সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কার তেলবাহী ছিল না

সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কারটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ছিল না। এ জন্য অল্প আঘাতে সেটি ফেটে যায়। অনুমতি ছাড়াই ওই ট্যাঙ্কার তেল বহন করছিল। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গঠন করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, তদন্ত কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগের নয় সদস্যের সঙ্গে আরও চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন ১৩ সদস্যের কমিটির প্রত্যেকের মতামত পাওয়ার পর আগামী রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়েছে বলে কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব নুরুল করিম জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তেলের দূষণের কারণে শ্যালা নদীতে কোনো জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ধরনের ঘটনা এর আগে ঘটেনি। ফলে ক্ষতি নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ক্ষুণু হতে পারে এমন নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রথমবারের মতো এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তেল উত্তোলনের কোনো কিছুই নেই বাংলাদেশের। এ অবস্থা যাতে ভবিষ্যতে না হয়, সে জন্য তেল উত্তোলনে কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে সুপারিশে।

তিনি বলেন, তেল দূষণের কারণে যতটা পরিবেশ দূষণের কথা ভাবা হয়েছিল, ততটা হয়নি। জলজ প্রাণীরা আবার আগের জায়গায় ফিরে এসেছে।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সুন্দরবনে যে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবি হয়েছে, তা বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নগণ্য। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক বড়। এ দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমরা বসে নেই। যে যার অবস্থান থেকে কাজ করছে।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সুন্দরবনে তেলবাহী ট্যাঙ্কারডুবির ঘটনায় শুধু সরকার নয়, বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ বাংলাদেশকে সহায়তা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল না করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে তা চলাচল করছে। নৌযান চলাচলের জন্য দুটি বিকল্প পথ করার কথা থাকলেও তা এখনও করা যায়নি। মন্ত্রী আরও বলেন, বিদেশিদের সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন। এ জন্য ইআরডি কাজ করছে। যেটা তেল বহনকারী ট্যাঙ্কার নয়, সেটাই তেল বহন করছে। তিনি বলেন, নৌ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া উচিত।

You Might Also Like