দুবার বিয়ে করা স্বামীকে অস্বীকার!

ভারতের গুজরাট প্রদেশের এক নারী পালিয়ে গিয়ে একজনকে দুবার বিয়ে করেছিলেন। প্রায় এক বছর পর সে তার স্বামীর কাছে যেতে চাইছে না। উপরন্তু তার স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেছে ১৯ বছরের ওই তরুণী।

শনিবার টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দু দু’বার বিয়ে করেছিলেন সোহিনী প্যাটেল এবং বিনোদ প্যাটেল। কিন্তু এখন গুজরাট হাইকোর্টকে সোহিনী বলেছে,, তাকে জোর করে বিয়ে করেছিলেন বিনোদ। এ ঘটনায় বিনোদের বিরুদ্ধে সোহিনীকে হয়রানি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্ত্রীর আনা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিনোদ। তিনি বলছেন, সোহিনি দুবার তার সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল এবং দু বার তারা বিয়েও করেছে। কিন্তু এখন বাবা-মায়ের চাপে সে মিথ্যা বলছে।

গত বছর আগস্ট মাসে সোহিনী প্রথমবারের মত প্রেমিক বিনোদের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট তারা দুজন বিয়ে করেন। বিয়ের দুদিন পরই সোহিনীর পরিবার তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে। ওইদিনই বিনোদকে তালাক দেয় সোহিনী।

এর মাত্র তিন মাস পর অর্থাৎ ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর ফের পালিয়ে যায় প্রেমিক যুগল। রাজকোট জেলার সাব রেজিস্টার অফিসে গিয়ে তারা দুজন ফের বিয়ে করেন। বিয়ের পর তারা জুনাগাদা এলাকায় গিয়ে সংসার শুরু করেন। সেখানে ১১ মাস একসঙ্গে থাকার পর চলতি বছর অক্টোবর মাসে আহমদাবাদে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে সোহিনী। এখন সে তার দুবার বিয়ে করা স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণ এবং তাকে জোর করে আটকে রাখার অভিযোগ এনেছে।

এদিকে সোহিনী চলে আসার পর শ্বশুড় ও শ্যালকের বিরুদ্ধে নিজের স্ত্রীকে জোরপূর্বক আটকে রাখার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিলেন বিনোদ। বিনোদের অভিযোগ, শুরু থেকেই বিনোদ ও সোহিনীর সম্পর্ককে মেনে নেয়নি সোহিনীর পরিবার। পরিবারের অমতেই দুই বার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করেছিল সোহিনী । এখন তারা সোহিনীর ব্রেন ওয়াশ করেছে। যে কারণে সোহিনী তাকে অস্বীকার করছে।

কিন্তু বিনোদের এ অভিযোগ নাকচ করেছে সোহিনী। গুজরাট হাইকোর্টকে সে জানায়, তার স্বামী একজন প্রতারক এবং তাকে নানাভাবে হয়রানি করে চলেছেন। তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয়বার বিয়ের পর সে জানতে পারে বিনোদ আগে আর একবার বিয়ে করেছিল। কিন্তু তাকে বিয়ে করার জন্যই সে ওই কথা গোপন রেখেছিল। এছাড়া স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতনেরও অভিযোগ এনেছেন সোহিনী।

এদিকে দিল্লির হাইকোর্ট এই মামলায় এক অদ্ভুত নজির স্থাপন করেছেন। সোহিনীকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকার অনুমতি দিয়েছেন। এমনকি তাকে তার স্বামীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করিারও অনুমতি দিয়েছেন আদালত । একই সঙ্গে স্ত্রীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে আনতে বিনোদকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে গুজরাট হাইকোর্ট।

You Might Also Like