শেষ বেলায় একেবারে চুপ মজীনা

বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনার। বাংলাদেশ সরকার ও এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অধিকাংশ সময় মুখর ছিলেন মার্কিন এই কুটনীতিক। কিন্তু বিদায় বেলায় সরকারের কর্মকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মিডিয়ার সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হচ্ছেন না তিনি।
সম্প্রতি আমেরিকাকে জড়িয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিভিন্ন বক্তব্যেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে না তার কাছ থেকে। এসব বিষয়ে সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
মার্কিন মন্ত্রী নিশা দেশাই বিসাওয়ালের সফরকে ঘিরে সৈয়দ আশরাফের মন্তব্য এবং একইভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্যেও চুপ রয়েছেন মার্কিন এই কুটনীতিক। তবে মজীনার এই নিরব ভূমিকা নিয়ে কৌতুহল তৈরি হয়েছে সংবাদ কর্মীসহ সাধারন মানুষের। মজীনার সফরসঙ্গীরাও বলতে পারছেন না তার এই নিরবতার কারণ কী? আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যেতে পারেন মার্কিন এই কুটনৈতিক।
চলে যাওয়ার আগে অনেকটাই ব্যস্ত সময় পার করছেন ড্যান মজীনা। প্রতিদিনই বের হচ্ছেন দূতাবাসের বাইরে। গত দুই দিন কাটিয়েছেন সাভার শিল্পাঞ্চলে। তবে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো ইস্যু নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।
শনিবার সকালে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ট্যানারী শিল্প নগরী পরিদর্শনে আসেন ড্যান মজীনা। সেখানে নিশা দেশাই বিসাওয়াল সম্পর্কে সৈয়দ আশরাফের মন্তব্য এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতকালের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন সংবাদ কর্মীরা। কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে রাজি হননি তিনি।
ড্যান মজীনা এ সময় সাংবাদিকের বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সব সময় আমেরিকার সঙ্গে সংযুক্ত থাকি। এখানে কি হচ্ছে সে বিষয়ে আমেরিকার সরকারকে অবহিত করি। বছরে চার বার আমি তিন সপ্তাহের জন্য আমেরিকা যাই। সেই সময় আমি পুরো আমেরিকা ঘুরে ঘুরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরি। গত সাত দিন আমি আমেরিকার সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থায় সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছি। আমি কোথায় যাই, কি করি তা জানিয়েছি।’
মজীনা বলেন, ‘আমি এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরে আসব। এজন্য আমাকে চামড়া শিল্প নগরীসহ মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট খাতগুলো ঘুরে দেখতে হচ্ছে। বাংলাদেশের চামড়া শিল্প নিয়ে মার্কিন ব্যবসায়ীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারা সব সময় আমার কাছ থেকে এ বিষয়ে খবর নিচ্ছে। আমি তাদের বলেছি আগামী বছরের মধ্যে আপনারা বাংলাদেশ থেকে ভাল মানের চামড়াজাত পন্য আমদানি করতে পারবেন। পক্ষান্তরে চামড়া শিল্পের উন্নয়নে আমেরিকার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাংলাদেশের বাজারে রপ্তানি করা যাবে। কম মূল্যে বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ সম্মত জুতা রপ্তানি হবে আমেরিকার বাজারে। এতে আমেরিকার ক্রেতারা লাভবান হবেন। এই বিষয়টি নিশ্চিত করতেই একবছর পর আমি আবার বাংলাদেশে আসব।’
এদিকে রাজনৈতিক ইস্যু সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না করার জন্য উপস্থিত সংবাদ কর্মীদের আগেই অনুরোধ জানিয়েছিল ড্যান মজীনার সফরসঙ্গীরা। তবে হঠাৎ কেন এই অনুরোধ তার কোনো কারণ জানাতে পারেনি তারা। দোভাষী হিসেবে কাজ করা মজীনার সহকারী আশিক রুশদীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি হননি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ড্যান মজীনা ঢাকার দূতাবাসে যোগ দিয়েছিলেন ২০১১ সালের ১৬ মে। মার্কিন মুখপাত্র হিসেবে এ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সব সময় সমালোচনা মুখর ছিলেন তিনি। বিশেষ করে সব দল অংশগ্রহন না করায় ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে তার মন্তব্যগুলো ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সরকারী নীতিরও কঠোর সমালোচনা শোনা গেছে তার মুখ থেকে। মূলত তার এসব মন্তব্যের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিননীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটে থাকত।
বাংলাদেশকে এশিয়ার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক টাইগার সম্বোধন করলেও মজীনার সময়কালেই বাংলাদেশ হারিয়েছে আমেরিকার বাজারে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশ ক্ষমতা।

You Might Also Like