কাফরুল থানা যুবদলের আহবায়কের রহস্যজনক মৃত্যু

রাজধানীর কাফরুলে থানা যুবদলের আহবায়ক মাওলানা নাসিরের (৪৫) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ অবস্থায় তাকে হার্ট ফাউন্ডেশনে ভর্তি করালে দুপুর ২ টার দিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

তবে কাফরুল থানা যুবদলের আহবায়ক কমিটির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, সকালে মাওলানা নাসিরের বাড়িতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকে দুই গ্রুপের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মাওলানা নাসির অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

কাফরুল থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুম জানান, সোমবার রাত ৮ টার দিকে উত্তর ইব্রাহিমপুর এলাকায় মাওলানা নাসিরের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার পর পুলিশ লাশ পর্যবেক্ষণ করে শরীরের কোন আঘাতের চি‎হ্ন পায়নি।

জানাযায় অংশগ্রহণকারীরা পুলিশকে জানিয়েছে, মাওলানা নাসির হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

অন্যদিকে, কাফরুল থানা যুবদলের কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেছেন, বেলা ১১ টার দিকে ১৪৯, উত্তর ইব্রাহিমের বাড়িতে দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন মতির নেতৃত্ব প্রায় ১০/১২ জন নেতা-কর্মী অংশ নেন।

বৈঠকের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া মাওলানা নাসিরের মোবাইল ফোনে কল করে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার জন্য চাপ দেন।

স্থানীয় যুবদলের একজন নেতা অভিযোগ করেন, মাওলানা নাসির ও মোয়াজ্জেম হোসেন মতি পৃথকভাবে কাফরুল থানা যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করেন। কিন্তু এই দুই কমিটি কেন্দ্রীয় যুবদল অনুমোদন দেয়নি। নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করার জন্য দুই গ্রুপ মাওলানা নাসিরের বাড়িতে বৈঠক করছিল। বৈঠকে মাওলানা নাসির মোবাইলে কথোপথন শেষ করার পর প্রতিপক্ষ গ্রুপের নেতা-কর্মীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করলে সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে তাকে ন্যাশনাল হার্টফাউন্ডেশনে ভর্তির পর দুপুর ২ টার দিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

কাফরুল থানার ওসি আরো জানান, মাওলানা নাসিরকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বা তার ওপর হামলা করা হয়েছে-এমন অভিযোগ পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলেই লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সোমবার রাত ৯ টার দিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ উত্তর ইব্রাহিমপুরের বাড়িতে রাখা ছিল।

You Might Also Like