ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে হত্যা: গ্রেফতার ২

কাপ্তাইয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই তরুণকে গ্রেফতার করেছে কাপ্তাই থানা পুলিশ।

বুধবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ওই দুই তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো কাপ্তাই চিৎমরম মুসলিমপাড়া এলাকার মো. রানা (১৯) এবং একই এলাকার নেজাম উদ্দিন (১৯)।

গ্রেফতারকৃতরা ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছবিকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে জবাই করে হত্যা করেছে বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

কাপ্তাই থানার এসআই কামাল উদ্দিন গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃত রানা বুধবার রাঙ্গামাটি আদালতে এই হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙ্গামাটি আদালতের আইনজীবী হ্লা থোয়াই মারমা।

কাপ্তাই থানার এসআই কামাল উদ্দিন জানান, গ্রেফতারকৃত রানা ও নেজাম উদ্দিন স্কুলছাত্রী ছবি মারমাকে জবাই করে হত্যা করার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে রানা। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ছবি মারমা দুপুরে একাকি কাপ্তাইয়ের ব্যাঙছড়ি এলাকায় দুই নম্বর টাওয়ারের কাছে নিজেদের জুম খেতে কাজ করতে যায়। একই সময় ওই এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যায় ব্যাঙছড়ি মুসলিমপাড়া এলাকা জনৈক মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মো.রানা।

ছবিকে একাকি পাহাড়ে কাজ করতে দেখে তাকে প্রথমে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে রানা। এই সময় রানা তার অপর বন্ধু নেজাম উদ্দিনকেও ডেকে নেয়। তারা দুইজন পরিকল্পনা করে একজনের পর একজন ছবি মারমা ধর্ষণ করবে। একজন যখন ধর্ষণ করবে অন্যজন তখন পাহারায় থাকবে। এই পরিকল্পনা মতে রানা প্রথমে ছবি মারমাকে পাহাড়ের ওপর ঝোঁপের মধ্যে নিয়ে যায় এবং নেজাম উদ্দিন তখন পাহারা দিতে থাকে। ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে ছবিকে ধর্ষণের চেষ্টা করতে থাকলে ছবির চিৎকার এবং বাধা দেওয়ায় ধর্ষণ করতে ব্যর্থ হয় রানা। এই সময় ব্যর্থ হয়ে পাহারায় থাকা নেজামকেও ডেকে নেয় রানা। এই সময় ছবিকে গলায় ধারালো দা ধরে রাখে একজন, অপরজন ছবিকে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টা করতে থাকে। ছবি মারমা বাধার কারণে গলায় দা ধরে রাখার পরও ধর্ষণে ব্যর্থ হয় ওই দুই তরুণ।

তারা অনেক চেষ্টার পরও ধর্ষণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক পর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে দেয় দ্জুন মিলে। ছবির মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে ঝোঁপের মধ্যে লাশ ফেলে পালিয়ে যায় দুই তরুণ।

কাপ্তাই থানার এসআই কামাল উদ্দিন জানান গ্রেফতারকৃত দুই হত্যাকারীর মধ্যে রানাকে ঘটনার দিনই সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়েছিল। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করার পর বুধবার দুপুরে তাকে রাঙ্গামাটি আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। আদালতে সে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ছবিকে গলা কেটে হত্যা করার ব্যাপারে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

অপরদিকে রানার স্বীকারোক্তি মতে নেজাম উদ্দিনকে বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার ব্যাঙছড়ি এলাকায় জেএসসি পরীক্ষার্থী উম্রাচিং মারমা প্রকাশ ছবি মারমা (১৪) কে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

You Might Also Like