ভারতই হারলো

টেমপারমেন্ট কী জিনিস তা হাতে-কলমে প্রমাণ করলো অস্ট্রেলিয়ানরা!

শনিবার অ্যাডিলেড ওভালে অসিদের ‘হার না মানা’ মানসিকতার কাছেই শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হলো ভারতকে। তাই জয়ের সুগন্ধ পেতে পেতে হুট করেই কক্ষচ্যুত হলো বিরাট কোহলির ভারত। ব্যাকফুটে অস্ট্রেলিয়া উঠে এলো চালকের আসনে। ১২ টি উইকেট নিয়ে নাথান লায়ন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন। যখন এক সেশনে মাত্র ৭৩ রানের ব্যবধানে আট আটটি উইকেট হারিয়ে ৪৮ রানের পরাজয় শিকার করলো ভারত।

এই টেস্টের শিরোনাম হতে পারতেন বিরাট কোহলি। দুই ইনিংসে জোড়া সেঞ্চুরি করে স্বাগতিকদের পরাজয়ের হুমকি দিচ্ছিলেন খোদ ভারত অধিনায়কই। এক্ষেত্রে তাকে যোগ্য সঙ্গত দিচ্ছিলেন মুরালি বিজয়। জাগিয়েছিলেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও। তবে শেষ পর্যন্ত এক রানের আক্ষেপ নিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় ভারতীয় ওপেনারকে। সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংসের ৭০তম ওভারের প্রথম বলে ব্যক্তিগত ৯৯ রান করে নাথান লিওনের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হন তিনি। যা ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেয়।

তবে উইকেটের আরেক প্রান্তে ঠিকই সপাটে ব্যাট চালাচ্ছিলেন আগুণে ফর্মে থাকা কোহলি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫৫ বছরের রেকর্ড ভেঙে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এরপর দলকে জয়ের বন্দরে ভেড়াতে ১৫০ রানের দিকে ছুঁটছিলেন তিনি। কিন্তু ১৪১ রানে গিয়ে থামতে হয় তাকে। তিনি ভারতের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে লিওনের শিকার হলে ‘কুফা’ লাগে টিম ইন্ডিয়ার ভাগ্যে। কেননা ৩০৫ রানে কোহলি আউট হওয়ার পর মোহাম্মদ সামি (৫), বরুণ অ্যারন (১) ও ইশান্ত শর্মা (১) মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে আউট হন।

ফলে নাটকীয়ভাবে ৮৭.১ ওভারে গিয়ে ৩১৫ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় ভারত। যখন লক্ষ্য থেকে আরো ৪৮ রান দূরে সফরকারীরা। অথচ আজ টেস্টের শেষ ও পঞ্চম দিনে খেলার সিংহভাগ সময় ভারতের হাতেই লাগাম ছিল। কিন্তু শেষ বিকেলে প্রতিপক্ষের রান তাড়া করতে গিয়ে একটু বেশি তড়িঘড়ি করে নিজেদের ফাঁদে নিজেরাই পা দেয় তারা। আর ম্যাচ হেরে বসে। প্রসঙ্গত, এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ৪১৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। এমনকি দ্বিতীয় ইনিংসেও চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইনিংস ঘোষণা দেন ক্লার্ক। তবে এবার ২৯০ রানেই। ভারত প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করেছিল ৪৪৪ রান। অর্থাৎ, দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছিল ৩৬৪ রান।

You Might Also Like