন যাদের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের একটি পতাকা, তাদের অতুলনীয় অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস রচনার নিমিত্ত আমাদের যে সব বীর মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে আছেন, তাদের স্মৃতি-কথা পথ-নির্দেশক হতে পারে। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যূদয় যে সঠিক ছিল এবং সে সময়ে কতিপয় বিশ্বনেতৃত্বের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতি নেতিবাচক মন্তব্য যে অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণ ভুল ছিল তা আজ প্রমান হয়েছে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঈর্ষনীয় সাফল্যে, রাষ্ট্রদূত গোলাম সারোয়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। বক্তব্যের সমাপান্তে আগামী ১৮ই ডিসেম্বর ‘আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস’-কে সামনে রেখে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অসামান্য অবদানের প্রশংসা করে স্বদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য তিনি উদাত্ত আহবান জানান। তিনি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীদের বিনিয়োগ বিদেশী  উদ্যোক্তাদেরকে আকৃষ্ট করবে যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পরিসর উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করবে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পী এবং সুইডিশ কোমলমতি শিশুদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই শিল্পী ও কলা-কুশলীবৃন্দের গান, কবিতা ও নৃত্য-এর পরিবেশনা প্রাণভরে উপভোগ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হলে, সবাই দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশগ্রহণ করেন।

You Might Also Like