টিআইবির প্রতিবেদন আ’লীগের দুর্নীতির প্রমাণ: ড.মঈন খান

আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কারণেই টিআইবির প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান অবনতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও তারা আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। টিআইবির প্রকাশিত রিপোর্টই তার প্রমাণ।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় পেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত ‘স্বাধীনতা ঘোষক শহীদ জিয়াউর রহমানই আমাদের অনুপেরণার উৎস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড.মঈন খান বলেছেন, টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে একটি বিশেষ শ্রেণীর জন্য বাংলাদেশের এই অবস্থা। টিআইবির প্রতিবেদনে মূলত সরকারের অবস্থাই প্রমাণ হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে বুঝতে হবে, দেশ স্বাধীনতার ৪৩ বছরে বাংলাদেশের অর্জন কতটুকু। অর্জিত হয়েছে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি। জনগণের কাছে এই অবৈধ সরকারের কোনো রকম জবাবদিহিতা না থাকায় দেশের সর্বত্র আজ লুটপাট চলছে। ব্যাংক-বীমাসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আজ ধংশ করে দিয়েছে।

‘গণতন্ত্র ছাড়াই দেশে উন্নায়ন করা হবে’ সরকারের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া উন্নায়ন হয় না। উন্নয়ন হয় ১২২ পরিবারের কিন্তু ১৬ কোটি মানুষের উন্নয়ন নয়।

মঈন খান বলেন, তারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে ফেনা তুলে অথচ মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্রকে হত্যা করে বাকশাল কায়েক করেছিল। বর্তমানেও দেশের গণতন্ত্রকে হত্যার মাধ্যমে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়। যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের তালিকায় নাম লেখান তারা কখনও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেন না।

তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে ইতিহাস যেভাবেই লিখুন না কেন, সত্য ইতিহাস একদিন জাতির সামনে প্রকাশিত হবেই। যেরকমভাবে এইচটি ইমাম বিগত ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনের কথা প্রকাশ করে দিয়েছেন। যে নির্বাচনে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় সেই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই এই সংসদ ও তার মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার ভূয়া।

মঈন খান বলেন, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পার হলেও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত বিজয় অর্জিত হয় নি। তাই আজকে মহান বিজয়ের মাসে আমাদেরকে নতুন করে শপথ নিতে হবে। এই গণতন্ত্র বিরোধী সরকারকে বিদায় করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার করতে হবে। নতুন করে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আবারও মুক্তিযুদ্ধ করে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, কল্যাণ পাটির্র চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবদিন ফারুক, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট ফজলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিউজ্জামান খোকন, মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

You Might Also Like