১০০ মানুষের মগজ চুরি!

পৃথিবীতে যেদিনে থেকে ব্যক্তিমালিকানার উদ্ভব সেদিন থেকেই চুরি শুরু। মানবসভ্যতার ইতিহাসে একটা সময় ছিল যখন চোরেরা খাবার বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য চুরি করতো। অন্য কিছু যে চুরি করা যায় তা তাদের মাথাতেই ছিল না। এরপর পৃথিবীতে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। চোর এখন আর খাদ্যদ্রব্য চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, অর্থ থেকে শুরু করে মানুষ পর্যন্ত চুরি হয়ে যাচ্ছে চোরের বদৌলতে। কিন্তু তাই বলে মানুষের মগজ চুরি! এটা কিভাবে সম্ভব। হ্যা পাঠক, অবাক এবং অসম্ভব এই কজাটি সম্ভব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে।

দেশটির টেক্সাস ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই ফর্মালিন দিয়ে অনেক মানুষের মগজ সংরক্ষন করে রেখেছিল। আর এই সংরক্ষিত মগজের মধ্যে একশ জনের মগজ রাতারাতি গায়েব হয়ে গেছে। আর চুরি যাওয়া এই মগজের মধ্যে যেমন অনেক জ্ঞানী মানুষের মগজ আছে তেমনি আছে অনেক কুখ্যাত মানুষের মগজ। যেমন ধরা যাক চার্লস হোয়াইটম্যান নামের এক কুখ্যাত মার্কিনীর মগজ। ১৯৬৬ সালে চার্লস ক্লক টাওয়ার থেকে স্নাইপার বন্দুক দিয়ে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬জন সদস্যকে হত্যা করেছিলেন। পরবর্তীতে চার্লস আত্মহত্যা করলে তার মগজ সংরক্ষণ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেনি যে কে বা কারা এই মগজগুলো চুরি করেছে। তবে চোরদের আঙ্গুলের ছাপ থেকে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ঘটনার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই কেউ জড়িত। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ববিষয়ক অধ্যাপক টিম শ্যালার্ট বলেন, ‘আমরা মনে করি কেউ এই মগজগুলো নিয়ে গেছে, কিন্তু আমরা ঠিক জানি না কেন তারা এই কাজটি করেছে।’

প্রায় ২৮ বছর আগে অস্টিন রাজ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই মগজগুলোর সুরক্ষার জন্য টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানাগারে মাত্র ১০০টি মগজ রাখার জায়গা থাকায় বাকী মগজগুলোকে বেজমেন্টে রাখা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত মগজগুলোর মধ্যে অপরাধীদের মগজের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে মানুষের মগজ সংরক্ষনের জন্য টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়েছিল, এই ঘটনা বিশ্বের জনগণ কেন সাধারণ মার্কিন জনগণও এতোদিন জানতো না। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় বেছে বেছে অপরাধীদের মগজগুলোকেই সংরক্ষন করেছে। অপরাধীদের বাইরে অনেক আত্মহত্যাকারীর মগজও সংরক্ষণে আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

You Might Also Like