গগনচুম্বী অট্টালিকায় ছেয়ে যাচ্ছে পোল্যান্ডের ওয়ারশ

জামান সরকার, পোল্যান্ড থেকে : পোল্যান্ড রাজধানী ওয়ারশতে কখনো অলিম্পিক গেমস হলেও অলিম্পিক শহরগুলির মত সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই ওয়ারশতে দ্রুত গগনচুম্বী ভবন স্থাপনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

দুই মিলিয়ন জনসংখ্যা অধ্যুষিত শহর পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে ইতিমধ্যে ২০টির বেশী আকাশচুম্বী ভবন আছে যাদের উঁচ্চতা ১০০ মিটারের উপরে। আগামী বছরগুলিতে একই পরিকল্পনায় এ সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে জানালেন স্থানীয় ইমারত বিভাগের এক কর্মকর্তা।

ওয়ারশ’র সুউচ্চ অট্টালিকাগুলির অদ্ভুত ও সুন্দর নাম দেওয়া হয়েছে। যেমন- জোলটা ৪৪ (জোলটা শব্দের অর্থ স্বর্ণ) এবং এর উঁচ্চতা ১৯২ মিটার, ওয়ারশ ট্রেড টাওয়ার এর উঁচ্চতা ২০৮ মিটার, কসমোপলিটান টোয়ারডা’র উঁচ্চতা ১৫৯ মিটার।

ওয়ারশর আকাশচুম্বী ভবনের অ্যাপার্টমেন্ট গুলিও বিলাসিতার নতুন নজির স্থাপন করেছে। বিশ্বের সেরা সেরা ধনকুবেরা এই ব্যায়বহুল বাড়ী কিনে থাকে। এই অ্যাপার্টমেন্ট গুলির অভ্যন্তর নকশা যেমন পোল্যান্ডের প্রকৃতির সৌন্দর্য দ্বারা অনুপ্রাণিত তেমনি ভিতর থেকে বাইরের অপরূপ দৃশ্য স্পষ্ট দেখা যায়।

বলতে গেলে ওয়ারশর আকাশচুম্বী ভবন স্থাপনের বিপ্লব ঘটে ১৯৮৯ সালে অর্থাৎ পোল্যান্ড সমাজতন্ত্র থেকে পরিত্রাণ পাবার পর।

warsh_1মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়নের এককালের একনায়ক জোসেফ ষ্ট্যালিন ১৯৫০ সালে ওয়ারশতে কালচার প্রাসাদ নির্মান করেছিলেন যা এখনো পোল্যান্ড বাসিন্দাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় স্মৃতি বিজারিত স্তম্ভ। এটা ছিল পোল্যান্ড বাসীদের জন্য জোসেফ ষ্ট্যালিনের একটা “উপহার” বা একনায়কত দ্বারা পরিচালিত সমাজতন্ত্র’র স্মারক। এই প্রাসাদের উচ্চতা ২৩৭ মিটার যা এখনো ওয়ারশ’র সর্ব্বোচ্চ অট্টালিকার রেকর্ড ধরে রেখেছে।

তবে ষ্ট্যালিনের কালচার প্রাসাদের উচ্চতার রেকর্ড আর বেশীদিন থাকছে না কারণ খুব তাড়াতাড়ি নির্মিত হতে যাচ্ছে ২৬০ মিটার উচ্চতায় ‘লিলিউম টাওয়ার’।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ শহর ওয়ারশ। জার্মানের নাৎসি  সৈন্যরা ওয়ারশকে উড়িয়ে-পুড়িয়ে ভেঙে ছারখার করে দিয়েছিল যা ১৯৪৪-৪৫ এর হিরোশিমার  ধ্বংসাবশেষের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

You Might Also Like