উত্তর ও দক্ষিণ কোরীয় সুন্দরীদের অন্যরকম যুদ্ধ

রাজনীতির আগুনে পুড়লো দক্ষিণ কোরিয়ানদের হৃদয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ইনচনে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়া তাদের খ্যাতনামা চিয়ার লিডারদের পাঠানোর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় দক্ষিন কোরিয়ানদের হৃদয় ভেঙে গেছে।
যদিও উত্তরের কোনো বিষয় নিয়ে প্রশংসা করা দক্ষিণ কোরিয়ানদের জন্য আইনের লংঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারপরও তারা কার্পণ্য করে না উত্তর কোরিয়ার সুসজ্জিত, সুদর্শনা, সদা হাস্যোজ্জ্বল সুন্দরী সেনা দলের প্রশংসা করতে।
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বুশানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে উত্তর কোরিয়া প্রথম পাঠায় তাদের সুন্দরী সেনাদলকে।
তবে ইনচন গেমসের আয়োজকরা আশা করছেন, তাদের ২০৪ সদস্যের সুন্দরী স্বেচ্ছাসেবী মেয়ে চারশরও বেশি পদক বিতরনী অনুষ্ঠানকে আলোকিত করতে পারবে।
পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে এই সুন্দরী স্বেচ্ছাসেবী মেয়েরা স্বর্ণ, রৌপ্য এবং ব্রোঞ্জের পদক বহন করে থাকে।
পদক বিতরণী অনুষ্ঠানের মেয়েরা সবাই ইনচনের ইনহা টেকনিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতি একশ জন আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত করা হয় একজন মেয়েকে।
পদক বিতরনী অনুষ্ঠানে এই সুন্দরী মেয়েদের হ্যানবক নামে আলখাল্লা টাইপের ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান পোশাক এবং মাথায় শক্ত করে বাধা চুলের উপর তাজ পরিধান করতে হয়।
গড়ে ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট মেয়েদের এ অনুষ্ঠানের জন্য বাছাই করা হয়। বাছাই শেষে আট সপ্তাহের একটি কঠোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ দেহভঙ্গির জন্য তাদের মাথা উপর বই রেখে অথবা হাঁটুর মাঝে একটি ট্রের উপর পানির বোতল নিয়ে হাঁটার অনুশীলন করানো হয়।
ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতার পদক বিতরনী অনুষ্ঠানে পার্ক সিয়ঙ্গ-ইউন নামে পদক বিতরনী অনুষ্ঠানের এক মেয়ে এফপিকে বলেন, এটি একটি কঠিন অনুশীলন। তা সহ্য করাও ছিল কঠিন। কিন্তু আমি এটিকে হাসি মুখে বরণ করে নিয়েছি। কারণ আমি এখানে উত্তর কোরিয়ার চেয়ারলিডারদের সাথে প্রতিযোগিতা এবং দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চেয়েছি।
পার্ক আরো বলেন,‘আমি উত্তর কোরিয়ার চিয়ারলিডারদের সঙ্গে আমার দলের তুলনা করতে চাই না, যাদের নির্বাচিত করা হয় অনেক সুন্দরী মেয়েদের মধ্য থেকে। কিন্তু আমি মনে করি আমরাও দেখতে অনেক সুন্দরী।
উত্তর কোরিয়ার সুন্দরী আমিব্রা দক্ষিণ কোরিয়ায় এ পর্যন্ত তিনটি আর্ন্তজাতিক ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রতিবারই দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
২০ বছর বয়সী পার্ক জানান,একটি নিখুঁত পদক বিতরণী অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার জন্য তার সাথীরা কঠোর পরিশ্রম করেছে।
‘আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি ঘটনা এবং আমি জানি আমার মিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’, বলেন পার্ক।
রোববার রাতে ছেলেদের ৬২ কেজি ভারোত্তোলন প্রতিযোগতিায় রেকর্ড ভঙ্ঘকারী উত্তর কোরীয় ভারোত্তোলক কিম উন-গোখকে স্বর্ণ পদক বিতরনের সময় পার্ক ভারোত্তোলন ট্র্যাকে হাঁটার পূর্বে স্নায়বিক দুর্বলতায় ভোগেন।
এটা ছিল পার্কের সাথে কোনো উত্তর কোরিয়ানের প্রখম মুখোমুখি সাক্ষাত, কিন্তু বিশাল দর্শক ও উত্তর কোরিয়ার জাতীয় পতাকা উড়ানোরত অবস্থায় তাদের এক ডজন কর্মকর্তা এবং ক্রীড়াবিদের সামনে তিনি তার নিজেকে সামলে নিতে সক্ষম হন।
দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়েদের এ দলটিকে প্রশিক্ষণে সহায়তাকারী উড়োজাহাজের কেবিন সার্ভিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক লী ইয়ন-হী বলেন, ‘আমি নিশ্চিত তারা এটি  দেখে আনন্দ পাচ্ছে।
অধ্যাপক লী নিশ্চিত ছিলেন,তার শিষ্যরা দক্ষিণ কোরিয়ার মেয়েদের সৌন্দর্য বিশ্ববাসীর নিকট প্রদর্শনে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার চিয়ারলিডারদের তুলনায় আমাদের মেয়েদের রয়েছে একটি কোমল ও মার্জিত মনোভাব এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই তারা অনেক ভাল।
সূত্র: এএফপি।

You Might Also Like