৭ হাজার কিলোমিটার হেঁটে প্রেমিকাকে …

তুমি চেয়ে আছো তাই, আমি পথে হেঁটে যাই। হেঁটে হেঁটে বহুদূর, বহুদূর যেতে চাই….’
দূর, বহু দূরে পথ চেয়ে আছে প্রেমিকা। আর তার জন্য সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসছে প্রেমিক। আমাকে বিয়ে করো (Marry Me)।

হ্যাঁ সম্প্রতি হেঁটে হেঁটে সাত হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে প্রেমিকার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন প্রেমিক ইয়াসুশি তাকাহাশি। আর তার গতিপথটাকে পাখির চোখে আকাশ থেকে দেখলে স্পস্ট ভেসে উঠবে মাটিতে লেখা Marry Me। এর পাশেই একটি তীরখঁচিত হার্টের চিহ্ন।

তিনি জাপানি আর্টিস্ট। নেশা ছিলো ভ্রমণ। পেশা শুকনো ধরনের কোনো কাজ। তাই নেশার খাতিরে হয়ে ২০০৮ সালেই ছেড়ে দিয়েছেন নিজের পেশাটাকে।

এর পর শুধু ভ্রমণ আর ভ্রমণ। ভ্রমণ করতে করতেই হঠাৎ তার মাথায় বুদ্ধিটা চেপে বসলো।

উদ্দেশ্য দুইটি। এক, গোটা জাপানটাকে ঘুরে দেখা। দুই, কষ্ট করে মিষ্ট মেলানো। অর্থাৎ প্রেমিকার জন্য শ্রম দিয়ে পৃথিবীর সবচে বড় বিয়ের প্রস্তাবের রেকর্ড গড়া।

এই দুই উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি রচনা করে ফেললেন ভ্রমণের মহাকাব্য। এর জন্য তাকে ব্যবহার করতে হয়েছে জিপিএস প্রযুক্তি। অর্থাৎ গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম। এই প্রযুক্তিটি সামরিক উদ্দেশে প্রথম আবিষ্কার করেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে কৃত্রিম উপগ্রহের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। পৃথিবীর যে কোনো স্থানে, যে কোনো আবহাওয়ায় এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে সময়, স্থানসহ প্রয়োজনীয় বেশ কিছু তথ্য জানা যায়। এবং এটি ভ্রমণের ইতিহাসও সংরক্ষণ করে রাখে। পরে জিপিএস পদ্ধতিটি ভ্রমণকারিদের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

এসব সুবিধার কারণেই বিয়ের প্রস্তাবের রেকর্ড গড়তে জিপিএস পদ্ধতির আশ্রয় নেন ৩১ বছর বয়সি ইয়াসুশি। এ প্রযুক্তি তার প্রতিটি পদক্ষেপকেই চিহ্নিত করে রেখেছে। তিনি জাপানোর হোকাইডো আইল্যান্ড থেকে কেউশু আইল্যান্ডের হাইদো কিফ পর্যন্ত সাত হাজার কিলোমিটার হেঁটেছেন। তবে এর মধ্যে প্রয়োজনীয় কিছু যায়গায় গাড়ি, ফেরি ও বাইসাইকেলও ব্যবহার করেছেন। পুরো যাত্রাটি শেষ করতে সময় লেগেছে ছয় মাস।

ভ্রমণের আগে মানচিত্র দেখে একটি যুতসই পরিকল্পনা সাজিয়ে নিয়েছিলেন। যেন ঠিকঠাকমতো একেবারে প্রেমিকার সামনে গিয়ে হাজির হতে পারেন এবং তার পায়ের চিহ্নরেখাগুলো দিয়ে যেন ‘মেরি মি’ শব্দটি লে
খা হয়ে যায়।

ইয়াসুশি বলেন, আমি পৃথিবীর সবচে বড় প্রস্তাব লিখতে চেয়েছিলাম বলেই জিপিএস ট্রেকার ব্যবহার করি।

ছয় মাসের ভ্রমণ নিয়ে একটি সাত মিনিটের ভিডিও চিত্রও তৈরি করেন তিনি। এতে রয়েছে সাতটি অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায়ে জাপানের বিভিন্ন যায়গায় ভ্রমণের বর্ণনা রয়েছে। সহজ, কঠিন সব পথ মাড়িয়ে হাঁটার চিত্রগুলো অল্পতেই তুলে ধরা হয়েছে। রয়েছে মাউন্ট ফুজিতে আরোহনের চিত্রও।

তার এই রেকর্ডটি এরি মধ্যে পৃথিবীর সবচে বড় বিয়ের প্রস্তাবের স্বীকৃতি পেয়েছে। তাছাড়া কর্মটিকে সবচে বড় জিপিএস ড্রয়িংয়ের স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস বুক অব রেকর্ড।

স্বীকৃতি, প্রশংসা অনেক কিছুই পেলেন তিনি। কিন্তু তার প্রেমিকার প্রতিক্রিয়া কি হলো সেটা এখনো জানা হয়নি।

এ বিষয়ে ভিডিওচিত্রের শেষের দিকে ইয়াসুশি নিজেই জানালেন, আমার ছয় মাসের সময়টা মোটেও অপচয় হয়নি। প্রস্তাব পৌঁছানোর সাথে সাথেই সে বললো ‘ইয়েস’। সূত্র: ডেইলি মেইল

You Might Also Like