সুন্দরবনে মহাবিপর্যয় : এই দায়ভার কার?

আব্দুর রাজ্জাক রানা : শেলা নদীতে ডুবে যাওয়া ট্যাংকার থেকে ফার্নেস তেল সুন্দরবনের প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। যা বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের পরিবেশ বিপন্নের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা শুধু দেশের জন্য নয়, পুরো এ অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও সুন্দরবনের ভেতরে নৌচলাচল বন্ধ না করায় এ দুর্ঘটনার প্রধান দায় বর্তায় নৌমন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ সংস্থাগুলোর ওপর। একই সঙ্গে কোনক্রমেই এ ঘটনার দায় এড়াতে পারে না সরকার।
এদিকে সুন্দরবনে ট্যাংকার ডুবির ঘটনায় চাঁদপাই রেঞ্জ পরিদর্শন শেষে শনিবার বিকেল ৫টায় খুলনায় সংবাদিকদের সাথে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন,শেলা নদীতে ডুবে যাওয়া জাহাজের তেলের প্রভাবে সুন্দরবনের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছে এতে খুব বেশি ক্ষতি হবে না।’ মন্ত্রী বলেন, তেলের কারণে সুন্দরবনে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। ডলফিনেরও ক্ষতি হবে না। তেল বনের ভেতর বিস্তৃত হয়নি। খালের মুখে জাল দিয়ে বাধা দেয়ায় তেল বনে ঢুকতে পারেনি। ভাসমান তেল চলে যাচ্ছে, তাছাড়া স্থানীয়রা তেল উঠিয়ে নেয়ায় আস্তে আস্তে তেলের প্রভাব কমছে। মন্ত্রী জানান, বাগেরহাটের চাঁদপাই রেঞ্জে নৌরুট বন্ধ করা হবে কিনা এ বিষয়ে সরকার রোববার সিদ্ধান্ত নেবে। শাজাহান খান বলেন, ‘রেঞ্জটির নৌরুট সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মংলা বন্দরে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পণ্য ওঠানামা করতে সমস্যা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দুর্ঘটনার দিন বিকেলে জানতে পারি। এ কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারিনি।’
সুন্দরবনে তেলবাহী ট্যাংকর ডুবির ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে সফলতা দাবি করা হলেও তেল ছড়িয়ে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। তেল ইতিমধ্যে তাম্বুলবুনিয়া পেরিয়ে কটকা কচিখালী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এ স্থানটি সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু এখনো তেল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় সুন্দরবনে জাহাজ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলেও তেলবাহী জাহাজ ডুবির ঘটনা এটায় প্রথম। এ কারণেই সরকার অনেকটা অপ্রস্তুত। আর অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে এ ব্যাপারে করণীয় ঠিক করতে একমতও হতে পারেনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো। তবে সরকার তাৎক্ষণিক তেল অপসারণে ব্যর্থ হলেও স্থানীয় জনগণ সুন্দরবন রক্ষায় নিজ উদ্যোগে তেল অপসারণে নেমেছে। তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৯ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করেছে। যেগুলো ৩০ টাকা দরে কিনছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। অন্য কোনো উপায় না পেয়ে জনগণই তেল অপসারণে একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেল ক্রয়ের জন্য ওই এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন কয়েকটি বুথও স্থাপন করেছে। ঘটনার পাঁচ দিন অতিবাহিত হতে চললেও এখন পর্যন্ত তেল অপসারণ ও ছড়িয়ে পড়া বন্ধে আধুনিক কোনো উপায় বের করতে পারেনি সরকার।
রাসায়নিক পাউডার (অয়েল স্পিল ডিসপারসেন্ট) দিয়ে তেল নষ্ট করার উদ্যোগ নিলে সেটিও ব্যর্থ হয়। স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবিদদের বাধার মুখে ওই কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। তবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও পরিবেশ অধিদপ্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চাইলে পাউডার ব্যবহার করা যাবে।
এদিকে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সচিব নজিবুর রহমান ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রইছউল আলম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে পেরুর রাজধানী লিমায় রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এই রাসায়নিকের ব্যবহারে অনুমতি দেয়ার ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল অসারণে বিলম্ব হলে সুন্দরবনের জীব-বৈচিত্র্যের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। দু’একদিনের মধ্যে এর প্রভাব না পড়লেও তিন-চার মাসের মধ্যে এ ক্ষতি দৃশ্যমান হবে। গাছ-পালা থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রাণীর ওপর এই প্রভাব পড়বে। এতে সুন্দরবন তার ঐতিহ্য হারাবে। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক পদার্থ না ছড়িয়ে বরং তেল ছড়িয়ে পড়া বন্ধে আক্রান্ত এলাকার চারপাশে দুই থেকে তিন স্তরে রাবারের তৈরি বিশেষ বুম বিছিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। আর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় জনগণের মাধ্যমে খালি হাত বা ফোমের সাহায্যে তেল অপসারণের চেষ্টা থেকে বিরত থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন তারা। স্বাস্থ্যগত বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) এগ্রিকালচার অ্যান্ড বোটানি বিভাগের অধ্যাপক ড. কালাম উদ্দিন বলেন, নদী থেকে তেল পুরোটা আপসারণ না করা হলে, ডলফিনসহ যেসব প্রাণী ওপরে উঠে শ্বাস গ্রহণ করে তাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এতে অনেক ছোট ছোট মাছ মারা যাবে। বিশেষ করে শুশুক জাতীয় প্রাণীদের জন্য বেশি ক্ষতি বেশি হবে। এছাড়া তেলের স্তর শ্বাসমূলে প্রবেশ করলে অনেক গাছ গাছালি মারা যেতে পারে। তবে এখনই তেল অপসারণ করা হলে খুব একটা ক্ষতি হবে না।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন বিভাগের শিক্ষক ও তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক দীলিপ কুমার দত্ত বলেন, ‘তেল সব সময় ক্ষতিকর। তেলের কারণে পানির অক্সিজেন কমে যেতে পারে। এতে মাছসহ জলজ প্রাণী অক্সিজেন সংকটে ভুগবে। গাছপালার শ্বাস-প্রশ্বাসও বাধাগ্রস্ত হবে।’
সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব ড. সুলতান আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৮ তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর বন মন্ত্রণালয় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
তেল কীভাবে নষ্ট করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ কান্ডারি-১০ মাধ্যমে তৈলাক্ত পানির ওপর এক ধরনের রাসায়নিক পাউডার ছিটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। বুয়েট ও পরিবেশ অধিদপ্তর পরীক্ষার পর ওই পাউডার ছিটানো যাবে কি না সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সুলতান আহমেদ বলেন, বন বিভাগ জনগণকে কাজে লাগিয়ে তেল অপসারণ করছে। এছাড়া সুন্দর বনের প্রতিটা নদীতে তো আর জাহাজ প্রবেশ করানো সম্ভব নয়, তাই জনগণকে দিয়ে তেল অপাসারণ একটি ভালো উদ্যোগ। তিনি বলেন, নদীতে তেলের পরিমাণ অনেক কম। বর্তমানে যে পরিমাণ তেল রয়েছে সেগুলো জনগণের মাধ্যমই তুলে নেয়া হবে।
এদিকে বিকেলে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, বন বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি সুন্দরবনের শেলা নদী পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন শেষে কমিটির প্রধান বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ) মো. নুরুল করিম সাংবাদিকদের জানান, গবেষণা করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং ১৮ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এদিকে সরকারে পক্ষ নদীতে তেল কম থাকার কথা বলা হলেও স্থানীয়রা বলছেন, এখনো নদীতে অনেক তেল ভাসছে। এছাড়া বর্তমানে ভাটার কারণে পানি কমে যাওয়ায় তেলগুলো বিভিন্ন গাছ, লতা-পাতার সঙ্গে লেগে আছে।
তেল অপসারণে আসছে লন্ডনের বিশেষজ্ঞ দল : সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণে লন্ডন ভিত্তিক একটি বিশেষজ্ঞ দল সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে। নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, রোববারের মধ্যে এই দল ঢাকায় এসে পৌঁছবে। এরপর সরকারের সঙ্গে তাদের  বৈঠক হবে। সেখানে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া তেলের আস্তরণ কীভাবে সরানো যায়, তারা সে বিষয়ে পরামর্শ এবং প্রস্তাব দেবে।
শনিবার ভোর থেকে অর্ধশতাধিক ট্রলার ও নৌকা যোগে স্থানীয়দের নিয়ে বন ও পরিবেশ বিভাগ ও মংলা বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তেল অপসারণের কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে শুক্রবার সকাল থেকেই অসংখ্য নারী-পুরুষ ও শিশুরা নেট জাল এবং ফোম দিয়ে তেল সংগ্রহের এ প্রতিযোগিতায় নামে।
তেল অপসারণে ২০০ শ্রমিক : পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পাওয়ায় সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া কালো ফার্নেস তেল অপসারণে কাজ করতে পারছে না কান্ডারি-১০। তবে বন বিভাগের উদ্যোগে তেল অপসারণে ১০০ নৌকায় করে স্থানীয় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। শনিবার সকাল ৯টা থেকে তেল অপসারণে কাজ শুরু করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আমির হোসাইন চৌধুরী জানান, দ্রুত তেল অপসারণে ২০০ শ্রমিক কাজ করছে। শনিবার সারা দিন কাজ চলবে। পরিবেশ অধিদফতর থেকে কান্ডারিকে রাসায়নিক ছিটানোর অনুমতি না দিলে কালও তেল অপসারণে কাজ করানো হতে পারে। শুক্রবার থেকেই সনাতন পদ্ধতিতে সুন্দরবনে ছড়িয়ে পড়া ফার্নেস অয়েল অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসী এবং জেলেদের উদ্বুদ্ধ করে শেলা নদী থেকে তেল সরাতে কাজ করা হয়। সীমিত পরিসরে গ্রামবাসী ও জেলেরা ফোম, চটের বস্তা ও কলাপাতা ব্যবহার করে তেল অপসারণ করে। জোয়ারের সময় খালগুলোতে যেন ফার্নেস অয়েল যেতে না পারে সে জন্য বৃহস্পতিবার ১২টি খালের মুখে নেট দেয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান শামসুদ্দোহা খন্দকার এর আগে জানান, প্রাথমিকভাবে তিন দিন গ্রামবাসীর সহায়তা নিয়েই তেল সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। পরে রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
এদিকে, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হার্বার মাস্টার কে এম আকতারুজ্জামান জানান, ডুবে যাওয়া ট্যাংকারে ছিল প্রায় সাড়ে ৩ লাখ লিটার ফার্নেস অয়েল। কিন্তু কান্ডারিতে মাত্র ১০ হাজার লিটার তেলের তেজস্ক্রিয়তা কমানোর মতো রাসায়নিক রয়েছে।
এদিকে দুুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানের যাওয়ার কথা রয়েছে।
এ ঘটনায় ট্যাংকারের মাস্টার মোকলেসুর রহমান (৫০) নিখোঁজ রয়েছেন।
এবার সুন্দরবনের আশপাশের বাসিন্দারা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে : সুন্দরবনের শেলা নদীতে এখন তেলের ছড়াছড়ি, বাতাসে ভাসছে গন্ধ। শুধু শেলা নদী নয়, বনের অভ্যন্তরের বিভিন্ন খাল ও পার্শ্ববর্তী পশুর নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় তেল আর পানি মিলে একাকার। সরকারের তরফ থেকে এলাকাবাসীকে তেল তুলে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে বিক্রি করতে বলা হচ্ছে। ৩০ টাকা লিটার দরে এই তেল কিনতে নদীপাড়ে অবস্থান করছে পদ্মা ওয়েল কোম্পানির প্রতিনিধিরা। সরকারের এই ঘোষণার পর নারী-শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ তেল তুলতে পানিতে নেমে পড়েছে। আর এতে করেই চরম স্থাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে সুন্দরবনের আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি ও বাংলাদেশ স্বাস্থ্য আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ রশিদ ই মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘পরিবেশ এবং প্রাণীকূলের বিপর্যয়ের পর আমরা নিজেরাই সুন্দরবনের আশেপাশের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছি। সরকারের তরফ থেকেই বলা হচ্ছে এলাকাবাসীকে তেল তুলে পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কাছে বিক্রি করতে। এর ফলে গ্রামবাসীদের যারা তেল তুলতে যাচ্ছেন, তাদের চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ হতে পারে। চুলে ও মুখে এই ফার্নেস অয়েল মিশ্রিত পানি লাগার ফলে চুলও পড়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আসলে বিশ্বের বড় এই ম্যানগ্রোভ বনের সঙ্গে জাতিসংঘেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। যখন একটা বিপর্যয় হয়েই গেছে, তখন আমরা এই সব হাতুড়ে পদ্ধতিতে না গিয়ে জাতিসংঘের কাছে সাহায্য চাইতে পারতাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) ও আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুন্দরবনের যে অঞ্চলে ট্যাংকারটি ডুবেছে ওই এলাকা বিপন্নপ্রায় শুশুকসহ বেশ কয়েকটি জলজ প্রাণীর অভয়াশ্রম। এ অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচলই নিষিদ্ধ রাখা উচিত। তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্ত হবে।’ তিনি বলেন, ‘শুশুক বা ডলফিন জাতীয় প্রাণীগুলো পানির উপরে উঠে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে। তেলের গন্ধের কারণে তাদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্থ হওয়ায় মৃত্যু ঝুঁকিও রয়েছে। ইতিমধ্যে সাপসহ কিছু জীবজন্তুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের আরেকজন অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, ‘সুন্দরবনের ভেতরের নদীগুলোতে যেহেতু জোয়ার-ভাটা হয়, তাই পানিতে ভেসে থাকা তেল বিস্তীর্ণ এলাকায় যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে কারণে খালগুলোর মুখে কলাগাছ বা হালকা কিছু দিয়ে বাঁধ দেয়া যায়। বাতাসে তেলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পাখিসহ জীবজন্তুর শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ প্রক্রিয়া ভয়াবহভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
তেলদূষণে সুন্দরবনের বাঘও বিপদে পড়বে : তেলদূষণে সুন্দরবনের বাঘও বিপদে পড়বে। কারণ তেল মেশানো পানি পান করলে তা বাঘের দেহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তেল মেশানো পানি পানে বাঘের পাশাপাশি হরিণ, শূকর, বানরসহ অন্য বন্য প্রাণীও অসুস্থ হয়ে মারা যেতে পারে। তা ছাড়া দূষণের কারণে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়বে। সে ক্ষেত্রে দূষিত পানি পান করে কোনো প্রাণী যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং বাঘ যদি সেই প্রাণী শিকার করে তবে তা থেকেও তার বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, সুন্দরবনের তিনটি অংশ মূলত অভয়ারণ্য। পূর্ব ব্লকের কটকা, কচিখালী, সুপতি নিয়ে এক অভয়ারণ্য, দক্ষিণ ব্লকের হিরণ পয়েন্ট, নীলকমল, দোবেকী নিয়ে গঠিত দ্বিতীয় অভয়ারণ্য। আর তৃতীয় অভয়ারণ্য গঠিত পশ্চিম ব্লকের মান্দারবাড়িয়া ও নটাবেঁকী নিয়ে। তিন অংশেই বাঘ, হরিণসহ অন্যান্য প্রাণীর বিচরণ বেশি। এমনিতে সুন্দরবনের পুরো এলাকায়ই বাঘের বিচরণ রয়েছে।
সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের রেঞ্জার আব্দুর রব বলেন, ‘১৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি পুরুষ বাঘের জন্য এক থেকে সর্বোচ্চ চারটি স্ত্রী বাঘ অবস্থান করতে পারে। পুরুষ বাঘ তার এলাকায় একটি সীমানা তৈরি করে। সেখানে অন্য বাঘ ঢুকতে পারে না। আবার স্ত্রী বাঘও এমন সীমানা বানাতে পারে। এসব বিবেচনায় বলা যায়, সুন্দরবনের সর্বত্রই বাঘের বিচরণ রয়েছে। তবে অভয়ারণ্য এলাকায় বাঘের সংখ্যা বেশি।’
তেলদূষণের বিষয়ে আব্দুর রব ২০০৩ সালে একটি প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘তেল পানির ওপর ভাসে। তাই বাঘ, হরিণসহ যেসব প্রাণী ওই পানি পান করবে, তাদের দেহেও সেই তেল ঢুকে যাবে। একটি প্রাণী দিনে চারবার ওই ধরনের তেল মেশানো পানি পান করলে কী ধরনের বিপদের সম্মুখীন হবে, তা সহজেই আঁচ করা সম্ভব। মাটির নিচের প্রাণীরা প্রজনন ক্ষমতা হারাবে। ফলে বংশবৃদ্ধি না হওয়ায় এ জাতের প্রাণীরা অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।’
তবে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করেন, দূষণের ঘটনায় চলমান বাঘশুমারিতে কোনো প্রভাব পড়বে না। শীতকালে পানির প্রবাহ কম থাকায় তা নিচে নেমে বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কম। ফলে নীলকমলের যে ৬৪০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের (ফাঁদ পেতে ছবি তোলার পদ্ধতি) মাধ্যমে বাঘ গণনা চলছে, সে এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই।
করমজল প্রজনন কেন্দ্রের কুমিরও বিপদাপন্ন : ট্যাংকার দুর্ঘটনায় তেল ছড়িয়ে পড়ায় সুন্দরবনের করমজলে নোনা পানির কুমির প্রজনন কেন্দ্রটিও ভয়ানক বিপদে পড়েছে। গত তিন দিনে পশুর, রূপসা ও বলেশ্বর নদেও তেল ছড়িয়ে পড়েছে। পশুর নদ থেকে প্রজনন কেন্দ্র নোনা পানির সরবরাহ আসে। পানি দূষিত হয়ে পড়ার কারণে বৃহস্পতিবার করমজল প্রজনন কেন্দ্রে চার মাস বয়সী সাতটি কুমিরের অসুস্থতার কথা জানান কর্মকর্তারা। এ প্রজনন কেন্দ্রের ১৬টি চৌবাচ্চায় সদ্যোজাত কুমির ছানা হতে ছয় বছর বয়সী ২৫৫টি কুমির রয়েছে।
প্রজনন কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন চৌবাচ্চাগুলোতে পানি পরিবর্তন করতে হয়। চৌবাচ্চা দেয়া নোনা পানি আনা হয় পাশের পশুর নদ থেকে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে এ প্রজনন কেন্দ্রটি প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হলেও এখানকার পানি একবারে কালো হয়ে গেছে। এখানকার গাছপালায়ও তেল আটকে আছে।
খাবার ও গোসলের পানির তীব্র সংকট : ট্যাংকার ডুবির কারণে শেলা নদীর পানি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ায় এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, তেলের গন্ধে এলাকায় টেকায় দায় হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ অবস্থা থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে তা নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না তারা।  ঘটনাস্থল সংলগ্ন লোকালয় জয়মনি এলকার বাসিন্দা আবু মিয়া জয়মনি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা নাজমুল কবীর জানান, তেলের ছড়াছড়িতে নদীর পানি দূষিত হয়েছে। এ অবস্থায় শেলা নদীর তীরে থাকা হাজার খানেক বাসিন্দা তীব্র পানির কষ্টে পড়েছেন। তিনি আরো জানান, এলাকার একটি দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ মওসুমে নদীর পানিতে গোসল ও  নদীর পানি পান করে জীবনধারণ করতেন। কিন্তু সম্প্রতি এই ভয়াবহ  বিপর্যয় ঘটে যাওয়ায় এক টাকা লিটারে পানি কিনে খেতে হচ্ছে। এলাকায় গোসলের পানিরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, দুর্ঘটনা শুধু দেশের জন্য নয়, পুরো এ অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়। এজন্য নৌ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্টরা দায়ী। তিনি বলেন, আগে যেসব চ্যানেলে জাহাজ চলত, চিংড়ি ঘের, লিজসহ উন্নয়নের নামে সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে সুন্দরবনের ভেতরে অবৈধ রুটে এসব জাহাজ চলাচল করছে। সরকার এগুলো  দেখছে না। এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সরকারের কোনো প্রস্তুতি ছিল না, এখনও নেই। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নদী দূষণরোধে  নেমেছে। একইভাবে সরকারকে সর্বশক্তি নিয়ে নামতে হবে।
বিআইডব্লিউটিএর সাবেক সচিব সৈয়দ মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক দায় নৌ মন্ত্রণালয়ের। কারণ মূল চ্যানেল মংলা-ঘাষিয়াখালী নৌপথ চালু রাখতে ব্যর্থ হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা বিআইডব্লিউটিএ।
বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে দুর্ঘটনার বেশির ভাগের দায় নৌ মন্ত্রণালয়ের। বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও সুন্দরবনের ভেতরে  নৌযান চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার শিকার ও দায়ী  নৌযানের চালক ও মালিকরা দায় এড়াতে পারেন না। তিনি বলেন,শেলা নদীতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত  নৌযান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে নৌ মন্ত্রণালয়। আমরা চাই কখনই ওই পথে নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়া না হোক।
মঙ্গলবার ভোরে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা অয়েল ডিপো থেকে তিন লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার ফার্নেস অয়েল নিয়ে গোপালগঞ্জের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যাওয়ার পথে সুন্দরবনে যাত্রা বিরতিকালে দুর্ঘটনায় পড়ে ‘ওটি সাউদার্ন স্টার-৭’। এমটি টোটাল নামে অপর একটি ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় তেলবাহী ট্যাঙ্কারটির এক পাশ ফেটে যায় এবং শেলা নদীতে ডুবে তেল ছড়িয়ে পড়ে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডুবে যাওয়া ট্যাঙ্কারটি উদ্ধার করা হয়।
সরকারের গাফিলতি নৌ মন্ত্রণালয় ও বন বিভাগের দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত সুন্দরবন ঃ মানবসৃষ্ট মহাবিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবন। সরকারের গাফিলতি ও নৌ-মন্ত্রণালয়ের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটের খেসারত দিতে হচ্ছে এই বনকে। বিষাক্ত জ্বালানি তেলের বিধ্বংসী আস্তরন শ্বাস রোধ করে মারছে এই বনের গাছপালা আর নদীতে বিচরণরত জলজ প্রাণীসমূহের। এ নিয়ে যখন সারা বিশ্ব উদ্বিগ্ন, তখন শুধুমাত্র উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই সরকারের। অবিলম্বে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে বিষাক্ত তেল অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদের সুন্দরবন সংলগ্ন সকল জেলা কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে অচল করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে খুলনা মহানগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়।
সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলন নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে সকাল ১১ টা থেকে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি চলাকালে পরিবেশবিদ, প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, উন্নয়ন কর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই ৯ ডিসেম্বর দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ত্বরিৎ পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার গাফিলতি করেছে বলে অভিযোগ করেন। নৌ-মন্ত্রণালয় বিভিন্ন প্রকল্পে গত ৬ বছরে শত শত কোটি টাকা লুটপাট করলেও এ অঞ্চলের নদী পথে যাতায়াতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট পলি জমে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘষিয়াখালী চ্যানেল ড্রেজিং না করার কারণে এই দুর্ঘটনাজনিত বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোল্লা মাসুম রশিদের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন ভাষা সৈনিক ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম, কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স সভাপতি প্রকৌশলী এম এম আব্দুল গোফরান, খুলনা চেম্বারের সাবেক সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ মোশারফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু জাফর, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আনিসুজ্জামান, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মালেক, বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ সেখ মোঃ আখতারুজ্জামান, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল হক বাবুল, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব শাহীন জামান পণ, সিপিবির মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু, নাগরিক ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক মিনা আজিজুর রহমান, খুবির পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের শিক্ষক প্রফেসর ড. নাজমুস সাদাত প্রমুখ।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ইউনেস্কো থেকে শুরু করে সকল পরিবেশবিদ দীর্ঘ দিন ধরে সুন্দরবনের অভ্যন্তর দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধের জন্য সরকারের কাছে জোরালো ভাবে দাবি জানিয়েছে। ঘষিয়াখালী চ্যানেল ড্রেজিং করার জন্য অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে বনের ভেতর দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত অয়েল ট্যাংকারটি বালু বহনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটির মালিক সরকারের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ছোট ভাই হওয়ার সুবাদে সেটিকে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে জ্বালানি তেল পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়। বনের ভেতরে নৌযান নোঙ্গর করতে বন বিভাগ থেকে অনুমতি গ্রহণের প্রয়োজন থাকলেও তা মানা হয়না। দুর্ঘটনার পর লোক দেখানো একটি মামলা হয়েছে অভিযোগ করে বক্তারা নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ওটির মালিক-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা এবং তদন্তের মাধ্যমে বনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তা আদায়ের জোর দাবি জানান। আগামী ১৫ ডিসেম্বর সোমবার বেলা ১১ টায় সুন্দরবন বাঁচাও আন্দোলনের পক্ষ থেকে খুলনা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

You Might Also Like