যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলে বাংলাদেশ শেষ হয়ে যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলে বাংলাদেশ শেষ হয়ে যাবে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশটি বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু তাতে সার্বভৌম বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে থাকেনি।

অষ্টাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন ও মালয়েশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে আজ শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বিকেল চারটায় গণভবনে সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সংবাদ সম্মেলন রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল সম্পর্কে সম্প্রতি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যে মন্তব্য করেছেন তা দু্দেেশর সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন, তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন । কেউ যদি কোনো মতামত দিয়ে থাকেন তাহলে সে দায়িত্ব তাঁর। তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন।’

গত ২৯ নভেম্বর খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে নিশা দেশাই বিসওয়ালকে ‘দুই আনার মন্ত্রী’ বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।

কোনো সমস্যা হলেই কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে বলে মনে করেন না, জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কূটনৈতিক সম্পর্ক কূটনৈতিকভাবে চলবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হবে বলে আমি মনে করি না। অনেকে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলে আমরা একেবারে শেষ হয়ে যাব। ঘটনা কিন্তু তা না। ‘৭১এ তারা আমাদের পাশে ছিল না। সপ্তম নৌবহর পাঠাতে চেয়েছিল। বাংলাদেশ কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন, আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশেই তা করা হয়েছিল বলে শোনা গেছে । তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হয়েছিল । কিন্তু সারা বিশ্ব তন্ন তন্ন করে খুঁজেও প্রমাণ পায়নি।’

প্রধানমন্ত্রী সবার উদ্দেশে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। সে মর্যাদা নিয়ে চলতে হবে। কেউ পাশে থাকলে কেউ পাশে থাকলে বাঁচব, না থাকলে মরে যাব, এটা ঠিক না।’

যুক্তরাষ্ট্র ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যাতে না হয় সেজন্য সব রকম চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি বলেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সবাই এক নয়। দেশটিতে বাংলাদেশের বন্ধু রয়েছে। সব সময়ই তাঁরা সহযোগিতা করে থাকেন।

বাংলাদেশ এখন পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে পুবের দেশগুলোর দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে কি না, এমন বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা পশ্চিমে সেজদা দিই। লন্ডনে গেলে উল্টোদিকে সেজদা দিই। পৃথিবী গোল ও ঘূর্ণমান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধুর কি অভাব আছে? আমি ভালো থাকলে বন্ধুর কোনো অভাব নেই।’

You Might Also Like