বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ডে আমেরিকা, বৃটেন, জাতিসংঘ, ইইউ উদ্বিগ্ন’

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে ব্যাপকভাবে বিভক্ত।” ট্রাইবুনালের কড়া সমারোচনা করে তিনি বলেন, “ যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠবে, তাদের সবাইকে অবশ্যই দোষী সাব্যস্ত করতে হবে এবং ফাঁসি দিতে হবে। এর চেয়ে কম কিছুই যথেষ্ট বিবেচিত হবে না। এমনকি বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরাও যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।”

টবি ক্যাডম্যান বলেন, “জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা ইতিমধ্যে বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এই বিচার বিভাগীয় হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমেরিকা, বৃটেন, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন উদ্বিগ্ন।”

বাংলাদেশে বিচারবিভাগীয় এবং বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজিত এক সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৬ ডিসেম্বর শনিবার নিউইয়র্কের ইয়র্ক কলেজ অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

Cadman_1এইচআরডিবির প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং জাহিদ জামির ও বশুরা লিমার পরিচালনায় সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ট্রিয়েলের ডউসন কলেজের অধ্যাপক ড. আবিদ বাহার, নর্থ ক্যারোলিনা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. নকিবুর রহমান, মজলিসে সুরার প্রেসিডেন্ট ড. শেখ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. আব্দুল হাফেদ জামেল।

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আমেরিকা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, মীর মাসুম আলী, সিটি কলেজের সহকারী প্রফেসর ড. নিজাম উদ্দিন, এটর্নী এম আজিজ, সাহানা মাসুম, ডা. জুন্নুন চৌধুরী, প্রফেসর নূরুল ইসলাম, ওমামা মাসুম ও তালহা সাবাজ প্রমুখ।

টবি ক্যাডম্যান বলেন, “আমাকে আইনজীবী হিসাবে জামায়াতে ইসলামী ২০১১ সালে নিয়োগ দেয়। আইনজীবী হিসাবে আমার কাজ হলো বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নাম দিয়ে যে বিচারিক হত্যাকাণ্ড হচ্ছে তা বিশ্বকে জানানো। আমি তা জানিয়েছি। এই বিষয়ে সকলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারাও কাজ করছে, তবে ধীর গতিতে।”

তিনি বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা উচিত। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীই তা করা উচিত।”

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞ ক্যাডম্যান যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া এবং এ নিয়ে সৃষ্টি সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তুলে ধরে বলেন, “২০১০ সালের অক্টোবরে তিনি যখন প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসেন, তখন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ভিআইপি লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল।”

বিমানবন্দর থেকে তিনি হোটেল সোনারগাঁও ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আয়োজিত যুদ্ধাপরাধের নিরপেক্ষ বিচারবিষয়ক এক সভায় বক্তব্য করতে। কিন্তু এই রাজসিক সম্মান খুবই স্বল্পস্থায়ী হয়েছিল। এরপরপরই বাংলাদেশ সরকারের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়েন তিনি।

বৃটিশ এ আইনজীবী বলেন, “ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান নিজামুল হক ও জিয়াউদ্দিনের মধ্যে যে আলাপ হয়েছে তাতে এটি স্পষ্ট যে, শুরু থেকেই ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন ছিল না। সরকার যতই দাবি করুক না কেন, ট্রাইব্যুনালের গঠন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিধিতে যে ত্রুটি রয়েছে তা সংশোধন না করার কারণে এটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তো নয়ই, জাতীয় ট্রাইব্যুনালও নয়।”

তিনি বলেন, “ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফৌজদারি আইন ও সাক্ষ্য আইনকে গ্রহণ করা হয়নি এবং আন্তর্জাতিক আইনের ধারেকাছেও যায়নি। ফলে ট্রাইব্যুনালের বিচারে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার যে দাবি সরকার করে আসছে তা রাখা তো দূরের কথা, জাতীয় মানও বজায় রাখা সম্ভব হবে না।”

Cadman_3বসনিয়ায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর হিসেবে তার আট বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে ক্যাডম্যান বলেন, “বসনিয়ার ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ছিল না, সেটি তাদের ন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ছিল। কিন্তু বসনিয়া সরকার বিচার পরিচালনায় আন্তর্জাতিক আইনের সহযোগিতা নিয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিচারক, আন্তর্জাতিক প্রসিকিউটর ও আন্তর্জাতিক তদন্তকারীরা ছিল বলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠেনি। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ‘সমগ্র বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত’ সৃষ্টি করতে সকল আন্তর্জাতিক আইন অগ্রাহ্য করেছে।”

টবি ক্যাডম্যান বলেন, “আমরা চাই যুদ্ধারাধীদের বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে এবং বাংলাদেশের বাইরে করা হোক। সেই বিচারালয়ের বিচারক নিয়োগ করা হোক আন্তর্জাতিক বিচারক। আমরা চাই না রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে কাউকে দণ্ড দেয়া হোক।”

টবি ক্যাডম্যান বলেন, যেকোন সরকারের সমালোচনাই গণতন্ত্র। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আপরাধ টাইব্যুনালের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে। অথচ বাংলাদেশে গঠিত ট্রাইব্যুনালে আর্ন্তাতিক নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না।

সেমিনারে অধ্যাপক ড.আবিদ বাহার ‘শেখ হাসিনার সরকারকে একটি অবৈধ সরকার‘ আখ্যায়িত করে বলেন, ১৯৭১-এর যুদ্ধ পরবর্তী তালিকায় যারা যুদ্ধপরাধী ছিলেন তাদের নাম শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নেই। তিনি বলেন, ‘শেখ মুজিবই বড় রাজাকার’। ৭১-এর তিনি ও তার পরিবারকে নিরাপদে রাখতে ভুট্টোর সহযোগিতা চেয়েছিলেন। তিনি জানতেন কারা কারা রাজাকার, তাই শেখ মুজিব স্বাধীনতার পর রাজাকারদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শেখ মুজিব ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভাড়া করা মাস্তান। কলকাতার ইসলামিক কলেজের মাস্তানদের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবকে ব্যবহার করা হয়। সেই মুজিবের আদর্শই বহন করছে আজকের ছাত্রলীগ। তিনি বলেন, আমরা সবাই আল্লাহকে বিশ্বাস করি আর আওয়ামী লীগ মুজিব ছাড়া কিছুই বিশ্বাস করে না।

ড. আবিদ বাহার বলেন, শেখ মুজিব বিরোধীদল চাননি বলেই বাকশাল কায়েম করেছিলেন। হাসিনা সরকার শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, বিএনপিসহ বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে চাচ্ছে। এই সরকার ‘দ্বিতীয় বাকশাল সরকার’ হিসেবে Cadman_2দেশ পরিচালনা করছে। রাজাকারদের বিচার করতে হলে আগে শেখ হাসিনার মন্ত্রী বেয়াইকে ধরতে হবে। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ছাড়া বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সততার রাজনীতি নেই। তিনি বলেন, সরকার প্রধানের দায়িত্ব হচ্ছে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জীবন রক্ষা করা। অথচ শেখ হাসিনা সরকার মানুষ হত্যা করে জাতির কাছে ‘ফ্যাসিস্ট আর কিলার সরকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। মন্ত্রীরা ইসলামী ধর্ম-কর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করছেন। এই সরকারের পিছনে রয়েছে ভারত। আর ভারত হাসিনা সরকারকে ব্যবহার করে বাংলাদেশকে কলোনী বানাতে চায়। এসবে বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নিজেদের নিজেদেরকেই রক্ষা করতে হবে’।

যুদ্ধাপরাধ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ড. নকিবুর রহমান বলেন, “কাশিম উদ্দিনের ছেলে শিবলি আমাকে বলেছে, ২০০১ সালের আগে আমি বা আমার পরিবার কোনো দিন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নাম শুনিনি। তাকে মন্ত্রী করার পর আমরা চিনেছি।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের এক নেতাকে আমার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য করা হয়েছে। দ্বিতীয় সাক্ষী নান্নুকেও বাধ্য করা হয়েছে মিথ্যা সাক্ষী দিতে। তাকে তুলে আনা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী টুকুর নির্দেশে সে মিথ্যা সাক্ষী দেয়। নেয় মোটা অংকের অর্থ। সেই সঙ্গে হুমকি দেয়া হয় ছেলের চাকরি খাওয়া হবে।এই অবিচারের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।”

ড. নকিবুর রহমান বলেন,“যে মাওলানা কাশিম উদ্দিনকে হত্যা করার জন্য মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে (আমার বাবা) বিরুদ্ধে রায় দেয়া হয়েছে আমি তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। কাশিম উদ্দিনের ছেলে শিবলি আমাকে জানিয়েছে তারা ১৫ বছর আগে আমেরিকায় আসে এবং তারা বর্তমানে ডালাসে বসবাস করছে। আসার পর তারা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে যায়নি। তাদের পরিবারের সবাই এখন ডালাসে রয়েছে।”

ড. আব্দুল হাফিজ জামিল বলেন, আমাদের সমস্যা ও ইস্যুগুলোর পাশাপাশি সমাধানও জানতে হবে। যেকোন সমস্যার সমাধান আমাদের হাতেই। আমি নিজে ফ্রিডম চাইলে, অন্যকেও ফ্রিডম দিতে হবে। তিনি বাংলাদেশ ও মিশরের সমস্যাকে একই সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

ড. শেখ আহমদ বলেন, আমরা কোন ক্রিমিনালকে সমর্থন করতে এই সেমিনারে আসিনি। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ‘মাইনরিটি আর কোয়ালিটি’ সম্পন্ন রাজনৈতিক দল আর ইসলামের সঠিক পথে চলছে বলেই আওয়ামী লীগ সরকারের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। তাই এই সরকারের কাছে সুবিচার পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আপনারা একা নন, আমরা সবাই আপনাদের সাথে রয়েছি।

অধ্যাপক নূরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ফেরাউন আর মীর জাফরের প্রেতাত্বা ভর করেছে। শেখ হাসিনা সরকার ভারতের গোলামে পরিণত হয়েছে। যার জন্য সরকার ৪০ বছরের মিমাংসিত ইস্যু নতুন করে সামনে এসে জাতিকে বিভক্ত করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইসলামকে হঠানো যাবে না, লগি-বৈঠা দিয়ে ইসলামিক আন্দোলনও হঠানো যাবে না।

ড. নিজামউদ্দীন বলেন, নূন্যতম মানবাধিকার পাওয়া অধিকার সকল নাগরিকেরই রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে সেই অধিকার না দিয়ে জুডিশিয়াল কিলিং চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অধিকারী আব্দুল কাদের মোল্লার মতো কৃতিছাত্রকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

ডা. জুন্নুন চৌধুরী বলেন, একাত্তুরের পর বাংলাদেশে কোন স্বাধীনতা বিরোধী ছিলো না। জামায়াতও বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কথা বলেনি। পৃথিবী চলছে এক দিকে আর বাংলাদেশ চলছে উল্টো পথে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে বাংলাদেশে নাটক চলছে। শাহবাগ মঞ্চ আরেকটা নাটক ছিলো। ৭১-এর ১৯ বছর বয়সী কাদের মোল্লার পক্ষে মানুষ খুন, নারী ধর্ষন সম্ভব নয়। আর কামরুজ্জামানকে ফাঁসি দেয়া হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে সুবিচার কামনা বৃথা। তাই কার ঈশারায় তারা এসব করছে, এই সরকারের পিছনে কে রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি রাজপথে প্রতিবাদী হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

এর্টনী আব্দুল আজিজ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে যা করছে তা সবই নাটক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে সরকার জাতিকে বিভক্ত করছে। বিচার হতে হলে নিরপক্ষে হতে হবে, নিরপেক্ষ বিচার, নিরপেক্ষ আদালত লাগবে। দলীয় বিচারক আর দলীয় স্বাক্ষী দিয়ে নিরপেক্ষ বিচার হয় না।

শাহানা মাসুম বলেন, শুধু বাংলাদেশের মানবাধিকার নয় আজ আমাদের বিশ্ব মানবাধিকার বিষয়েও সোচ্চার হতে হবে। বাংলাদেশে যাকে তাকে রাজাকার বলা ‘বিভ্রান্তিকর’। আমরা নিরপেক্ষ বিচার চাই।

You Might Also Like